Powered By Blogger

বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০১৩

হারানো বৃষ্টির রাত

শ্রাবণের অঝোর ধারার জল কি বিষম প্রণয়ের রাত মুছে দিতে পারে
প্রগাঢ় অন্ধকারের শান্ত প্রতিবাদে যা ছিল দূরত্ব
আজ জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যে
অব্যবহৃত স্বপ্নের বোঝা কেমন গড়িয়ে চলে অতীত ও ভবিষ্যৎ মাঝখানে রেখে
শিল্পের অন্বয়ে আঁকা বিজয়ী ও বিজিতের সহাবস্থানের পাশাপাশি ছবি,___
আমি তাদের বলব
পরস্পর তোমরা বিচ্ছিন্ন হও
পাথুরে ভাষায় পাথরের অহং নিয়ে যেদিন সমর্পণের সর্বনাশএনেছিলে
আমি বুঝে গিয়েছিলাম অবৈধ তৃপ্তি এমন সহজে আসে
কখন হারিয়েছিল পরিচিত নীল চাঁদ

আমি তাকাইনি কোনদিকে
চৈত্রের চিহ্নিত পথ ধরে হেঁটে হেঁটে চেতনা নিমগ্ন অবিরল
সমুদ্র সৈকতে দেখলামঃ
নগ্ন পায়ে তরুণীরা নরোম বালিতে চিৎ হয়ে আকাশ দেখছে
তাদের অমৃত চোখ যেন একেকটা সহজাত আত্মা
আক্ষেপিত নৈকট্যে গভীর হ্রদ

তারা ভাবে আমি তাদের মেঘের ছায়া দেবো
আর আমি খুঁজি হারানো বৃষ্টির সেই রাত

তামসী হৃদয়

এমন অঢেল দিন গিয়েছে যখন জারুলগাছের শাখা থেকে
শব্দরাশি গুলো ঝরে পরত;যা ছিল
বৃষ্টি এবং তুষারপাতের মাঝামাঝি
আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছি বসন্ত সেখানে প্রকৃতির নিয়মে আসে নি
কিন্তু তোমার স্বপ্নেরা মানুষের স্বাভাবিক উচ্চতা ছাড়িয়ে দিগন্ত ছুঁয়েছিল
এবং শেষাবধি আমরা জেনেছিলাম ঋদ্ধ শব্দমালা দিয়ে সাজানো কবিতাগুলো
পৃথিবীকে প্রভাবিত করতে পারে নি

আমাদের ভুল ধারণাগুলো সূর্যকে ঘিরে রেখেছিল
আর ক্রমে ক্রমে সমুদ্র সৈকত থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলাম
দীর্ঘশ্বাসে দীর্ঘশ্বাসে বিদীর্ণ আত্মজ শব্দ ও লবণ পরস্পর থেকে দূরে সরে গেল
কোন চিহ্ন না রেখেই

আমাদের দ্বিধা আর ভালোবাসার ভেতর বাস করে থুত্থুরে প্রাচীন এক ছুঁচো
সকাল দুপুর সন্ধ্যা লাঙ্গলের মতো খুঁড়ে তামসী হৃদয়

এখানেই একদিন ভালোবাসা জন্মেছিল

কাঁটাতার

সমুদ্র ও আকাশের জুয়াখেলায় সরব নক্ষত্রেরা জানে
মানুষের জন্ম কেবল নির্বেদ আকাংখাতেই শেষ হয়ে যায়
আমাদের অধিকারের কাঁটাতারের বেড়া,___
স্বরবিক্ষেপ ছাড়াই প্রশ্ন করোঃ
একদিন অন্তর্হিত ধূলোওড়া প্রাচীন শহরে
কোলাহল,অস্তিত্বশীল পাথর আর ভূ-তাত্ত্বিক জরীপে জরীপে
ক্লান্ত ভূমি কাঁটাতারের বেড়ার ভার নিতে কতটা ইচ্ছুক

দূর্বোধ ভাষা

সপ্রাণ স্বপ্নের মতো ছাতিম গাছের পাতা ঝরে পরে আর
দূর্বোধ শব্দের কোলাহলে মহানিম বট আকন্দঝোপ অনাবসান জেগে থাকে

ওদের সার্বজনীন কোন ভাষা নেই

শিশিরের সাথে বধির কুয়াশা
প্রগাঢ় অন্ধকারের সাথে সজ্জিত বিন্যাসে ম্লান মিথ্যা
বিকেলের সাথে অবোধ্য নির্জন
আহত উচ্ছ্বাসে চাঁদ নক্ষত্রের সাথে
কেবল কাঠঠোকরা কোন ভাষায় বিদীর্ণ করে ওদের হৃদয়
শিশুগাছগুলো বড়ো হলে জেনে নেব বলে
শেকড়ে শেকড়ে জল ঢেলে যাই

