Powered By Blogger

শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৪

আশ্লেষ জীর্ণ পৃথিবী

বুকের উপান্ত থেকে বের করো অস্থিরতা
ঝেড়ে ফেলো অশরীরী মূর্খতা শরীর থেকে
অভিসারের মুহূর্তে জয়চিহ্ন আঁকা ঠোঁটে
আমার আশ্লেষ জীর্ণ পৃথিবীকে দ্বি-খন্ডিত করে নাও

কোরকে কোরকে ঢেকে গেছে সমস্ত সবুজ ঘাস,ফুল ও সকাল
প্রসারিত বুকের ভেতর তিমিরের ফেনা ভেঙে
বিচলিত বাঁকে চঞ্চল খেয়ার নৌকা

বিপরীত জলে নাড়া দিলে ভেসে ওঠে বুকের আকাশ
পানাপুকুর,হরিতকির মাঠ,প্রাকৃতিক মন

চোখের প্রপাতে ডুবে যায় পৃথিবীর কিনার অবধি

অকাতরে ভেসে গিয়েছি সহজতর স্রোতে
মৃত্যুর প্রসন্ন মুখে ডান হাত ছুঁয়ে

এ তো ঠিক জন্ম নয়--ভুলে গেছি শেষ কবে সঙ্গমের আনন্দে মেতেছিলাম
আবর্ত পথের চারিদিকে উঠে আসছে লবণজল
আজ ও অতীত ধূয়ে মিশে যাবে দক্ষিণ সমুদ্রে

বিচ্ছিন্ন অথচ দেখো মেঘভারে করোটি কেমন ভরে আছে
সপ্তর্ষিসীমার থেকে শব্দেরা তাকিয়ে আছে স্তব্ধতার মধ্যে
কত ভুল,কত অপমানের ক্ষতের দিকে
শষ্পমূলের আদরে আজ তুমি আমার আশ্লেষ জীর্ণ পৃথিবীকে দ্বি-খন্ডিত করো
 

চতুর্দশপদী-৮

যারা জীবন দেখেনি তারা বলে,'এ শুধু প্রতীক।'
চিতার আগুন পাশে ফেলে স্বচ্ছন্দে নেমেছি জলে,
দুই কূল ভেঙে ভেঙে---সহজ সাঁতারে,অবিরাম
দিনে সূর্যপোড়া ছাই ঢেকেছিল সমস্ত আকাশে
ছত্রিশ ব্যঞ্জন আর স্বরধ্বনি।নিমগ্ন আবেশে
তামসীক সত্য ভুলে কাঁপালো অপরিচিত গ্রাম।
করোটি কংকালকীর্ণ,জীর্ণ সাপের খোলস ফেলে
রৌদ্র প্রতিহত পথে--অগ্নিমাতালেরও অধিক

নদীর স্রোতের মুখে শোনো,কালো শক্তির জরায়ু
সালাংকরা এ শরীরে ঢেউ,স্খালিত ডিম্বানু ফেটে
শরীরে আগুন জ্বলে।যে অরণ্যপথে মাঝে মাঝে
ঝলসে উঠত আভা,তোমার পায়ের খাঁজে খাঁজে
সেই গন্ধ শুঁকে শুঁকে অবিরল যদি বন কেটে
ঘর ছেড়ে নেমে আসে---লেখো জ্বরা,মৃত্যু,প্রেম আয়ু।

প্রশ্নাতুর জীবন

সূর্যপোড়া ছাই এসে লাগে মুখে
আমি দশদিক চোখ মেলে দেখিঃ
আবৃত পরিধি,--
পাষাণ পাপড়ি ঢেকে আছে সমস্ত বলয়
অগ্নিজোড়া ছড়ানো চত্বরে পাথরের পায়রারা খুঁটে তোলে লৌহবীজ
কালো অপশক্তির জরায়ু,
চোঁয়ানো রক্তের নীচে চাঁপা পড়ে আছে নিরন্ন পুরুষ
রক্ত ঠেলে ঠেল উঠে দাঁড়াচ্ছে,---বাজনা বাজে
অন্ধকার খানার তলায়

রেল লাইনের ধারে কাটা পড়ে আছে দু'টি দেহ,নারী ও পুরুষ
তাদের দু'হাত বাঁধা জড়িসুতো দিয়ে
এসব শুকনো মরা ভালোবাসা জঙ্গলে জঙ্গলে পড়ে আছে স্তুপের মতোন

বহুজনমুখর প্রান্তর থেকে আমার করোটি ভরে আসে
ধর্মের ভেতর বেজে ওঠা ধ্বনিপ্রতিধ্বনি
হিন্দু,মুসলিম,জৈন,পারসিক,ইহুদি,খ্রীষ্টান অস্তিত্বশীল স্বরবিক্ষেপে
অন্তর্গত অন্ধকারের ভেতর পরিশ্রান্ত ভাষার অনির্বাচিত শ্লোকে

