Powered By Blogger

শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০১১

কর্মফল

সবাই ইতর নয়;মানুষের যোগ্যতার প্রয়োজন আছে

হাবিলের লাশ কাঁধে ব্যাকুল কাবিল
ক্রুশকাঠ বহনের অপরাধে পূণ্যালোভাতুর মানুষ ক্রুসেডে মাতে
পান্ডবদের শঙ্খের শব্দে কাঁপে আকাশ,পৃথিবী
সম অধিকারের দাবীতে ছাড়ে লিলিথ ইডেন অব গার্ডেনের অফুরন্ত সুখ
আগুনে দরোজা মেলে নরক আহ্বান করে,'আয়।'

সময়ের সাথে বেড়ে চলে পৃথিবীর বয়স,নিস্তেজ চোখে
ঘুম নামে রাত্রির পূর্বেই।অতি সাধের পৃথিবী
জিতে নেয় শয়তান ঈশ্বরের ভুল চালে
স্বজন বধের ভয়ে ধনুর্বান ফেলে অর্জুন,রথের মধ্যে
সারথী শ্রীকৃষ্ণ ভগবান বলেন,'সমস্ত কর্ম ভগবানে সমর্পণ।'

২৫.০৩.১১
পল্লবী,ঢাকা।

যুথবদ্ধ

আমার চোখের ভাষা বুঝে নিয়ে বান্ধবী ওড়না ছুঁড়ে দিয়ে
নিপূণ শৈল্পিকতায় একে একে খুলে নেয় আমার পোষাক
কোমরের বেল্ট,শার্ট,প্যান্টের জিপার,আন্ডারওয়্যার খুলে
নিজেকে বিবস্ত্র করে বিলাসবহুল পোষাকের ভার থেকে
প্যান্টি,ব্রা'র হুক খুলে মেলে ধরে প্রসাদী ফুলের শুঁচিতায়
গগাঁর নিমগ্নতায় দেখি:সোনারঙগা নিরাবরন শরীর
তার ঘাড়,গলা,বাহু,মসৃন পেট ও নাভী,উন্মুক্ত ঊরু ও জঙঘাদেশ
উদ্ধত,ভরাট বুক,---ঈষৎ হেলানো;নগ্ন নারীদেহ নয়,---যেন
মহান শিল্পীর গড়াঁ অপরুপ এক শিল্পকর্ম

মৈথুনরত সাপের মতো আলিঙগনাবদ্ধ হই
পরস্পরের নিঃশ্বাস শুঁকি চুল,কপাল,বগল,---
মরুর তৃষ্ণার্ততায় শুষি ঠোট নিঃসৃত অমৃত
যোনীর নোনতা স্বাদে ভরে ওঠে মুখ
ভূগোলময় শরীরে মাতালের উন্মততায় দু'হাতে স্পর্শ নিয়ে নেই
তার ঘাড়,গলা,বুক ও পেট,শীতল পশ্চাদ্দেশ
দুই স্তনে মুখ গুঁজে কামোচ্ছ্বাসের উন্মাদনায়,
কামনার লাল ঝড়ে উড়ে যেতে থাকি আগ্নেয়গিরির অশান্ত উত্তাপে
তপ্ত আমরা দু'জন;নির্ভারতার বিশ্বাসে একে অপরের
আবেগের তীব্রতায় গলে যেতে থাকে তিক্ততার যত বিষ
সামুদ্রিক ঢেউ এসে ভেঙ্গে পড়ে আমাদের পায়

ফ্লুরেসেন্ট বাতিগুলো নিভে গেলে হৃদয়ের উজ্জ্বল শিখাতে
আলোকিত বিছানায় সুখের শিৎকারে থেমে যায়
সমুদ্দুরের মন্থন,---সৈকতের সিক্ত বালি তেতে ওঠে রৌদ্রে
আউলা বাতাস ছুয়ে ছুয়ে যায় শিরিষের শাখা

২৬.০৩.১১

পল্লবী,ঢাকা।

শনিবার, ১২ মার্চ, ২০১১

কবির অন্তোষ্টিক্রিয়া

সাদা অফসেট ঢেকে রেখেছে কবির মরদেহ
কালো অক্ষরে সাজিয়ে সাজিয়ে তোলে শোকঁগাথা সন্ত্রস্ত কম্পোজিটর
জ্বলন্ত চিতায় যথাযোগ্য মর্যাদায় অন্তোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন------
আত্মপাসাদে শ্মশ্মাণবন্ধু হুইস্কি গলায় ঢালে

