Powered By Blogger

রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৪

দূরাগত

অশরীরী অন্ধকার,পেছনে পাতার শব্দ।
কথা ছিল গ্রামান্তরে যাব।শালকীর স্বচ্ছ জলে ছায়া পড়ে।
বৈঠাহীন নৌকা ভাসে।তীর ঘেঁষে খড়ভর্তি গরুগাড়ি।
কোথায় এসেছি?ধূলোওড়া শহরের থেকে দূরে,
চারিদিকে উঁচুনীচু সবুজের ঢল।একদিন প্রচন্ড ঘৃণায়
পরস্পরের শরীরে বেঁধে নিয়েছিলাম ইস্পাত।
আগুন জ্বালিয়ে একে একে খুলছি পোষাক,শরীরের।
শুকনো পাতারা উড়ে যায়।
আমাদের শরীর বিবশ।পড়ে থাক শালকীর বালিতীরে।

আমরা অনেক দূরে চলে গেছি একে অপরের থেকে।

পায়ের চিহ্ন

আমরা বুঝিনি ব্যক্তির আবর্তে ঘূর্ণিঘোর,সময়ের বিলাসীতা
ইস্পাত,অভ্রুর কুঁচি লেগে আছে দাঁতে
ছুঁয়ে দেখেছ সবুজ পাতা,গাছের বাকল কত ঘূণ ছড়িয়ে রেখেছে
মাটির শরীর আমাদের সহজতর স্রোতের উল্টোদিকে ছুটে চলে

আমাদের এই লোকালয়,মাঠ,সড়ক,খামার
এতকাল কেটে গেল,___
ভেঙে ফেলছে পূরাণো বাড়ী--তার দেয়ালে লবণক্ষত
সম্ভবতঃ আমরা পরার্থপর জল এবং পরাহত শতাব্দীর কাছে
বিনাশ চেয়েছিলাম।

যারা পাহাড়ে উঠেছে
যারা সমুদ্রচারী হয়েছে
যারা বন কেটে আবাস গড়েছে
তাদের পায়ের চিহ্ন কতকাল মনে রাখবে,মানুষ

সারিবদ্ধ কবিতা

অস্ফুট শব্দের বোধে,পাঠ-নিরন্তরে আমার কবিতা দেখেছিলে সাময়িকীর পাতায়,
নক্ষত্রের আলোর মতোন এত দুর্গলিত ক্ষত,জন্মবিজন তৃষ্ণামন্দির,পাশে নদ,__
উমাকীর্তিবাবুর চরণাশ্রিত গান-কোথায় হারিয়ে গেছে সান্ধ্যআসর,সাগরদীঘি
দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে কাঁচপুর ব্রীজ থেকে নেমে এসেছি,ক্ষেতজাঙাল ভালো লাগে, ভালো লাগে
পশুচারণের গীত,বৃষ্টিজলে ধোয়া বন আর রক্ত সমুদ্রের থেকে উঠে আসা মেঘ।
গ্রন্থ অবমাননার কালে শ্মশ্মাণে শুনেছি মৃত পুরুষের কোরাস সঙ্গীত।

ইন্দ্রিয়গোচর বস্তুব্যাপকতা থেকে দূরে এসেছি,পথের পাশে প্রতিপত্তিময় খড়,
পাতা-বাতাসতাড়িত ফলের বাগান।উঠোনপ্রান্তিক গ্রাম।দুপুরের হলুদ বেলায় ঝরে
কাঠচাঁপা ফুল।গ্রামসীমান্তে কবরস্থান,পরিত্যক্ত।পড়ে আছে অনুশোচক করোটি
এবং কংকালের স্তুপ।যখন জীবন ছিল ছুঁয়েও দেখেনি।ওখানেই থাকে,থেকে যেতে চায়--
স্থবির,নিঃসঙ্গ অভিলাষী স্বভাবী মানুষ ঘরে ফেরে।

