(শাকিলা তুবাকে)
চিকন,নিক্কর এক বাঁশীর সুরে খান খান হয়ে ভেঙ্গে পড়লো
মাঝ্রাতের সূচিভেদ্য অন্ধকার।ভীত-সন্ত্রস্ত নগরবাসীরা
জানালার শার্সি দিয়ে দেখতে পেলঃ রঙচঙা আলখাল্লা পড়া দীর্ঘ,
কৃষকায় একলোক বিশালাকার এক বাঁশী বাজিয়ে চলছে।
ত্রস্তা জননী সভয়ে ঘুমন্ত শিশুকে বুকে আকড়েঁ ধরে।
জমাট বাধা চাপ চাপ অন্ধকারের মধ্যে বহুতল একটি ভবন থেকে
ছিটকে বেড়িয়ে এলো মোটা চর্বিওয়ালা থলথলে নাদুস-নুদুস এক পৌঢ়
হাফাঁতে হাফাঁতে বংশীবাদককে অনুসরণ করতে লাগলো;য্যানো
বংশীবাদককে অনুসরণ করা ছাড়া জীবনের আর কোন সারসত্য নেই।
ফ্লোরসেন্টের ভূতুরে-আবছায়া আলোয় নগরবাসীরা দেখলো,'এ তো সেই
লোক, যে কি না '৭১ এর মানবতা বাদী অপরাধে অভিযুক্ত।
বংশীবাদক মুনী-ঋষির নির্লিপ্ততায় বাজিয়ে চলছে তার বাঁশী।
পথ চলতে থাকা বংশীবাদককে ড্রেসিং গাউনের ফিতা বাধতে বাধতে
আরেকটি বহুতল ভবন থেকে আরেককজন অনুসরণ করতে লাগলো
প্রথমজনের মতোনঃনাগরিকেরা একে সনাক্ত করলেন রাজনৈতিক এ নেতা
দূর্নীতির অভিযোগে সদ্য জামিনে মুক্ত।বংশীবাদক রাজপথে অবিরাম বাঁশী
বাজানোর সাথে এগুতে থাকে। বাঁশী বাজানো কিংবা অন্তহীন পথ চলাতে
তার কোন ক্লান্তি নেই।অপার্থিব এ বাঁশীর সুরে বদ্ধ ফটক খুলে একে একে
বেড়িয়ে আসতে থাকে অগুনিত মানুষ।কেউ আসছে স্ত্রীকে ঠেলে ফেলে,
কেউ আসছে বুকে ঘুমন্ত শিশুকে সরিয়ে রেখে,কেউ আসছে মধ্যরাতের
সঙ্গম অসমাপ্ত রেখে,কেউ আসছে পরকীয়া প্রেমের নিষিদ্ধ আনন্দকে পায়ে ঠেলে,
কেউ আসছে মদিরার বোতল সরিয়ে রেখে।
কয়েক'শ মানবতাবাদী অপরাধী নয়তো ক্ষমতাসীন কিংবা ক্ষমতাহীন অসৎ
রাজনীতিকের মিছিল নিয়ে বংশীবাদক নগরীর আরেকপ্রান্তের ভরাবর্ষা,
স্ফীত নদীর তীরে থেমে দাড়াঁয়,তার ঝোলা থেকে মোষের শিঙ্গের মতোন
বাঁকানো কুচকুচে কালো এক বাঁশী বের করে তাতে ফু দ্যায়ঃ মোলায়েম
আবেশী এক সুরের মূর্ছনায় ভরে যায় সারা প্রান্তর।বাঁশীর এ সুর কানে
যাওয়া মাত্র বংশীবাদককে অনুসরণ করে আসা জনতা হুড়োহুড়ি করে ভরা
নদীতে এ ওকে ঠেলে সরিয়ে ধাক্কিয়ে একে একে লাফিয়ে পড়তে লাগলো।
ঢেউ এর টানে তারা সরে যেতে লাগলো দূর থেকে দূরে।
(আমার কবিতা দীর্ঘশ্বাসে শাকিলার কমেন্টের জবাবে লিখেছিলাম....শুধু স্বপ্ন দেখে যাই একজন বংশীবাদকের,যে কি না তার বাঁশীর সুরে সমস্ত মৌলবাদী রাজাকার,অসৎ রাজনীতিককে টেনে অতল গহ্বরে ফেলে দেবে। আর এ থেকেই এ অকবিতাটি লেখার অপপ্রায়াস অর্থাৎ কবিতাটি লেখার পেছনে শাকিলা পরোক্ষে অনুপ্রেরণাদায়িনী। আমি সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মতোন বিশ্বাস করি,'দশটা কবিতা বা পদ্য লিখলে একটা কবিতা হবে,দশটা কবিতা লিখলে একটা ভালো কবিতা হবে,দশটা ভালো কবিতা লিখতে পারলে একটি স্মরণীয় কবিতা হবে,দশটি স্মরণীয় কবিতা লিখতে পারলে একট মহৎ কবিতা হবে অর্থাৎ চন্দন গাছের জন্যে বিশাল অরণ্য তৈরি করতে হবে অর্থাৎ লিখতে হবে।)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন