Powered By Blogger

শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৩

কবিতার সরলতা

আশ্লেষময় এ পৃথিবীর সারল্যের  পাশাপাশি
কবিতার রুপালী শরীরে সামাজিক দুঃখবোধ  লেগে থাকে
কিছু কিছু ফুল ঝরে যায় পরিপক্ক হওয়ার আগে
অবিরাম বৃষ্টিপাতে ক্রমশঃ প্রকাশ হল---
অপমরণের আগে মানুষ নিশ্চয় জেনে যায় তার পূর্বজন্মের গোপণ ইতিহাস
এই যে কাঠুরে  এবং মালী---একজন ফুল ও ফলের গর্বোদ্ধত অধিকারী
আরেকজন শুধুই কাঠ পায়
কিংবা ধরো  শিকারী ও কৃষকের কথা

যে কৃষক বোঝে অগাধ মাটির কথা
নোনা শরীরের রক্তসেঁচে তুলে আনে
মুঠোভর্তি সাদা সাদা সোনা
রক্তস্নানে রক্তস্নানে সিক্ত শিকারী নিধনযজ্ঞের মহোৎসবে মাতে

আমি এসবের কিছুই বুঝি না
কবিতার সরলতা ছাড়া

জটিলতা

দিনরাতের এ পৃথিবীতে ঘুম আর বোঝাপড়ার ভেতর
আমাদের লৌকিক সামাজিকতা শেষ হয়ে এলো
এতোদিনে আমরা সবাই জেনে গেছি 'অর্কিড সহজ' ফুল
কিন্তু বাগানে,বাতাসে,ঘাসে তারও জটিলতার বাড় বাড়ন্ত শেকড়
শ্লেষাত্মক ভঙ্গিমায় ফুটে ওঠে শীতকালীন অবকাশের মধ্যে
কুয়াশামাখা সকালে দেখি একেকটা শিশির জড়ানো দূর্বাঘাস
অপূর্ব সম্ভাবনাকে দৃশয়কল্পে পরিণত করে
বুঝে নেই আমাদের ইন্দ্রিয়ের স্পর্শে রোদ আছে,বৃষ্টি আছে
পাশ কাটিয়ে যাবার কালে কেউ কাউকেই চিনি না অথচ
ধোঁয়াটে মেঘের মধ্য থেকে ছিঁড়ে আসা বিকেলের আলো
আবোদ্য ফাটলে শিরা-উপশিরা ব্যোপে বিন্যস্ত উৎসারণের মুখে

বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০১৩

জন্মগ্রন্থির টান

নিঃশেষে সিগারেটের পর সিগারেট জ্বলে
এ্যাশট্রে উপচে মেঝে-কার্পেটে-সিথানে
মারী ও মড়কে মৃত মাছের মতোন ভাসে
আকাঙ্খার অসহনীয় আক্ষেপ ঘিরে ফেলেলছে হৃদয়
তমসী রাতের ঘেরাটোপে বিষন্নতা বলিরেখা আঁকে দ্বিপ্রহর মুখ খুলে
কাউকে দেখাও যায় না তখন আর
কেউ বের হতেও পারে না

কতদিন হাঁটি নি  বিপুলা পৃথিবীর বুকে
কতদিন ছুঁয়ে  দেখি নি  নদীর জল
কতদিন শুনি নি সন্ধ্যার ইমনকল্যান
কতদিন প্রজাপতির ডানায় ভর দিয়ে উড়ে যাই নি কোথাও

অর্থহীন শব্দে ভরে আছে অর্ধেক আকাশ
আমি হাত নাড়ি আর উজ্জ্বলতর নক্ষত্রগুলো আরো দূরে সরে যায়
অথচ আলর স্ফুরণের মধ্য আমার আশ্রয় নেওয়ার কথা ছিল

পেছনে আশ্লেষ,ছায়া প্রশাখার জটিলতা
আমরা কি গৃহচ্যুত হব
গ্রহে গ্রহে যাযাবর যাপিত জীবন
জন্মগ্রন্থির বিষম টানে খোলা মাঠে পরে তাকব গাঁজলা ঠোটে,অচৈতন্য


বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

এই পরাভব আমি কোথায় রাখব

এই পরাভব আমি কোথায় রাখব

অধিকন্তু বর্ষা ঋতুতে আমরা ভেসে গেছিলাম
আলোর তরল জলে
জলীয় প্রণত পথে ছিল শিল্পের অন্বয়ে
প্রতীতি ও আত্মলীন প্রেম

নীল সন্ধ্যার সঙ্গীতে অজান্তেই ঝরে পড়েছিল
পাপ কলুষিত অবক্ষয় এবং
আমরা পৌঁছেছিলাম আতিথেয়তায় পরিপূর্ণ
ঋদ্ধ এক মালতীবিতানে

আষাঢ়ে মেঘের নীচে প্রবাহিত
ঢেউয়ের নীলাম্বরী উচ্ছ্বাসে উচ্ছ্বাসে আধোশ্বেত মাছ
বর্ষা মঙ্গলের সুর ঠেলে
নূতন যে নামে আমাকে ডেকেছো
তা ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্দিকে
পাখির অগণ্য পালকের মতো

এখনো অনেক দীপাঞ্চল নামকরণের বাকী আছে
ট্রেনের শীতল কামরায় সহযাত্রীর নামও
ব্যক্তিগত বসন্ত খাতায় লিখে রাখতে চেয়েছিলাম
সভ্যতা ও বন্যতার পাশাপাশি
মানুষের অলিখিত ইতিহাসের পাতায়
অন্ধ ভিখারীও চেয়ে বসে তার নামে
একটা রাস্তার নামকরণের যথার্থতা

