Powered By Blogger

মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৩

অডিসি

কোথায় ইথাকা?
কোথায় অডিসিউস?
অসম্পূর্ণ আয়োজন।ছায়া বিবর্জিত ট্রোজান,গোধূলি রঙে সজ্জিত ট্রয়নগরী।
স্বদেশ প্রত্যাবর্ত্নে পথভ্রষ্ট।টেলেগোনাসের তরবারী
রক্তে লাল।হায়!ইথাকা নগরী ভেসে যায়।

স্বপ্ন বিসর্জন

স্বপ্নের ভেতর এলোকেশী!

আমার অস্পষ্ট হাতে রুপোঝরা বলয়িত সূর্য
কাদামাখা পায়ের তলায় আঁকা বাঁকা নীলচে জলের স্রোত
একবীজপত্রী উদ্ভিদ,ক্ষেতজাঙাল----গোলাপের গন্ধ নিতে ইচ্ছে করে
তোমাদের ফুলের বাগানে বেড়া কই

আমাদের স্বপ্নেরা কখন মৃত হয়ে যায়
শীতল দৃষ্টির নির্নিমেষ কোন অনিবার্যতা সুস্পষ্ট
আনত জলের বিভাজনে আমি উঠে আসব অর্ধসম্পূর্ণ স্নান থেকে
আমাদের বিস্ময়গুলো যখন স্থির হয়ে যায়,---
হিজলের ছায়ায়,বিরহ সঙ্গীতের সুরে নৌকা ভাসাব;সমূহ স্বপ্ন বিসর্জনে

শনিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৩

খেলার পুতুল

সুগত দু'চোখে নিমগ্নতা।সমন্বয়ী ব্রতে অরব আনন্দ।কোথা থেকে আসে এতো আলো?

অন্ধকার ঘরের ভেতর আলোকিত জানালা।গোলাপভরা ফুলদানী।দুঃখময় সুরে
অভিন্ন ভালোবাসার প্রুতিশ্রুত ঋণ---ভুলে যাবে।আমাদের বিচিত্রিত কররেখা,
মুখের শীতল রেখা,পরিপাটি স্বপ্ন---ঝোড়ো বাতাসের স্মৃতি উন্মাদনায় আহত
আমাদের অশান্ত সংসার ছুঁয়ে যায় প্রথম বৃষ্টির জল,ভাঙা-চোরা সম্পর্কের সাঁকো।
ঐকান্তিক শরীরের প্রেমে দ্বিধার দেয়াল,অশ্লেষা সন্ধ্যায় আকাশের মুখোমুখি
যে বিশাল চন্দ্রাতপ বানিয়েছি;তা আজ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।শনির দিকে উড়ে গেছে
স্বস্তিময় সুখ।অলৌকিক অন্ধকারে এতো আয়োজন?আমাদের মাঝখানে দাঁড়িয়েছে
উদাসীন অক্ষমালা।পারস্পর্য্যহীন নদীর দু'পাড়।আমার অন্তিম অশ্রুপাত
ঝরে পড়ে অগস্ত্যের পথে।আততায়ীর উল্লাসে টাঙিহীন জেগে দেখিঃমাঙ্গলিক সূত্রে
ছেয়ে আছে চরাঞ্চল।দখলের মহোৎসবে কাটা পড়ে গেছে শরবন।

বাস্তবতার পরাজয়ের রীতি,প্রতিচ্ছায়া ভেঙে ভেঙে খেলার পুতুল হব?

শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০১৩

প্রতিষ্ঠ প্রেম

উন্মীলিতা রাত,অনিঃশেষ ভালোবাসা,আধখোলা বুক,----
কূটিলতার পৃথিবী অবহিত আমার সামনে।পপি গাছের অশুভ ফুলে
ছেয়ে আছে আদিগন্ত ক্ষেত।অসহনীয় সৌন্দর্য্যে।পাতায় পাতায়
সর্বনাশের উচ্ছ্বাস।
অমিত বিশ্বাসে রৌদ্র নেমেছিল।'বিকেলে আবার দেখা হবে'
বলে যে বালিকা নদীর ওপা্রে চলে গিয়েছিল শুভ্র সমারোহে
তার জটিল পায়ের ছাপ আজো ঢেকে যায় নি,বালিতে।

আদিম রক্তগোলাপ অবিরোধী ঘনতায় বিস্তৃত,অনন্য জাগরণে
দিগন্ত প্লাবিত প্রত্যাশার প্রুতিশ্রুত সোপান,প্রতিষ্ঠ প্রেম।

অভিযোজন

মৃত্যুর অন্তর্মুখীনতার মধ্যে সর্ষে ফুলের এ মাঠ
একদিন মুছে যাবে আমাদের বিস্মৃত স্মৃতিতে
পরিপক্ক ডুমুর গাছের পাতা এবং ফল
ঝরে যায়,ঝরে যায়----সবকিছুই অনুচ্চারিত

একই রকম গ্রীষ্মকাল
স্বরলুপ্তির ঘোষণা,----সম্ভবতঃ আমরা এগিয়ে যাচ্ছি
সার্বজনীন ভাষার ব্যকরণে 
নিরাসক্ত,ছায়ালীন,স্বাভাবিক স্থিতি

সহজাত অভিযোজ্যতায় অযোগ্যতা কিংবা প্রত্যাশার প্লাবিত মন্দিরে
দেখেছি পুরোহিতের তীক্ষ্ম তিরস্কারে আর্ত অন্ধকার

বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

বিষাদের চান্দ্রগীতি



জলস্রোতে খুঁজে নেবে গোত্র পরিচয়?
উপদ্রবহীন জামরুল বাগানের গোপণ প্রণয়ে মেরুদূরাতীত?
ভূতবিদ্যা ও জ্যোতিষশাস্ত্র থেকে যে জ্ঞান জেগেছে
অমীমাংসীত আধূনিকতা কবিতার আঁচল জড়িয়ে
উত্তর রৈখিক খাটে শুয়ে আছে দ্বিধাহীন মশার জ্বালায়।

নিরন্তর প্রস্তুতি---তাপিত ঘোষণায় নিদ্রাবিষ্ট।
কেন্দ্রাভিমূখী ক্ষমতা,স্মৃতিহীন প্রতিটি বস্তুর অবস্থিতি,
সংস্কারবিহীন নির্ভরতা---অনতিক্রমণীয়, অনুবর্তিত নদী,
সামাজিক মুদ্রাদোষহীন পাপ দুচোখে---শাসিত সমর্পণে
বেজে উঠেছে সাফল্য,প্রতিশ্রুতিময়।

নান্দনিক কবিতার ক্ষেতে বুনে দিয়েছি যে সব সুমন্ত গানের কলি,---
ঝরেছিল কন্ঠ থেকে।
প্রতিদিনের পূরণো সুর বেজে ওঠে সন্ধ্যেবেলা,
তমাল বনের অন্ধকারে কোন অন্ধ প্রেমিক গাইছে
বিষাদের চান্দ্রগীতি।

পরিণতিহীন শিমুল তুলো

পরিণতিহীন শিমুল তুলোর বীজ বাতাসে উড়ছে।
তুমি কোনদিকের জানালা খুলে রেখেছো?পূবের?
পশ্চিমের জানালায় আমাদের নাম লেখা ছিল।
ঝোড়ো বাতাসে তা নিশ্চয়ই মুছে গেছে
অনেকান্ত জীবনের জাহাজের যাত্রী তালিকায় কিংবা
হোটেলের অভ্যাগত তালিকায় আজ আর কোন নাম নেই।

সে দিনগুলোর কথা মনে পড়ে,
যখন নরম চাহনীতে জলদ মেঘের দিকে তাকিয়ে ছিলাম
গোটা পৃথিবী বৃষ্টির জন্যে অপেক্ষায় ছিল।
বৃষ্টির শীতল ধারা পৃথিবীকে শান্ত করে রেখেছিল
আর তোমার শরীর ধীরে ধীরে সমুদ্রের উষ্ণতায় উঠে যেত।