Powered By Blogger

শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৩

কিশোর চোখের তাপ

গ্রামসীমান্তে শিবমন্দির।পাশে জোড়া বটগাছ।রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিন।
জলা ক্ষেত পার হতে হতে শোনা যায় প্রবাহিত স্বাভাবিক শব্দ।
সারাপথ নিবিড় তন্ময় এক,পথের কিনারে আলোকিত প্রুতিশ্রুতি।
বিপক্ষ বাতাসে পাখি উড়ছে দূরহ শিল্পকর্ম তার ডানায়।ফুলের জন্ম
কেমন রহস্যে ঘেরা।

আমি ফিরে যাবো
 নদীর স্রোতের মগ্নতায়।
অশ্রুত গান ও কবিতায়,ধূসর পাতা ও সবুজ প্রজাপতি----
কিশোর চোখের তাপে।

বিলীয়মান মাটি

দেবীকা,আমার পথ আমাকেই খুঁজে নিতে হবে
পথের খোড়লে সাপ-খোপ
ঝড়-বৃষ্টি-জল,নুনগলানো শরীর,---তাও মেনে নেবে
দীর্ঘতর বট,সমকালীন পাথর থেকে আরেক পাথরে
শ্যাওলা,জলজগুল্ম;   নেমে আসার মুহূর্তে
যক্ষ হয়ে দাঁড়ায় তালসুপারী,মহুয়ার ঝোপ
ছেড়ে আসা বন্দরে অবাধ ঢেঊ
বদর মাঝির সিন্নী

আমার বিলীয়মান মাটি ঘুমের ভেতর
আমাকেই টেনে নেয়

কবি ও নাবিক

মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কবি ও নাবিক
পরস্পরের নৈকট্যে সারাদিন।আবছায়া জাহাজ ভিড়ছে
কুয়াশামাখা বন্দরে।সময় ভাংছে নীরবতা।
কবিতার পান্ডুলিপি সাদা করে গেছে কবিতারা।

কবির জীবনে প্রেম এসেছিল।
একদিন চুপিচুপি প্রেমিকা অন্যের ঘরে।
নাবিক জানত তার দয়িতা অপেক্ষা করে আছে।
ফিরে দেখেঃশূণ্যতাময় প্রান্তর।

মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কবি ও নাবিক
পরস্পরের নৈকট্যে সারাদিন।

পোড়ামাংস ভোজের উৎসব

আমাদের এই জনপদে এখন উৎসব
ডাইনীর খুরের তলায় একে একে ভেঙ্গে পড়ছে পাথর,
জ্বলছে নরম ঘাস,তুলসীমঞ্চ,গোয়ালঘর
ফুলছড়ানো উঠোনে একটানা নিশিপক্ষ

শ্বেত মনোনিবেশে তাকিয়ে দেখ
দূরের গ্রামসীমায় অগ্নিকুন্ড ঘিরে প্রেত্মাত্মার নাচ
বাতাসে ভাসছে ঝলসানো মাংসের আঘ্রাণ

আজ,পোড়ামাংস ভোজের উৎসব

পূজো

দুপুরবেলায় মেঘ করেছিল
দিগন্তবিস্তৃত টানা মেঘ
আর,তক্ষুনি কবিতা লিখলাম,মন খারাপের
দেখি মন ভালো হয়ে গেছে

মনের আকাশজুড়ে আষাঢ়ের সূর্য

ভেবে দেখলাম,তোমার ফেরার কাল ঘনিয়ে এসেছে
সারাটা দুপুর অবিমিশ্র আনন্দে বিহ্বল
কত সাজসজ্জা পথে,রঙ্গিন বাগান
তালগাছে সম্পন্ন বাবুই---বাসা বাতাসে দুলছে
সুরভীফুল ফুটেছে,কাল আবার ফুটবে---
কর্ম্বিভোল মৌমাছি এসে জানিয়ে দিয়েছে

প্রতিমা নির্মাণ হয়ে গেছে
খড়ের ওপর কাদা
তার ওপর রঙ্গের সুনিপূণ শিল্পকর্ম

বেলফুল,বাতাসা প্রস্তুত
দেবী,আমাকে গ্রহণ করো

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

কবিতাময় জীবন

বিশুদ্ধ বসন্তে আমাদের দেখা হবে না,কখনো
সোনালী ডানার পাখিগুলো সব একে একে মরে যায়।
বিপন্ন চড়ুই;ইতস্তত ছড়ানো পালক
কোনো পথরেখা নেই---মধূবন,চম্পকনগরী।
দূরে অন্ধকার।নিবিড় অশথগাছ।উদ্ধত শাখার মৌন প্রতিবাদ
জোনাকীর লাল চোখে।প্রবাসী নৌকাগুলোতে খড় ভর্তি।
নদীর শীতল জলে পোড়ে শরীর,আত্মার মধ্যে সোনামুখী সূঁই।

ঝর্ণাপাথরের পথে যেতে যেতে দেখি ছায়ার ভেতর
আলো এবং বীজগণিতের সরলীকরণ সূত্র শুয়ে আছে।

আহা! জীবনটা কেন কবিতা হল না?

কাদের মোল্লার ফাঁসীর পর

এখনো হৃদয়ে ক্ষত,বুকের ভেতর তীক্ষ্ম যন্ত্রণাময় আগুন
বৃষ্টির শাসনে নত

কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসীকাঠে ঝুলে পড়েছিল বিস্রস্ত,বিবশ
রক্তলোলুপ হায়েনা আর বাগানের গোলাপ-বকুল-জুঁই
নির্বিরোধী বাতাসে নিমগ্ন হেসে উঠেছিল