Powered By Blogger

বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৩

আদিম সন্যাস

অনিশ্চিত পদক্ষেপে কে এগোয়?সচেতন প্রয়াসের নিবেশবিহীন পথ,
স্পষ্ট দেখা যায় নিস্পৃহতার ভেতর ভারী হয়ে আসছে দু'চোখ।
নিরতিশয় গোধূলি রঙে জ্বলে ওঠে অস্তিত্বময়ী চেতন,
অনিবার্য পরিণতির গোধূলিবেলা ওই দেখ কেমন ছুঁয়েছে স্বররণচূড়া!

তাকে অধিকার করে রাখে আদিম সন্যাস।

কবর

ত্রেতা যুগের বাতাস এসে শরীরে লাগছে

তোমরা কিছুই টের পাও না----পালাতে যাই
অশোকের ডাল ভেঙে কাধে পড়ে
অতীতকালের জলে আছড়ে পড়ছে ডিঙি নৌকা

ছায়াচর ঘুমে বিভোর,কবর কই
আমার শোয়ার সময় হয়েছে

অমাঙ্গলিক উল্কি

সহজ জলের স্তরে ভাসতে ভাসতে কতদূর,যাবে
আমাদের পাপের অভ্যাস,অমাঙ্গলিক উল্কির ছাপ সমস্ত শরীরে
অনাস্বাদিত অন্ধকারের ভয়ে কেউ ফেরে
কেউ ফেরে না---শূণ্যের অধিবাসী এ মানবজন্ম,----
প্রসারিত দুই হাতে মৃত্যুর পূর্বের লগ্নে তুলে নিয়েছিল
অমীমাংসিত সম্পদ আর বন্ধুর নিষ্ঠুর উপহাস

আমাদের পিঠে লবণজলের শোকাবহ ক্ষত
জলে ভাসমান ফুলে ওঠা সেইসব মৃতদের পার হয়ে যাবো
যাদের মায়েরা আজো ঘাটে দাঁড়িয়ে কাঁদছে

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৩

প্রাকৃত শব্দের বোধ

প্রাকৃত শব্দের বোধে কবিতা লিখেছিলাম
সময় যখন গৃহমুখী

আমার ফেরার তাড়া ছিল
তোমার সময় ছিল না বরঞ্চ অপব্যয় বেশী হয়ে গেছে

এই ভেবে ভেবে দুই চোখে তীব্র ঘৃণা নিয়ে
পরস্পর বিপরীত পথে............

অন্তরালে সাজানো জীবন,
ভাঙা সংসার,যা কিছু ফেলে এসেছি সবই সুখময়
শুধু সুখের অস্তিত্ব ঝড়ে গিয়েছিল

পাঠোদ্ধার

গাছের পাতার মধ্যে কীট
হাতের তালুতে দীর্ঘশ্বাস,নক্ষত্রচূর্ণ----কে লিখে রেখেছে এসব

লোকে ভুল বোঝে----লোকায়ত ভুল
পায়ের তলায় ফেলে সংসারত্যাগী বাউল
শতাব্দী পরের কবি,অন্ধ পাখি-----
ক্রমঅপস্রিয়মান রেখা আর রেখাগুলোর পাশেই নিয়মবহির্ভূত প্রতিচিত্র
অন্তঃর্মুখী বর্তমান ক্রমে আরো ভাঋক্ত
শুধু অন্যদের কথা ভেবে ভেব যে ধ্বংসের বীজ পোঁতা আছে,---
সেই রগ্ন মাটির সবুজ ঘাস জ্বলে যাচ্ছে সীসা ও গন্ধকে

নিরুত্তাপ অন্ধকারে এতো রক্তপাত
তাকে ঢেকে রাখে কাদা ও মাটির তাল

মানুষেরা আজ ভুলে গেছে সব দুঃসংবাদ
শুধু রাজদ্রোহী কবি প্রাচীন অক্ষরমালা ঘেঁটে লিখে রাখে
দ্রুতগামী হরিণের আঁকাবাঁকা শিঙ-এ

যদি পারো পাঠোদ্ধার করে নাও

সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৩

নাগরিক সভ্যতা

.সমস্ত শরীর জুড়ে অপমান
এত অপমান নিয়ে বেঁচে আছি কি করে ভাবতে গিয়ে
হাঁটুজল ভেঙে অবসন্ন একদিন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম
গ্রামজোড়া রৌদ্রনভস্তলে

আজন্ম নগরপাপী---
নগরপিতা আমাকে বলেছিলঃ

আমাদের এই নগরের জন্যে কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করেছ
পৌরপথে তবে কিসের প্রতীক্ষা

যদি না ভেঙেপড়ে অস্তিময়ী চেতন,এককেন্দ্রিক
আমরণ অন্তঃসার অভিশাপের মতোন
নগরপিতার শঠময় শ্বাসপতনের শব্দ

অনিশ্চিত পদক্ষেপে আমাদের যাবার বেলায়
নগরভবনে কিসের উৎসব

সতর্ক লিপি

ফুলহীন দু'হাত ছুঁয়েছে ঠোঁট
বুঝে নিয়েছিলাম আহ্লাদ
বহুপরিচর্যাজাত তোমার শরীর উল্টোদিকে বৈঠা টানে
আমার নৌকায়
নদীর অব্যবহৃত জলে ভেসে যেতে দেখি পরিত্যক্ত চোলি ও কাঁচুলি

কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছ,দৃষ্টি আকাশের দিকে
আকাশের ওই কোণে ঈশ্বর থাকেন
আমাকে কি উপহার দেবেন, ঈশ্বর
নব-আবিষ্কৃত ধাতুর আঁকর
গর্ভ উন্মাদনা
সিমেন্ট,বালি ও পাথরের চাক
কূল রক্ষাকারী ভ্রাম্যমান পরিদর্শকের পদ;যাতে
সমুহ ক্ষতির আগে টন টন শস্যে ঢেকে দিতে পারি জনপদ

ওই নদীতীরে দেখা যায় মধ্যযুগ শেষ হয়ে গেছে
বানভাসী মানুষের শীর্ণ পেটিকায় নিরন্নতার সতর্ক লিপি
জন্ম ও মৃত্যুর অন্তরালে যেই বিভাজন
তার মধ্যে কোমর বাঁকিয়ে চলে শঙ্খচুড় সাপ

দূরে সাঁপুড়ে দাঁড়িয়ে হাতে ঝাঁপি