উৎসব

কৃষ্ণচূড়া জ্বলেছিল---এমন অঢেল দিন গিয়েছে যখন
স্পষ্ট এক অক্ষমতা ফুটে ওঠে
ফুটন্ত ফুলের কাছে গিয়ে দ্বিধার প্রবল টানে ফিরে আসি
সকালবেলার পরিচিত পাখিগুলো সব একে একে উড়ে যায়
নিস্পৃহ ক্লান্তির মতো সারাদিন পাখিগুলোর রঙ্গীন ডানার ঝলক চোখে লেগে থাকে
কোকিলের গান মেশানো পথের বাঁকে নির্জনতা লুকোচুরি খেলে আর
আমি অটুট দাঁড়িয়ে থেকে
কিছুটা গভীর সত্য জানার আশায় শান্ত বিষাদের মধ্যে প্রশ্ন করি
শেষ যে চিঠিটা ডাকে দিয়েছিলাম;তা আদৌ পৌঁছুছে কি
আমার চোখের জলে ঘামে লোনা স্বাদ
এর অর্থ আমি উঠে এসেছি সমুদ্র থেকে
আদিপিতা, হে সমুদ্র
তুমি দেখো কেমন অবাধে সৌরবাতাসের লুঠ চলছে সৈকতে
দু'তীরের বালিতে আমার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে সূর্য
মেঘ ও আলোর রশ্মি উৎসবে উৎসবে কেমন মিলিয়ে যাচ্ছে
আমি উপহারশূণ্য কিভাবে উৎসবে যাব
কৃষ্ণচূড়ার সতেজ ডাল
ডালে বসা পাখি
আমাকে এমন ছবি এঁকে দাও
আমি সেই উপহার নিয়ে জীবনের উৎসবে উৎসবে নেচে যাব
মৃত্যুতেও থামবে না যে উৎসব

মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০১৩

পশুমাংশ ঝলসে খাবার দিন শেষ হয়ে এল

সংকীর্ণ সিঁড়ির অন্ধকার প্রীত অনুচ্ছ্বাসে ছায়া নড়ে
অনন্য স্বাধীন অন্ধকার ঘরের ভেতর জ্যোৎস্না নেই
 ছবি নেই
অনিবার্য্য সমস্ত আগামী সূর্য্যহীনতায় ডুবে যাবে
কেবল একাকী আমি নির্বেদ শূণ্যতা খুঁজে বেড়াব আকাশে

সভ্যতারও আগে আমি সূর্য্য দেখেছিলাম;বিকিরণবিহীন
তারার আলোয় পথ চিনে চলে যেতাম গভীর সমুদ্রের
প্রতিশ্রুত সম্ভাবনার দিগন্তে
আশা আকাঙ্ক্ষার ব্যগ্র প্রতিমূর্তি ডুবো নৌকাগুলো নিয়ে এসেছিল
ভূমি জরিপের যন্ত,কাঁটাতার,খনন প্রযুক্তিবিদ্যা আর
মৌল রসায়নে চাল থেকে ভাত রন্ধন প্রণালী

পশুমাংশ ঝলসে খাবার দিন শেষ হয়ে এল

সোমবার, ১ জুলাই, ২০১৩

উলঙ্গ আদম

সূর্য্যমুখী মমতায় অতীব পূর্ণতা পেয়ে জীবনের পথে চলে গেলেন কবি
দু'তীরের কাঁশবনে কবিতা,বিষাদ,চান্দ্রগীতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে

আমাদের অন্তর্নিহিত বোধের মধ্যে
আমাদের ঘুমের ভেতর
আমাদের স্বপ্নের ভেতর
আমাদের জীবন ও প্রেম,শুশ্রুষার সম্পূর্ণ ভেতরে
আকাশের প্রান্তসীমা ঘেঁষে পৌরাণিক বিধাতারা খেলা করে আর
দেবতারা আভাঙা পাথর ছোঁড়ে পৃথিবীর বুকে

মানুষ রক্তাক্ত হলে ঈশ্বরের সূচিকাভরণ নিঃশেষে স্বার্থক করে প্রকৃত কান্নায়
মৃত্যুর অপেক্ষা----ক্রমবিষ্ফারিত মহাধমনীতে
নর্দমার পার্শ্বে ঝাঁঝাঁলো এ্যামোনিয়ার গন্ধে
ঋতু আর শুদ্ধ রক্তের অসম সহাবস্থানের মধ্যে

মৃত্যুচিহ্নময় পথে গোলাপের কোন ছবি আঁকা নেই
নিজস্ব আলোয় ক্যানভাস জ্বলেঃ

আপেল গাছের নীচে উলঙ্গ আদম ভয়ে থরোথরো,পাশে ঈভ