প্রাত্যহিক দিনযাপনে জীবন ভরে দিতে চেয়েছি অথচ
অস্বচ্ছ দিনান্তে মেঘ থেকে ছিন্ন বৃষ্টি এবং ঝড় মহাশ্বেত ঘোষণার মতো
নীলান্তের এই শহরে ;যেখানে ঘর নেই কিন্তু ঘরের নৈরাশ্য আছে
আবিলতায় আচ্ছন্ন কৃষ্ণ চোখে প্রশ্নাতুর করে তোল জীবনকে

বসন্তের গান

ঘৃত প্রদীপের আলো থেকে উঠে আসে
মসলিন স্বপ্ন।শিখরে পাষাণ নিয়ে জেগে আছে
শ্মশান বন্ধুরা সব।জ্বলন্ত ভস্মের সরা হাতে ফিরে যাবে।
আজ রাতের বৃষ্টিতে ডুবে যাবে অরণ্যের সব গাছ,নদী,জলাশয়।
ঘুমের ভেতর গত বর্ষায় যে সব মানুষেরা ভেসে গিয়েছিল দক্ষিণ সমুদ্রে,
হাঁটুজল ভেঙে সেই পথে এইবার বসন্ত আসবে,স্বচ্ছতায় নীল।
গত বর্ষাপথে যে গহ্বর রেখে গিয়েছিল-রক্তে তা ভরেছে,
পাথরের মুখচ্ছবি নেই কিন্তু নিঃস্বপ্ন প্রতিমা?
আজ দেখো,গেয়ে ওঠে বসন্তের গান।

বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৪

সমসত্ব তরল দ্রবণ

মগজের কোষে
মৃত জোনাক,তাতারপাখি
বাঁকা হাসি লেগে আছে ঠোঁটের কোণায়
জলকলহের চিতায় চোঁয়ানো রক্ত,জ্বলে কাঠ
শুয়ে আছ শব হয়ে;--বিভ্রমের ভেতর এখন যেতে চাও
নীল সরোবরে-ট্রেন ছেড়ে গেছে,পেছনে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ,কুন্ডলিত ধোঁয়া
আমাদের শান্তি নেই,নূতন কবিতা নেই,যৌন অতৃপ্তির বিছানায় রোজ শুনি
দাম্পত্য কলহ, মুখে স্তন চেঁপে ধরে একদিন সব দুধ টেনে নেব
কোনো কোনোদিন স্তবের মুহূর্ত ফেটে গেলে বেরে হয়ে আসে
মোহঋতু,লতার নিঃশ্বাসে শোনো নিঃস্বন রাতের
গহ্বর-ভেতরে ছদ্মঘুম ও কবর
সমসত্ব তরল দ্রবণে
কেমন মিশেছে

সৌরধূলো

বোন রে কোথায় তুই

তোর শরীরের ছাল খুবলে নিয়েছে জানোয়ার
তোর কুমারী স্তনের তাপে আগুন জ্বালিয়ে ওরা সারারাত মচ্ছবে নেচেছে
তোর রজঃস্রাব ওরা চেটে খেয়েছে ইন্দ্রের অমৃতের মতো

তারপর একে একে উঠে গেল সব পাহাড়ে ঝোলানো সরু সেতু দিয়ে
আর তুই অশুঁচি শরীর নিয়ে ডুবে গেলি যমুনার কালো জলে
জল তোকে নিল না,উগড়ে দিল বালুচরে
সাদা হাড়ের কংকাল ক্ষয়ে ক্ষয়ে অবশেষে সৌরধূলো হয়ে
আকাশের দিকে মিশে গেল

সেই থেকে
অরুন্ধতী নক্ষত্রের সাথে ভেসে ভেসে
পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে থাকিস

শরাহত পৃথিবী

দিনে দিনে বুকের ওপর জমিয়েছি পাথর,অস্তুতি ঘট
সেই বুক ভেঙে আকাশের দিকে উড়ে গেছে রাজহংসী
তার ছড়ানো পালক পড়ে আছে,শূণ্য ঘর
জল,মাটি,উঠোন অবধি,গণনাঅতীত

মতিচ্ছন্ন মুখ ফুটে আছে চালচিত্র ভেঙ তার চিহ্ন
মুছে যায় নি---আগুন
শরীরের ভাঁজে ভাঁজে
যমুনার জলপলাশের সব কোরকের সমর্পণ সমুদ্রের দিকে
রক্তে মিশে যায় নীল বিষ

একেকজন প্রেমিক এসে শুয়ে থাকে জলে,--
দ্বিতীয় মৃত্যুর পূর্বকাল পর্য্যন্ত,যখন
মাথার ভেতর কাঁশবন জেগে ওঠে,শরাহত
পৃথিবীর নষ্ট হবার সমস্ত পথ খোলা রেখে
পাপ পূণ্য রৌদ্র ছায়া অন্ধকার বাঁয়ে রেখে
অনন্তকাল হাঁটছে,প্রেমিকেরা
বুকে--ছেড়ে যাওয়া প্রেমিকা,সুখস্মৃতি