Powered By Blogger

শনিবার, ৮ মার্চ, ২০১৪

রুপালী ইলিশ দ্যুতি

ঢেউ কেটে কাছিনৌকা চলে যায় নদীর ওপারে
শরীরে সজল আভা,আমাকে ডাকে নি
সাবেকী আহ্লাদে ভেঙে পড়ে বিকেলের আলো
সমকালের গহ্বরে মিশে গেল আরো এক ব্যর্থ দিন

পলকে পলকে অপমান,রীতিহীন খেলা,---
তোমার শরীর থেকে সব আদরের চিহ্ন ঝরে গেছে
ভাসিয়ে নিয়েছে ঢেউ মরা প্রতিভা,ভালোবাসার প্রতিশ্রুত ঋণ

সমর্পিত নদী,দুঃখের দক্ষিণ পাশে স্থির

স্থিরতর থেকে সন্ধ্যাজাল পথে হেঁটে গেছি
আমার দুঃখের পাশে ছিল রুপালী ইলিশ দ্যুতি

খড় ও পোড়ামাটির গন্ধ

আমি ফিরে এসেছি পথের ধারে শব্দগুলো মুছে
অংকশায়ী স্বরধ্বনি ফাঁদ পেতেছিল
মুখের উপরে ধারাস্নান---শূন্যে ভেঙে
নিয়তি,প্রতিবিম্বিত আলো,----
পাপে ভরা শরীর,আকাশে সূর্যপোড়া ছাই

তোমার অভিমানের প্রতিরুপে নিচু হয়ে বসেছিলাম,পায়ের কাছে
স্বপ্নালু এ কবি নগ্ন পায়ে ঠোঁটের আল্পনা এঁকে দিয়েছিল

খড় নির্মিত শরীরে কাদামাটি গেঁথে
কুশপুত্তলিকা থেকে
শিরা উপশিরা ধমনী ও অবশেষে মাংসে ঠাসা জলজ্যান্ত নারী

খড় ও পোড়ামাটির গন্ধ আজও শরীরে লেগে আছে

সমানুপাতিক ধ্রুবতারা

চতুর্দশীর একেলা অন্ধকার,বুকে শ্যামল বিনয়ভূমি
জলস্রোতে ভাসে বসন্তবয়স
আমি ধূলোপায়ে ফিরে এসেছি কালান্তরের রথ থেকে
স্মৃতিদীপ জ্বালো নি এখনো
ডাল সমেত সবুজ পাতা ভেঙে এনেছি,দু'হাতে কীট ও পতঙ্গ

সূর্য্যালোকে প্রীত পাখি ও গলিত মাছি আমাকে চিনেছে
গ্রহ-নক্ষত্রের অসীম প্রভাবে যারা নিজেকে দেবতা ভাবে
আমি জানি ধাতব তৈজষপত্র আর কবচকুন্ডলিত
শরীরে অগ্নির হাহাকার

মনোবাসীদল তোমরা জেনেছ পরিত্রাণ নেই নির্বোধ পোষাকে
হা-করা মুখের গ্রাসে উঠছে সিঁদুর,ছাই
চোখ ঢেকে আছে আধপোড়া কাঠের ধোঁয়ায়

যথার্থ বিদুষী নারী যে পথে ফিরেছি
ধ্রুবতারা ছিল সমানুপাতিক তবে

মোদক মাত্রার পরিমাপ না করেই ফেরার হয়েছিলাম

ভেষজ মানুষ

ছেনি-হাতুড়ীর শব্দে স্বপ্নের নির্মাণ শুরু হলে
আমাদের ভাঙাবাড়ি আর যে স্বপ্নের কথা সারা গ্রাম রটে গিয়েছিল
তার মাঝখানে প্রতিবেশীর দেয়াল
উঁচু হতে হতে আকাশের মাথা ছুঁয়েছিল

দিন ও রাতের সহচর ইঁদুরের চতুর দাঁতের ফাঁকে
কুট কুট শব্দে ভেঙে যাচ্ছিল ঘৃণার স্তুপ

স্বপ্ন ও ঘৃণার পাশাপাশি
বাস্তবতা খড়খড়ি তুলে দেখে নেয়

আপাত পার্থক্যঃছায়া এবং ভেষজ মানুষ

শূন্য

সাঁকোহীন নদীর দু'পারে ভৌগলিক সীমারেখার আলাদা উপাখ্যান,ভিন্ন ভিন্ন গল্প
এপারে জলকলহ,ওপারের বাসিন্দার শব্দ ও স্রোতের বিপরীতে শতছিদ্র জাল,
কাছিনৌকা,পালের বিস্তার,অক্ষরের ক্রম,তমসাগান ও ক্ষুধা নিবৃত্তি,প্রাচীন মিথে
দীর্ঘকায় পুরুষের অনায়াসলব্ধ জীবন,এপারে বারুদবাগান,ব্যক্তিগত প্রেত,
আরুঢ় প্রতীচী এবং গোয়েন্দার সার্বক্ষনিক নজরদারী,বিদ্যুতের তার,বেকারত্ব
মাঝে মাঝে অন্ধকারের ভেতর থেকে স্বপ্নচারিতার যে গান ঝলে ওঠে-মহাশূন্যে
মিলিয়ে যাবার আগে অফুরান এ পৃথিবী তার কিছু ছটা ধরে রাখে ফুল ভাঙা ডালে

ভয় অবিশ্বাস মনস্তাপ

শোকাতুর আচ্ছন্ন বিলাপে তোমাদের সুগত চোখের জল সোনা হয়ে ওঠে
মূর্খ অভিমানে হলুদ শরীর ফেটে পাথরপ্রকীর্ণ দুঃখ আর
ঝর্ণার সতেজ ঠোঁটে বোধনের ধ্বনি
একসঙ্গে কেঁপে ওঠে পূবমুখো পাহাড়ের সারি

বনবাসী বাতাস শুকনো পাতা উড়িয়ে শীতের রাতে স্থির ঘাসপাথরের বুকে
কিশোরবেলার একাকিনী রঙিন দীঘীর পদ্মপাতা
কোথায় পুরোনো দিন
শালপাতায় মোড়ানো সাঁওতাল রমণীর শরীরে জটাহুটের ভস্মলেখা
পাপ ছূঁয়ে যায় চরাচর

পূণর্বার ফিরে আসে ভয় অবিশ্বাস মনস্তাপ

বুধবার, ৫ মার্চ, ২০১৪

আদমের ভ্রুণ

দুপুরের প্রান্তদেশে আদুল শরীর ভেঙে ভেঙে পড়ছে ভ্রুকুটি,প্রতিবাদ

গতরাতে খুলে ফেলা যুবতীটির প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অরোরাবিভা
বিভ্রান্তিজনক ধাতু,নিঃশ্বাসে গৃহীত শুক্র

জৈবফুল উড়ছে বাতাসে
শান্ত গৃহসারি,পেছনে পুকুর,স্নান আর কলহাস্যে
ভরে আছে সমস্ত মুকুর

দু'হাতে সবুজ রেখা,শরীরের যত কাটাছেঁড়া নিয়ে
শুয়ে ছিল মাঠে,ক্ষেতের কিনারে
ঘাসের শিয়রে বৃষ্টিজলে মিশে গেছে ছায়াপথে
আদমের ভ্রুণ