'.....এই কবিতায় কবি বলেছেন..'নিয়মিত ছন্দে
নামতা আউড়ে যান সু-শোভিত অধ্যাপক।

২১.০২.১১
পল্লবী,ঢাকা।

ফিনিক্সিয় কবি

গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত কবি নির্বিকার
মৃতের নির্লিপ্ততায় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দাড়ি
নেড়ে বললেন,তাড়াতাড়ি বিচারের কাজ শেষ
করে ফেলো আমার অনেক কাজ জমা হয়ে আছে
আর্চ বিশপ আসনে বসলেন কাকের আলখাল্লার
কালো পোষাকে আবৃত হয়ে---হয়তো গোপণে নাড়ি
টিপে দেখলেন ত্রস্ত,চঞ্চল জনগণের অনুভুতি কিংবা সমর্থন
বাদীপক্ষের উকিল কবির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন
কবিতার ছত্রে ছত্রে  থাকছে ঈশ্বর অবিশ্বাস
আর মহাজাগতিক অলীক বর্ণনা;
যা ধর্মগ্রন্থের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ
বাদীপক্ষের উকিল কঠোরতম শাস্তির জন্যে আবেদন
জানিয়ে বক্তব্য শেষ করলেন।ন্যায় বিচারের স্বার্থে
আর্চ বিশপ কবিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিলে
কবি বলে উঠলেন,'কবিরা সব সময়েই সত্যদ্রষ্টা হয়।'

আর্চ বিশপ কবিকে নির্দ্বিধায় জ্যান্ত পুঁড়িয়ে মারার রায় দিয়ে দেন
মানি না মানি না এই  প্রহসনের বিচার জনতার ক্রুদ্ধ
গর্জনে বিশপ দ্রুত এজলাশ ছেড়ে চলে যান

ওরা জানেনা কবির মৃত্যু হয় না
ফিনিক্সিয় শুদ্ধতায় কবি বারংবার জন্ম নেয়

০৬.০৩.১১
পল্লবী,ঢাকা।


বিষাদের সুর

আলো নেভে উপকূলে আর আর বিষাদের সুর কেঁপে কেপেঁ ওঠে
বিশ্বাসের নৌকা ভেড়ে নির্বাসন দ্বীপে
নূহের প্লাবন থেমে যায় ব্যাবিলনে
সাতশত রুপসীর স্বপ্নে বিভোর কিং সলোমন
ভাবেন,জীবন অর্থহীন।( সুখ গর্দভের উপভোগ্য,মানুষের নয়)

মহাপুরুষের পথে হেঁটে পথ নয় পেয়েছি অন্ধকারের জ্বলজ্বলে অবিশাস
ইন্দ্র আর জিউসের সাহচর্যে জেনেছি,---মানিনি ধর্ষণের শৈল্পিকতা

কোন প্রশ্ন করোনা বরঞ্চ নির্বোধতায় উত্তপ্ত
ভ্রান্ত অবিশ্বাসী ধারা ভেসে যাক জোছনার সোমত্ত প্লাবনে


উল্কাপিন্ড

আকাশের নক্ষত্রেরা কখনোই খারাপ থাকে না
ইতিহাসের পাতায় চাপ চাপ জমে থাকা রক্তে ঘোড়ার ওপর বসে
ভাবি,মাঝে মাঝে বহু উল্কাপিন্ড পৃথিবীতে এসে জ্বলে ছাই হয়ে যায়
অন্তঃত আরেকবার ফিরে এসো বিশুদ্ধ ফলের শুষ্কতায়
মরুদ্যানের কূয়োর পাশে অফুরান স্বপ্নে কেটে যাবে হাজার রাতের
দীর্ঘতায়,দীর্ঘতম রাত ধ্যানমগ্ন ঋষির মতোন চোখ বুঁজলেই
দেখি,পিপঁড়ের সারি চলে যাচ্ছে দেশান্তরে মারী-মন্বন্তরে
কৃষকের গো-শালায় লোলুপ হামলে পড়ে বাঘের নখর

উল্কাপিন্ড পৃথিবীর বাতাসের সংস্পর্শে মুহূর্তে
জ্বলে ওঠে তেজস্ক্রিয়তায়----সেভাবে হলেও এসো

১৩.০৩.১১
পাবনা।

সবুজ পৃথিবী

বিশ্বাসী বন্ধুর চোখ আজ আর কোথাও দেখি না
অবিশ্বাসী ঢেঊ আসে শরীর ভিজিয়ে চলে যায়
বসন্তের বর্ণালীতে বৃক্ষের সবুজ  শাখা আনত গায়ক
পাখিদের নিয়ে নয়,---কাক,চিল আর শকুনের সম্মেলনে পরিণত

সবুজ বনের কাছে সবুজাভ আভা ভিক্ষে চেয়েছি সবুজ হবো বলে
চন্দ্রালোকের মতোন বিষন্নতায় কুঁকড়ে ম্রিয়মান সবুজ বৃক্ষেরা
বলে,'ক্রমেই ধূসর থেকে ধূসরতায় আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছি
বরঞ্চ যা পারো নিয়ে যাও। জমা রেখো অনন্তকালের জন্যে।'

আমার নিজস্ব কোনো পর্বত নেই যে যার গভীর গুহায়
সবুজাভ আভাগুলো জমা রেখে দেবো
যেনো প্রয়োজন হলে অগ্ন্যুৎপাতের মতোন গোটা পৃথিবীতে
মুহূর্তে সবুজ আভা বাতাসে ছড়িয়ে দিতে পারি

১০.০৩.১১
সৈয়দপুর।