আজো বহু পায়ে চলা মেঠোপথ নামহীন পড়ে আছে
আমি চাই সেগুলোর  নামকরণ আমাদেরই নামে করা হোক

প্রার্থনার জাগতিক নিয়মেই
অপ্রাপনীয়ের বিস্ময়তা আমাদের ছুঁয়ে গিয়েছিল
ঐকান্তিক উষ্ণতার সম-সাময়িকে
আমাদের বিষন্নতা বোধ আধো অন্ধকার আগুনে সন্ধ্যায়
মিশে গিয়েছিল জলের গভীরতম স্তরে
দ্বাদশীর পূর্ণচাঁদ শব্দ ও স্রোতের উর্ধ্বে
আমাদের নৌকাটিকে টেনে নিয়েছিল
প্রকৃত স্বপ্নের রুপে
স্তব্দতাকে ভালোবেসে
রঙিন বেলুন নিয়ে খেলছিলাম পরোপকারী জলে

আমাদের পরস্পরকে সতর্ক করেছিল কাঁশবন

গূঢ় রহস্য আবিষ্কারের জন্যে যখনই তোমাকে বেষ্টন করলাম
'আমার চোখের দিকে চেয়ে থাকো
পৃথিবীতে এর চেয়ে সত্য আর কিছু নেই।'
বলে আমাকে ফিরিয়ে দিলে জলের সজল উপকূলে

সোমবার, ২৭ মে, ২০১৩

অন্ধ ভিখারী

তপশিলি গ্রামের ওপর দিয়ে ধূলোওড়া এই পথ নৈশ শহরে মিশেছে।
অবিমৃশ্য শহরের পথে পথে স্থবির গাড়ীর সারি
ট্র্যাফিক ছুটছে উদভ্রান্ত।
যুবতীর রক্তিম নখরে সন্ধ্যা থমকে দাঁড়...
আর একে এক খুলে যায় সব বন্ধ পানশালার দরোজা
আধভাঙা আলোয় টুইস্ট টুইস্ট টুইস্ট বলে
ভরন্ত গ্লাসেরা পরস্পর সম্ভাষণে মেতে ওঠে।

টলোমলো পায়ে শূণ্য গ্লাস ফেলে উঠে আসে গোপণ প্রণয়
ক্রিসমাস ভীড়ে উদ্দাম হারিয়ে যায়।

পিচের পথের পাশে অন্ধ ভিখারী নবাগতকে ডেকে বলে,
'এসো,এ শহর আজ ঘুরিয়ে দেখাই।'

শনিবার, ২৫ মে, ২০১৩

জ্বরতপ্ত কবিতা

আমার অব্যক্ত বেদনারা যখন বর্ণালী গান হয়ে
চারদিক অন্ধকার করে
আকাশে নদীতে
গূঢ়তমা জোয়ারের জলে ভেসে যেতে যেতে
বালির পাহাড়ে ভেঙে পড়ে

শুধু অটুট দাঁড়িয়ে থাকে তুঙ্গ ঢেউ

একতারা হাতে শীর্ণ বাউল কখন এসেছিল এ উপত্যকায়
আমরা কেউ ই তার নাম মনে রাখি নি অথচ
তার বিলাপের সুর সৈকতের বিরুদ্ধ বাতাসে ভেসে আসে
সম্ভাবনাহীন স্বপ্নে
পতনের অপেক্ষায় শব্দভূক কবি
ভূর্জপত্রে লিখে গিয়েছিল গোলাপের উপাখ্যান

ঝরে যাবার সময় হলে গোলাপ যৌবনপ্রাপ্ত হয়ে ফোটে

পূরবীরাগ,ভৈরবী রাগে প্রেম আর বিরহের কষ্টে
আমি শুধু দেখে গেছি দয়িতার লাস্যময়ী মুখ
কখনো দেখিনি দু'স্তনের ভাঁজে লেগে আছে বিষদাঁত
উরুসন্ধির সুড়ঙ্গে কাঁকড়া বিছের আনাগোনা

জ্বরতপ্ত কবিতায় কবিতায় তবু ভালোবাসার শেকলহীন স্বাধীনতা


শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৩

মৌলিক বিষাদ

সমর্পণ নিয়ে যেদিন প্রথম এসেছিলে,---
আমি কেঁপে উঠেছিলাম;শোণিতে ছিল আবাল্য জলের টান।
রক্তমাখা চোলির টুকরো উড়ে গিয়েছিল বালিয়াড়িময় ফেনায় ফেনায়।
পুরুষস্পর্শের গ্রহণের জলে গোপণ প্রণালী বেয়ে
আত্মার সমগ্রে মিশেছিল কামনার ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ।

আমাদের মৈথনিক প্রেম শেষ হয়ে গেলে
সৈকতের অজস্র বাতাসে দুঃখময় পৃষ্ঠাগুলো
গান হয়ে আকাশে-নদীতে মিশে যেতে যেতে
কামনাদলিত তোমার হাতের স্পর্শে কিংশুক-কুঁড়ির মতো ফুটেছিল।
গূঢ়তমা জোয়ার ফিরিয়ে দিয়েছিল তন্তুসার স্বপ্নমালা,
মৌলিক বিষাদ ছিন্ন পাতার মতোন ভেসে এসেছিল ঢেউয়ে ঢেউয়ে।
আনন্দ তখন দিগন্তরেখার সীমানা ছাড়িয়ে
দূরতম প্রদেশে অনির্দেশিত পথে পথে ঘুরছিল।

আর ডাঙায় প্রগাঢ় অন্ধকার মুছে ফেলেছিল জোনাকীময় প্রান্তর।