Powered By Blogger

মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

বইমেলা ২০১৪

কড়ুই গাছের নীচে বাঁধানো চত্বর
রঙিন মুখোশ পরা বন্ধুরা আসছে
সুদৃশ্য হাত প্রেমিকার বাহুলগ্ন;সূর্যপুষ্প হলুদ,উজ্জ্বল সূর্যাধার
কোন প্রান্তর জ্বলছে
ফিদা হুসেনের তুলি,প্যাস্টেল,স্প্যাচুলা
জন্মের পেছনে জন্ম

আমার প্রেমিকা নেই---শৈশবে একটা নদী ছিল
আর একজন দেবী
সব সমর্পণ সমুদ্রের দিকে ফেলে
অবশেষে মরা খাল
দখলের মহোৎসবে কাটা পড়ে গেছে কাঁশবন
অস্তগামী চাঁদের তলায় সেই দেবী,তার এলোচুল
ঠোঁটের বাঁকানো হাসি,চিকন কোমর,সাদা পেট...


শান বাঁধানো চত্বরে ঠোঙা ভর্তি বাদাম দু'হাতে
জনস্রোত ভাঙে একে ওকে ডাক দিই
যুগযুগান্তে প্রত্যেক মুখে খুঁজিঃসূর্যোদয়,সূর্যাস্তসকল,কবি,চিত্রকর

নিজের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের ঘৃণা
সারি সারি অন্ধকার,একরোখা স্বপ্ন
এক বজ্রপাত থেকে আরেক বজ্রপাতের মধ্য মুকুল ঝরছে

সৌরভে উন্মাদ মানুষ ছুটছে

রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

পথের নিঃশ্বাসে

বিকেলের বাঁকা আলোতে স্থবির অপমানে তমিস্রার মতো বন্ধহীন দিন
বিচিত্র আশ্বাসে উচ্ছ্বসিত তবু ফিরে আসে স্বপ্নের নিভৃতে
ক্লান্তিহীন অনন্ত অভ্যাসে খুলে যায় মুঠো
পুঞ্জীভূত রক্তিম ফেণায় জন্মদিন,ছিল না উৎসব

ঘাসের আসনে আমাদের আছোঁয়া যৌনের স্পর্শ
অন্ত্রের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে বহিঃর্মুখী,মেদকাটা ভাষা
আঁটো-সাটো কাঁচুলিতে ঢাকা উদ্ধত,পুরুষ্ট স্তন,---
শিকারী বেড়াল য্যানো;ওঁৎ পেতে আছে
সুযোগ পেলেই লাফিয়ে পড়বে
একদিন তোমার সমস্ত দুধ টেনে নেব আকন্ঠ তৃষ্ণায়

যে গুপ্তবিদ্যায় তিনপুরু সর,নীচে দুধ
জারণের প্রক্রিয়া,রান্নার পুঁথি আশ্বাস-সংশয়ে জীর্ণ--

একমুঠো প্রাণ নিয়ে আমিও নেমেছি পথে
যদি পথের নিঃশ্বাসে গলে যাই
দুর্বিনীত ঝড় কিংবা আতপ্ত চক্রান্তে
ভাঙা পথে এসে দাঁড়ায় পাথর তবে
গণিকার নিষ্প্রদীপ স্নানের ছায়ায়
কবন্ধ শরীরে মেখে নেব পথশ্রম

কলংকিনী সেই মেয়ে আমাকে আশ্রয় দেবে
মুখোমুখি ঠোঁট গলে যাওয়া নিঃশ্বাসে

দিনান্তের সূর্য

খুব সহজেই ভেসে যেতে দিয়েছি অলকানন্দা জলে

ইচ্ছে ছিল পেশীবহুল দু'হাতে টেনে তুলি নিমগ্ন স্থিরতা
অঘোর আঘাতময় জলরাশি ভেঙে ভেঙে
ক্রিয়াপদ,অব্যয় ও যতি

