Powered By Blogger

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৩

কাটাগুল্মময় পথ

তোমাদের সামাজিকতা লৌকিক।মাটির আড়ালে
স্ফীত মাটির স্বচ্ছাতা কেঁপে যায়।তোমাদের শুভ্র ব্যবহারে
স্বভাবী মানুষ ক্রুর  অন্ধকারের ভেতর প্রস্তাবিত দাবী ভুলে
পথিকজটিল পথে ফিরে আসে।উচ্চারণ অসাধ্য,সহজ কিন্তু
বিভৎস চিৎকারে আমাদের পরিচিত শব্দগুলো
একেকটি রুদ্ধ স্রোত।অবসাদ দিয়েছিলে,
স্পষ্ট মনে পড়ে শুধু মনে পড়ে না কখন
চৈত্রদুপুরের পথ পার হয়ে গিয়েছিলে

ফিরে আসবে,সে পথ
মরুভূমিবোধে কাটাগুল্মময় পথ

ঈগল

ঈগলেরা আকাশে উড়ছে
তাদের ডানায় সময়ের অন্ধকার

চারিদিকে শুধু ঈগলের নখের প্রতিবিম্বিত আলো

গ্যাস আর ধোঁয়াশার ভেতর পৃথিবী----
কতটুকু দেবে তার সীমাবদ্ধ  ক্ষমতার মধ্যে
গ্রহবাসীদের মধ্যে যারা তেজস্ক্রিয়ায় জ্বলে নি
তারা দেখুক গভীর খাদে কে কে জেগে আছে
বাগানের শান্ত অর্কিড---সে ও তো কাটাগুল্মে    আচ্ছাদিত

নিজেই নিজের মাথা ছিঁড়ে পোষা কবুতরগুলো
ভোগ দেয়
ওই দূরে ঈগল উড়ছে

মানুষের ভালোবাসা

মানুষের কাছেই পেয়েছি অবহেলা
মানুষের কাছেই পেয়েছি পারিজাত প্রেম
সমস্ত শরীরে ধূলো লেগেছিল বলে---
পথের ধারের ন্যাংটা পাগলী আমাকে বুকে তুলে নিয়েছিল
সারাদিন অভূক্ত ছিলাম দেখে রোঁয়াওঠা পাড়ার কুকুর
ভাগাড়ে না গিয়ে দুপুরটা গাছতলায় নিশ্চুপ বসেছিল
পায়ে জুতো নেই বলে লাবণী আমাকে পাথরের পথে হাঁটতে বারণ করেছিল

এত বেশী ভালোবাসা ছেড়ে আমার কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না


বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৩

দেউলিয়া

রোদে  শুকায় ভিটের মাটি
পোড়া এ দেহের সাথে---

প্রলাপমগ্ন অমূল্য কাল কেটে গিয়েছে---এখন রাত
তবে কি জোছনা শুষে নেবে ক্ষত
আমার কখনো দেনা ছিল না অথচ
স্বতঃস্ফুর্ত সকালের আলোয় কখন দেউলিয়া ঘোষিত হলাম

আমার নিজের দ্যুতিময় আয়না নিঃসীম শীতে
আগুনের ভেতর কুয়াশা ভেঙে
অন্তরাল থেকে বের হয়ে আসে অবলুপ্ত নারী
ভূক্তাবশেষ শরীরে প্রতি জন্মের স্মারক---
ভাঙা গর্ভ থেকে টেনে আনে জটাফুল,
'এই যে এসেছি ফিরে,মানুষের চাহিদার চোখ নিভে গেলে
ভ্রুণহত্যার যে পাপ শরীরে মেখেছ
অনুতাপে জ্বলতে জ্বলতে জঞ্জালের মতো মিশে যাবে'

অসমাপ্ত ফল হাতে বলে
প্রুতিশ্রুত  বাতাসে সন্দেহ তবু সন্ধিগ্ধ দু'চোখ
খুঁজে নেয় পথ

অনাদিকাল থেকেই মানুষ নিজের পথ নিজেই খুঁজেছে

কল্পনাগুলো কখন মরে গিয়েছে---শুনিনি
বিসর্পিল পথে ফিসফাস,শকটের দাগ মুছে গেছে
শান্ত অবহেলা পাকা পাতাগুলো জড় করে

এই পাতার আগুনে শীত যাবে

হিংসাপূর্ণ রেশম

অবিনাশী স্থাপত্যে ভাঙচুর,
মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে যারা মদ জমিয়ে রেখেছ আর 
আর আমরা জেনেছি আমাদের ফিরে আসা নির্ধারিত
অনির্বাণ অগ্নিতে সহস্র পাতা পোড়ার ধোঁয়ায়
অপরিণত শীতের পাখিগুলো ডাহুকবিলের শুকনো চড়ায়
অপলাপী ভাষার স্তব্ধতা থেকে কোলাহলে উড়ে যায়

আহত ডানায় মুখ গুঁজে বসে থাকি ধবল রোদের প্রতীক্ষায়
উড়ে যাব; সাধ ছিল বলে আজ শব্দচাষী
রুঢ় অনুশাষণের চিহ্ন সমস্ত শরীরে
তবু দেখো জটাফুল;যা প্রত্যক্ষ----
জামাইপোকা কামড়ে ধরে

বৃষ্টি শেষে মেঘের ফোকর গলে যে নীলাভ আলো পরিদৃশ্যমান
তাতে কোন ফাঁক নেই---কখনো ছিল না
হাড়-কংকাল সমেত আমি বলে যেতে চাই

'আমি তোমাদের ভাষা কখনো বুঝি নি
তোমাদের ভরা মদের কলস আমি কখনো ছুঁইনি'

হিংসাপূর্ণ রেশম তোমাদের ভালোই মানায়


প্রত্যাশা

পরের বর্ষায় আমি জাল পেতে ধরব খলসে,পুঁটি
আমি সে জাল বুনছি---তাই দেখে
অভিমানী সুঁচ
ফুটো করে গর্ভবতী বধূর আঙ্গুল।

রক্তে মাখামাখি বিছানা---নবজাতক
কোন রাশির?ঠিকুজি,কুষ্ঠি ঠিক করে নাও।

দেখো,এ ছেলে নিশ্চয় একদিন বড় হবে।

শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৩

কাব্য সমগ্র

আমার কাব্যসমগ্র দিয়ে দিতে পারি

অন্ধকার থেকে অপমান
জল থেকে ডাঙায় উঠছে অন্ধ প্রতিযোগী
অথচ মানবী একদিন বুকের আঁচল ফেলে উঠে এসেছিল

বালির ওপর বসে লিখছিলাম কবিতা

কাচে বানানো দু'চোখ,জল নেই
রাত্রিবেলা ছাদ ও পাঁচিলে ধ্বসে পড়ার সুযোগে
মাথা তোলে চাঁদ

মরা নদী জোছনায় ভেসে যায়
তাকে পারাপার করে লিকলিকে সাপ

কি হবে কাব্য সমগ্রে