আকাশে আলোর রেখা,অর্থের বিকৃতি একদিন ঐ বিশাল বটগাছ উপড়ে ফেলবে;
নীচে,দু'জনের নির্মিত বিকেলে 'ভালোবাসি'বলার আগেই মাঝখানে উড়ে এসেছিল
অন্য গ্রামের ধূলো ও তামাকের গুঁড়া।এলোমেলো আবেগী শৈথিল্যে অপলাপী ভাষার সঙ্গীত
আর বড় হওয়ার গান গাইতে গাইতে অবিশ্বাস করেছিলাম মানুষ এবং প্রেমে।

মহাবিষুবীয় রেখা,সহজ ভূগোল,লাল ইটের সমৃদ্ধ বাড়ী,নূতন সাহিত্যপত্র,
ভষ্মীভূত পার্ক,ভূর্জপত্রে মানুষের কাঁটা-ছেঁড়া ইতিহাস।পরিণতিহীন লক্ষ্যে ওড়ে
শিমুল তুলোর বীজ।ঔষধির ক্ষেত-সহস্র একর অনুর্বর ভূমি,গুল্মলতা ভরা।

বেদনা-আহত হাসি নিয়ে দেখি ঐ জানালা খোলা।গ্রাম্য গণিকার উঠোনে ভীড়,
সালিশ বসেছে।আত্মআবিষ্কারে মেতে উঠি--শব্দময় মূর্ছায়,পতনোন্মুখ।

ঝড় ও জলের আঁচে লেখা আমার কবিতাগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে।
তা আজও পড়া যায়।ইচ্ছে হলে,দেখো।



শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৪

মহাজাগতিক লাটিম

গৈরিক সন্ন্যাসে দুপুরের প্রতিহত পথে কেঁপে ওঠে শালের মামল্ল পাতা
আদিবাসী যুবতীর শরীরে অঘ্রাণ,বৃষ্টিহীন দুই হাত
উঠে যেতে চায় বুকে।দেখেছি বনের পাশে
পাথর ও শ্যাওলার অন্ধকারে এক ধ্বংসস্তুপ।

অতর্কিত অন্ধকারে জ্বলে নিষ্প্রাণ আঙুল,ঝর্ণা
ধ্বংসস্তুপের ভেতর নামে চাঁদ,গ্রীষ্মের জলপতঙ্গ--ভেসে যেতে শূণ্যের ভেতর
বায়ূযান,মন্দিরের ছড়ানো চত্বরে শুয়ে আছে কাপালিক
গায়ে বাঘছাল,ইতস্তত ছড়ানো নরমুন্ডের মালা।

যেদিন ভাষার জন্ম হল--সেদিন থেকেই
আপ্লুত আহ্লাদে হাত বাড়িয়ে বলছেঃএসো
অর্থাৎ আলো ও অন্ধকার পৃথক হয়েছে
অনুচ্চার অভিযোগে স্থির মাকড়সাজাল,ঝুল,কড়ি-বরগা,মরচে ধরা লোহা
সংসারের কোণে,দেয়ালে,উঠোনে রুদ্রজটাজাল,পোকামাকড়ের গ্রন্থি
পথের ফাটলে ব্যক্তি-শ্বাপদের শ্বাস---কান পেতে শুনছে কুকুর।

দূরে,নদীতীরে বটের শেকরে জলস্পর্শ
মাটির গভীরে শোনা যায় মহাজাগতিক লাটিমের ঘূর্ণি
পৃথিবী ঘোরার শব্দ,কক্ষপথব্যাপী...

বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৪

যুদ্ধের কবিতা

উদ্বেগ ও ভয়াবহতার স্বপ্নের ভেতর কাল অগভীর ঘুমে কেটে গেছে রাত।
ভরা জ্যোৎস্না ছিল।ছিল কুকুরের করূণ বিলাপ।
খাপ খোলা তলোয়ার হাতে সৈন্যেরা নেমেছে স্বপ্নে।
কিছুটা রহস্যে তারা খুঁড়েছে মগজ
।'এর মগজে কবিতা','এটা ফেলে দাও','কি হয় কবিতা লিখে?
'বলাবলি করতে করতে এরা অযথাই যুদ্ধ করছিল নিজেদের সাথে।

সন্ত্রাস ও সিকি-আধুলির শব্দে তোমাকে শোনাব আজ যুদ্ধের কবিতা।

অনতিক্রমণীয় ভবিষ্যৎ

জল থেকে পৃথক---যথার্থ এবং অনিবার্য প্লাবনসীমার মুখোমুখি
পশুহত্যার সন্ধ্যায় শালকীর ঘোলাজল উঠে আসে উঠোনে,দেয়ালে
আকাঙ্খার ভেতর ডুবন্ত মানুষের নিঃশ্বাসে বুদবুদেরা নক্ষত্রের মতো জেগে ওঠে
বর্গক্ষেত্রের চারটি বাহু যথা;আমি।পূর্ব।হৃদয় এবং পশ্চিম
পালানোর সব পথ একে একে বন্ধ হয়ে গেছে
বরঞ্চ কাঁটাতারের বেড়া কেটে নাও

কৈবল্য মানি নি অথচ ভবিষ্যতের সংলাপের রাশি,পূরাণো কবরখানা---
যাদের জীবন ভেঙে গেছে,মানুষ সম্পর্কে ভাবিঃ
সংকুচিত কর্ম,ঘুম ও বিচরণের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ আবাস
পাকা ডালিমের মতো ফেটে নগ্নতা বেরিয়ে আসে
অনতিক্রমণীয় একটা ভবিষ্যৎ ঘনিয়ে তুলছে প্রলম্বিত অনির্ভর
প্রশ্নাতীত নিঃসংশয়ে বর্তমান এবং বাতাসের অন্তর্বর্তী নীরবতায় নিমগ্ন
মরণশীলতা নয় মৃত
আমার পবিত্র প্রার্থনার ধ্বনি জীবিতদের জীবনে এবং মৃতদের মৃততেও সম্ভবতঃ

বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৪

ভ্রষ্ট

অপলাপী ভাষার কবিতা,তারবার্তা;যা ভাঙবার নয়,---
তাও ভেঙেছিলাম পৌষের শীতে।সুযোগ সন্ধানী কিছু ফুল
ঝরে পড়ে চৈত্রের দুপুরে।যে সরলতা জীবনের কাছে প্রাপ্যনীয়--
ঝরে পড়ছে অবলীলায়।আমাদের পশুআত্মা উঠে এসেছে সমুদ্রস্নান শেষে
তার গল্প বাঁশবনে,হলুদ পাতায়।
খসে পড়ে বুকের ওড়না।উড়ে যায় ছেঁড়াখোড়া পাল।

প্রতিমুহূর্ত পরিবর্তিত। শহরের নূতন রাস্তার মোড়ে
মাদারী বসেছে।তার ঝাঁপিতে নানান বুজুরকি।
তাকে ঘিরে আছে উৎসুক বালক এবং বাজার ফেরত লোক।

বস্তুজগতের টুকরো,বিচূর্ণ রৌদ্ররশ্মিকণা,বৃষ্টিমুখর বালকবেলা
বিশুষ্ক ফলের মতো আমাকে ভাসিয়ে নেয় দূর কোন শূণ্যে।
আফ্রোদিসিয়াক নেশায় আচ্ছন্ন ভাবি উত্থানপতনে আমি এক ভ্রষ্ট রাজা।
রঙমহল,বাঈজী,সাকী---চারিদিকে সুরের মুর্ছনা
একেকটি সুরের জন্মরহস্য নির্জীব রেণুর পুঞ্জে কিংবা ফুলের কোরকে।
কাল-মহাকালের আবহমানতার গোপণ গহ্বরে।

অথচ আজও কেন সুর হলাম না
কেন গান হলাম না?