ছিটে-ফোঁটা ভাঙা শব্দ;যা আমার অগোচরে
পরস্পর ভিন্নতায় কবিতার আগ্রহাতিশয্যে সম্পন্ন শব্দের অভিমাত্রা
ছন্দ,উপমা,প্রতীকে ঔদাসীন্যে মেনে নেই সামান্য ভাঙচুর,ভুলত্রুটি

ছেঁড়া কিছু অঙ্গবস্ত্র,পেতলের ফুলদানী,জলপাত্র ময়লায় কালো ও বিকৃত
কবি পুরুষের মতোন উদ্ধত,বিরহের অহংকারের ভেতর
শুয়ে আছে নীল সমুদ্র,রক্তাক্ত বুক
আর ঠিক তখনই সাশ্রুয়ী আলো এসে পড়ে আদমের উলঙ্গ শরীরে

অস্মৃত স্বপ্নের বিসর্জনে জেগে ওঠার সময়
ঘরময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছুঁচো-ইঁদুরের কিচকিচ শব্দে
অর্থহীন হাতে উঠে আসে বিষন্ন প্রতিভাকণা
জলমন্ডলের ছায়ায় রাঙানো মুখে চিরতার রস
মুহূর্তের স্বাদে পাকস্থলী ঠেলে বের হয়ে আসে অন্ত্র

দুই চোখে আঁকা ছিল ময়ূরপালক দিন
শরীরের মধ্যে অনেকান্ত খাল
কলা গাছের ভেলায় ঝরে শরীরের বালি,অনন্যতা
সমূহ সর্বনাশের সাথে নিজেকে ভাসিয়ে তোমাকেও ভাসিয়েছি
এইভাবে ডুবে গেল আমাদের দিনান্তের সূর্য

সুন্দর সংস্কার

মধ্যরাতে পরিকীর্ণ পানশালা--পানপাত্রের কানায় বুদবুদ
সম্ভাবনা ছিল তবু পাঁড় মাতাল হয় নি কেউ কেউ
ক্রোধ,অভিমান ও ক্লান্তিতে পরিশ্রান্ত মানুষেরা
সীমাবদ্ধ নশ্বরতা জেনে নিয়ে এই খানে একাট্টা হয়েছে

আমি ওদের করুণা করি

ঘৃণা পাবার মতোন কোন যোগ্যতাই ওদের ছি না

নৈসঃঙ্গপীড়িত বিচ্ছিন্ন মানুষ
ওদের মুখের লিথোগ্রাফে জন্মের শেকড় আঁকা
চোখে দ্বাপর যুগের জল ও অমিত প্রতিশ্রুতি
পায়ের তলায় জ্বলে অরব ও ধূপকাঠি

সমস্ত অন্যায়,বজ্র বিদ্যুৎ ও ঝড়ে
অসংলগ্ন বাকরীতি
প্রেমিকার কান্নার বৈভবে
পর্ব ও পর্বাঙ্গে ভাগ করে প্রেমের কবিতা
অস্তিত্বের ধ্বংসলীলা,অশ্বমেধ যজ্ঞে,
পৌষ সংক্রান্তিতে নিমগ্ন পানশালা
শুধু এক সুন্দর সংস্কারে

শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

হলুদজল সময়

হলুদজল সময়ে তল থেকে উঠে আসে আধোশ্বেত বধিরতা
মগ্ন অবসরে মুছে দেয় সীমান্ত শহর আর গ্রাম
মাথার ওপরে গন্ডিরেখা,পায়ের তলায় পরিত্যক্ত সাপের খোলস
পথের নিঃশ্বাসে ধ্বংসবীজ---স্থির ও পরিবর্ধনশীল

উপলব্ধিজাত কস্তরীমালার ফুল,সীসা,গন্ধক,তামাকজাত নেশা
আর শস্যের সবুজ হাহাকার
ধানক্ষেতে রক্তপাত---পাঠ-প্রতিপাঠে,জীর্ণ ভূর্জপত্রে সর্বস্ব আগুন জ্বলে ওঠে

