Powered By Blogger

শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৪

মহাজাগতিক লাটিম

গৈরিক সন্ন্যাসে দুপুরের প্রতিহত পথে কেঁপে ওঠে শালের মামল্ল পাতা
আদিবাসী যুবতীর শরীরে অঘ্রাণ,বৃষ্টিহীন দুই হাত
উঠে যেতে চায় বুকে।দেখেছি বনের পাশে
পাথর ও শ্যাওলার অন্ধকারে এক ধ্বংসস্তুপ।

অতর্কিত অন্ধকারে জ্বলে নিষ্প্রাণ আঙুল,ঝর্ণা
ধ্বংসস্তুপের ভেতর নামে চাঁদ,গ্রীষ্মের জলপতঙ্গ--ভেসে যেতে শূণ্যের ভেতর
বায়ূযান,মন্দিরের ছড়ানো চত্বরে শুয়ে আছে কাপালিক
গায়ে বাঘছাল,ইতস্তত ছড়ানো নরমুন্ডের মালা।

যেদিন ভাষার জন্ম হল--সেদিন থেকেই
আপ্লুত আহ্লাদে হাত বাড়িয়ে বলছেঃএসো
অর্থাৎ আলো ও অন্ধকার পৃথক হয়েছে
অনুচ্চার অভিযোগে স্থির মাকড়সাজাল,ঝুল,কড়ি-বরগা,মরচে ধরা লোহা
সংসারের কোণে,দেয়ালে,উঠোনে রুদ্রজটাজাল,পোকামাকড়ের গ্রন্থি
পথের ফাটলে ব্যক্তি-শ্বাপদের শ্বাস---কান পেতে শুনছে কুকুর।

দূরে,নদীতীরে বটের শেকরে জলস্পর্শ
মাটির গভীরে শোনা যায় মহাজাগতিক লাটিমের ঘূর্ণি
পৃথিবী ঘোরার শব্দ,কক্ষপথব্যাপী...

বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৪

যুদ্ধের কবিতা

উদ্বেগ ও ভয়াবহতার স্বপ্নের ভেতর কাল অগভীর ঘুমে কেটে গেছে রাত।
ভরা জ্যোৎস্না ছিল।ছিল কুকুরের করূণ বিলাপ।
খাপ খোলা তলোয়ার হাতে সৈন্যেরা নেমেছে স্বপ্নে।
কিছুটা রহস্যে তারা খুঁড়েছে মগজ
।'এর মগজে কবিতা','এটা ফেলে দাও','কি হয় কবিতা লিখে?
'বলাবলি করতে করতে এরা অযথাই যুদ্ধ করছিল নিজেদের সাথে।

সন্ত্রাস ও সিকি-আধুলির শব্দে তোমাকে শোনাব আজ যুদ্ধের কবিতা।

অনতিক্রমণীয় ভবিষ্যৎ

জল থেকে পৃথক---যথার্থ এবং অনিবার্য প্লাবনসীমার মুখোমুখি
পশুহত্যার সন্ধ্যায় শালকীর ঘোলাজল উঠে আসে উঠোনে,দেয়ালে
আকাঙ্খার ভেতর ডুবন্ত মানুষের নিঃশ্বাসে বুদবুদেরা নক্ষত্রের মতো জেগে ওঠে
বর্গক্ষেত্রের চারটি বাহু যথা;আমি।পূর্ব।হৃদয় এবং পশ্চিম
পালানোর সব পথ একে একে বন্ধ হয়ে গেছে
বরঞ্চ কাঁটাতারের বেড়া কেটে নাও

কৈবল্য মানি নি অথচ ভবিষ্যতের সংলাপের রাশি,পূরাণো কবরখানা---
যাদের জীবন ভেঙে গেছে,মানুষ সম্পর্কে ভাবিঃ
সংকুচিত কর্ম,ঘুম ও বিচরণের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ আবাস
পাকা ডালিমের মতো ফেটে নগ্নতা বেরিয়ে আসে
অনতিক্রমণীয় একটা ভবিষ্যৎ ঘনিয়ে তুলছে প্রলম্বিত অনির্ভর
প্রশ্নাতীত নিঃসংশয়ে বর্তমান এবং বাতাসের অন্তর্বর্তী নীরবতায় নিমগ্ন
মরণশীলতা নয় মৃত
আমার পবিত্র প্রার্থনার ধ্বনি জীবিতদের জীবনে এবং মৃতদের মৃততেও সম্ভবতঃ

বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৪

ভ্রষ্ট

অপলাপী ভাষার কবিতা,তারবার্তা;যা ভাঙবার নয়,---
তাও ভেঙেছিলাম পৌষের শীতে।সুযোগ সন্ধানী কিছু ফুল
ঝরে পড়ে চৈত্রের দুপুরে।যে সরলতা জীবনের কাছে প্রাপ্যনীয়--
ঝরে পড়ছে অবলীলায়।আমাদের পশুআত্মা উঠে এসেছে সমুদ্রস্নান শেষে
তার গল্প বাঁশবনে,হলুদ পাতায়।
খসে পড়ে বুকের ওড়না।উড়ে যায় ছেঁড়াখোড়া পাল।

