Powered By Blogger

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৩

চিতার আগুন

অরক্তিম একটি সবুজ পাতা ঝরে গিয়েছিল।গভীরতম অন্ধকারের মধ্যে।
অলোর ভেতর তার বেদনা এখনো টের পাই।
ডানায় অসুখ ছিল।পাখিদের ঘরে ফেরার সময়
নিবিড় অশ্বথগাছ প্রশ্ন তোলে।
বিতত শাপলা,দিশাহারা সরোবর,--নিরাসক্ত চিতা জ্বলে ওঠে প্রত্যন্ত শ্মশ্মাণে।

শ্মশ্মাণ বন্ধুর ম্লান চোখে বিলাপের ছাপ।

হায় রে অকাল বিধবার সুমন্ত শরীর!

কতক্ষনে নিভে যাবে চিতার আগুন।

পোষ্টকোড

প্রণত বিশ্বাস আমাদের ঘিরে রেখেছিল।অরুন্তুদ ভাগ্য বিপর্য্যয়ে
যখন আমরা সর্বশান্ত হলাম;কেউই কারো দিকে তাকাই নি।
গন্ধবহ এলাচ অথবা লৌহমরিচার মতো জলের রঙ,আরো দূরে
লাল ইটের সমৃদ্ধ বাড়ি,নির্ভুল ঠিকানা।

কিন্তু,পোষ্টকোড জানা নাই।

সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৩

শুদ্ধ

আমাদের দেখা হয়েছিল পাহাড়ী শহরে।অপর্যাপ্ত দিন,শান্ত বিকেল,পাথুরে নদী,--
আমরা দেখেছিলাম অগুনতি মানুষের শোভাযাত্রা।দূরে অগ্নি ও সন্ধ্যার মেঘে
ঔপনিষদিক তপোবন।প্রাচী এবং প্রতীচীর দ্ব্যর্থক মিলনে শাপগ্রস্ত রাত।
চোখের সামনে থেকে সরে যায় আদিগন্ত চা বাগান।আমরা কি পূর্বাপর ফিরে যাব?

এতোদিনে নিশ্চয় জেনেছ আত্মনিষ্পেষণে সুখ নেই।এমন অঢেল দিন ছিল
যখন উপগ্রহবাহিত জল,দুঃখ,অনাসক্ত ধূলো ঘিরে রেখেছিল বিমূর্ত প্রকাশে।
গোধূলিবেলায় শাণিত বিষাদ,বাতাসে ভাসছে আমাদের প্রতিচ্ছায়া।দিগন্তের পারে
নিরভিমানী নৌকার ছবি।এতো দূরে এসে চলে যাবে বরঞ্চ পালটে দাও সূর্য্যনাম।
তোমার অমৃত চোখে সূর্য আঁকা।কি করে এড়াবে মধ্যদুপুরের তাত?জ্বলে গেছে সব,
যেটুকু জ্বলার ছিল।চরাচর জুড়ে লিলুয়া বাতাসে ছাই ওড়ে শুধু।

ঘরে ফিরে ছুঁয়ে নিও আগুন ও লোহা।

রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৩

নোনা

প্রসন্ন উঠোনে কস্তুরীমালার ফুল।মেঘের ভিয়ানে
সেঁকোবিষ হাতে সমূহ বৃষ্টির জলে নেমেছি। যে প্রেম
গ্রহণের যোগ্য সেটা বর্জন করেছি।পূর্ব সাগরের দিকে
ভেসে যেতে যেতে অর্পিত আকাশ,স্থির সূর্য,---
আমি এই লোকালয় ছেড়ে চলে যাব,স্পন্দিত অদেখা
অন্য কোন জনপদে।

বিস্তৃত দুপুরবেলা,পাহাড় ও অরণ্যের সমান্তরাল যে
স্বগত মন্ত্রোচ্চারণে উন্মুখর নারী তার নিজের ঘরকে
অস্বীকার করেছিল সচকিত প্রতিবাদে;সম্পন্ন জানালা বন্ধ রেখে,
শাশ্বত চিত্রের অবকাশে ভাস পাখি উড়ে গিয়েছিল।মনে হল,
সমস্ত পথের ছবি সামাজিক সহজতর স্রোতের দিকে।

পাপে মগ্ন শরীর।সমুদ্র তীর।দুর্গলিত পায়ে এসে চুমু খায়
লবণাক্ত জল।কি নির্মোহে ভেসে যাই কবিতার দিকে।

শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৩

প্রবহ শক্তি

ধূলোওড়া দুপুরের ঘনশ্বাস,বিষুব শূণ্যতা।খড়ের গাঁদায় শুতে দিয়েছ আমাকে?
ফলিত জ্যোতিষবিদ্যা শিখে নিয়েছ?ভূ-তত্ত্ব?জরীপের জটিল নিয়ম?বারান্দার কোণে
খ্রীষ্টগাছ।কোনো ফুল নেই।সমূহ আশায় জল ঢালি।যে বীজ অংকুর থেকে চারাগাছে
পরিণত হবে;আমি তাকে নিভৃত আশ্বাস দিই।বাণিজ্যবঞ্চিত আমাদের এ ভূমিতে
প্রত্যেকটি কবিতা লেখার আগে আমি জেনে নিইঃশব্দ এবং তার পরিভাষা।'পাপপূণ্য'
এইসব আপেক্ষিক শব্দাবলী প্রতিপন্ন।নদীর ওপারে কারা থাকে।সংকেতময় এ দেহ,-
মনে আছে আমার চোখের সান্দ্র ভাষা বুঝে নিয়েছিলে আষাঢ়ে মেঘের তলে প্রবহ শক্তিতে।

শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৩

আধিপত্য

বর্ষাফলকে গেঁথেছ মানুষের হাড়
ভাবানুষঙ্গে করোটি,কোটিকল্প চোখে লালসার ছায়া
প্রত্যেকটি ধর্ষণের আগে জেনে নাও
জলধারা,রক্তস্রোত

মাতৃগর্ভে অনিষিক্ত ভ্রুণ জেগে ওঠে
রক্তের কল্লোলে
আত্মরতিহীন মৃত মুখে অশ্রু্র নিগূঢ় সমারোহ
আসুরিক সভ্যতায় মানুষের আধিপত্য তবে কি পতনোন্মুখ

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৩

শব্দের বিনির্মাণ

কিশোরীর এক চোখে শান্ত ঋতু অন্য আর এক চোখে নক্ষত্রের ছায়া
সন্দেহতাড়িত দুপুরের পথ,অন্নপূর্ণা সাজ,-মুখোমুখী কতদিন বসিনি আমরা
ফুল আর শবাচ্ছাদনে জীবন্মৃতের জন্যে নানা আয়োজন
তারবার্তা,দলিল,শেয়ার,শষ্যবীজ,ক্ষেত্রজ জাহাজ
আজ যা কিছু আমার চারপাশে
ঘূর্ণিফল গাছ,শরৎকালীন রোদ্দুর,অগ্নিময় শোক,---
প্রকৃত স্বপ্নের রুপে ফিরে যায়
অন্ধকার সিঁড়ি ফুঁসে ওঠে

আমি তুলোট কাগজে লিখে যাই জীবনের গল্প
কিশোরীর সারল্য,শব্দের বিনির্মাণে প্রথম প্রণয়ে
নেমে আসে আনন্দের শ্বেতপুষ্পক বৃষ্টির ধারা