যে আগুন সর্বংসহা তাকে নিভে যেতে দেখি খর শীতে
এবারের শীতে উত্তরের পাখি নেমেছে অসংখ্য
তাদের ডানায় ভেজা বরফের আস্তরণ
উড়ে যেতে যেতে বলেঃদেখো আমাদের পালকে মেরুর দাবদাহ
বেগুনি রশ্মির লোভে এতদূর এসেছি,ঝলসে খেতে চাও
বুকের নরম মাংশ

তবে নাও গোধূলির আলো পাত্র ভরে পান করো
মদ,রক্ত ও মাথার খুলি উপড়ে মগজ

পাথর সম্মান

শ্মশান ভূমির মতো বিরান শহর
ইঁদুরের বিষ্ঠা,শেয়ালের লোম---ধূল পড়া দাগে
পুনর্বাসিত বাদুড় শুয়ে আছে নিথর ষ্টেশনে
এখন যেখানে বুনো ছাগলেরা চরে বেড়াচ্ছে সেখানে ঠেক ছিল
চোলাইয়ের,গাঁজার
বিচ্ছুরণময় গোধূলি সময়ে কতদিন জমানো শোকের চিতা জ্বালিয়েছি
আজ আধো আলো-অন্ধকার শহরের মধ্যে দিন ও রাতের আপাত পার্থক্য নেই

কত তৃষিত লোকের বাস ছিল এ শহরে
সুগঠিত স্তনশীর্ষে ঘন বরফের স্তুপ গলে গলে স্বাদু জল
কূয়োমুখে মাটি বালির উত্থানে চাপ চাপ মুথাঘাস
সুড়ঙ্গপথে তৃষ্ণার্ত শুকরের পাল নেমে যায়

সবার মুখের উৎস খুলে দেখি
শিরায় শিরায় মহীরুহ
একটি পাতার থেকে আরেকটি পাতা আরো বেশী অন্ধকার
সন্দেহে সন্দেহে কেটে যায় সমস্ত জীবন

কামট শহরে শেষ চিঠিটা যে ডাকবাক্সে ফেলেছি তা
ঝড় জল ও রৌদ্রের তাপে ঝলসে গিয়েছে
পাথর সম্মান পাব ভেবে
এই শহরে এখনো রয়ে গেছি
আপাতত একটি বিছানা,সাদা কাগজ,কলম সাথে
এবং উদ্ভিন্ন যৌবনা একজন প্রেমিকা পেলেই
কিছু প্রেমের কবিতা লিখে যাব

বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

অরুন্তুদ ও অকাল বৈধব্যের বেলা

নিস্তব্ধ নদীর ঘাটে বহুপরিচর্যাজাত রমণীরা জলস্রোতে মুখ দেখছিল
মুখের প্রচ্ছদ ভেঙে একে একে বেরিয়ে পড়ছে অন্নপূর্ণা সাজ
অর্ধনগ্ন বুকে দাউ দাউ অগ্নির কুসুম,রক্তগোলাপের ক্ষত
নীল বিষে ফুলে ওঠা শিরা ও ধমনী

দ্রুত খুলে সমস্ত পোষাক
যে নামে ডেকেছে একদিন অতৃপ্ত প্রেমিক
অবিকল উড়ন্ত মেঘের সাথে দু'টি পায়রার পাশাপাশি
সহজ জলের মতো স্বচ্ছ অন্তিম গোধূলি নিয়ে ফিরে এসেছিল

ডাঙায় তাড়ানো জলচর,---
জোড়া স্তন থেকে ঝরে পড়া মুক্তোর দানার মতো ফোঁটা ফোঁটা জল
মোহগর্ভে টেনে নেবে,নদী
সমর্পণে ঢেলে দেবে সমুদ্রের খাঁড়ি মোহনায়

অরুন্তুদ ও অকাল বৈধব্যের বেলা পড়ে এল,আশ্চর্য্য রমণীদল
জল থেকে শেকড় নাড়িয়ে উঠে এস