প্রতিমুহূর্ত পরিবর্তিত। শহরের নূতন রাস্তার মোড়ে
মাদারী বসেছে।তার ঝাঁপিতে নানান বুজুরকি।
তাকে ঘিরে আছে উৎসুক বালক এবং বাজার ফেরত লোক।

বস্তুজগতের টুকরো,বিচূর্ণ রৌদ্ররশ্মিকণা,বৃষ্টিমুখর বালকবেলা
বিশুষ্ক ফলের মতো আমাকে ভাসিয়ে নেয় দূর কোন শূণ্যে।
আফ্রোদিসিয়াক নেশায় আচ্ছন্ন ভাবি উত্থানপতনে আমি এক ভ্রষ্ট রাজা।
রঙমহল,বাঈজী,সাকী---চারিদিকে সুরের মুর্ছনা
একেকটি সুরের জন্মরহস্য নির্জীব রেণুর পুঞ্জে কিংবা ফুলের কোরকে।
কাল-মহাকালের আবহমানতার গোপণ গহ্বরে।

অথচ আজও কেন সুর হলাম না
কেন গান হলাম না?

বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

গুল্মলতা

সব শেষে পড়ে থাকে অন্ধকার
অন্তহীণ থেকে অতলান্তিক অথচ ভূলুন্ঠিত
জলের ভাবানুষঙ্গ থেকে জলস্রোত---পেছন পেছন উড়ে আসছে চিতার কালচে কাঠ
চিতা জ্বলছে নদীর ধারে---অবতারণের ঘড়ি বন্ধ;
চাবি দেয়া হয় না ক'দিন

মেরুদূরাতীত রোহিণী নক্ষত্র থেকে আলো ঠিকরে পড়ছে ম্লান শরীরে,দেখেছি
সম্পূর্ণ হেমন্তকাল---পাতা ঝরে যায়
পাতারা অম্লান ঝরে যায়
লাল ইটের দালানে দু'টি বিপন্ন চড়ুই
ফাটলে অশ্বথ গাছ---প্রুতিশ্রুতিহীন
কর্তব্যহীন প্রাপ্তির মধ্যে অনিশ্চয় ধাবমান ক্ষুধার্ত মানুষ
হেঁটে আসছে অব্যবহৃত পথ ধরে;যেখানে জন্মেছে  গুল্মলতা

বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

রৌদ্র ও আলোছায়ার গল্প

অনেক দ্বিধার পথ,বিবেচনার মহাসড়কে থিকথিকে কাদা
যখন ফিরেছিলাম---একে একে সরে যাচ্ছিল রং দেয়া বানানো পুতুলগুলো
মুখোমুখি আমাদের বসে থাকা---সামান্য একটু ছোঁয়া
গ্রীষ্মাবকাশের তাঁবু হেলে আছে
ধড়হীন ঝাউগাছে কাঁচির আঘাত---নাশকতা প্রকৃতির মুখে

আজ রৌদ্র-মেঘ-বৃষ্টি নেই
মাঠে ফাঁদ পাতা রয়েছে,শিকারী দূরে
তাজমহলের ছাদে শকুন বসেছে
আমি তার উড়ে যাবার প্রতীক্ষা করি

আমাদের বয়স এখন কত
গ্রন্থকীটের মতোন মনোযোগী,অতিরিক্ত ভালোবাসা জন্মেছিল---
প্রিয় কবিতার বইয়ে উপচে গেছে সোফা-কার্পেট-আলমিরার তাক
উঠোনের ছড়ানো মাদুরে গোধূলির আলো

অপ্রাকৃত ভাষায় রৌদ্র ও আলোছায়ার গল্প আর কত

অবিন্যাস্ত মুখ

পাতার আড়াল থেকে একটানা ডেকে গিয়েছিলাম কুউই
রৌদ্রময় সমস্ত সকালবেলা উচ্চারণসাধ্য শব্দের ভেতরে ধ্বণিময়তার মগ্ন আলো
হলুদ নদীর আর্দ্র তীর,কাশবন---আমি দেখি খড়ভর্তি প্রবাসী নৌকার সারি
অলীক ঈশ্বর,স্থির আকাশ,সন্ত্রস্ত চিল ওড়ে
নির্জন প্রান্তরে অনিবার্য অন্ধকার

আমাদের সবভ উৎসবের ভেতরে অলৌকিক রাত্রি
যদি রাত্রি তার সমস্ত বিশ্রামকে মুছে আলো জ্বালে

তবে কোন অবিন্যাস্ত মুখ দেখা ফুটে ওঠে