Powered By Blogger

মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৪

অন্ধকারের দিক

শীতকালে শালকীর জল সরে গেলে মাথা তোলে কয়েকটি বিমর্ষ পাথর
ঠিক  যেমন দেখেছি পরিত্যক্ত কবরস্থানে করোটিগুলো
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে;শব্দহীন পায়ের পাতায় ঝরে অস্তালোকে।

'সকলের মুখে প্রেতছায়া'বলে হাসে কৃকলাশ পিশাচিনী
চন্ডালের হাতে মদ,---পানপাত্র করোটির
রক্তাবাস,ছেঁড়াচটি,হেতালের লাঠি পাশে শুয়ে
গ্রাম পতনের শব্দে সারা শ্মশ্মাণজুড়ে উৎসব।

চিতার ওপর শুয়ে আছি শব হয়ে
আঁকাবাঁকা পাহাড়ের পাদদেশে নিপীড়িত দেহ
খুলে দ্যায় সমস্ত অন্ধকারের দিক।

সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৪

পথশ্রম

ধ্বংসের কিনারে খাঁড়া হাতে দাঁড়িয়েছ
তারামুহূর্ত পতন,উপবাসী দিন,সমূহ সংসার,--
ফাঁদ পেতে রাখা আছে,'অপেক্ষায় থেকো,
দিগন্ত উপচে ওঠা নীল ফেনা তার রহস্য হারাবে।'

স্বাতী নক্ষত্রের পাশে দেখি ওই পরিশ্রমী মুখ
ভুল করে ঢুকে পরেছে শামিয়ানার নীচে
সরাসরি,সহজভাবে মুক্তি চেয়েছিলামঃপায়ের পাতা,
গোড়ালি অবধি,হাঁটু....

পথশ্রমের ফ্যাকাশে মুখ চুম্বনে তাতিয়ে তোল।

শহর

দুপুরবেলার বিষন্ন জলে কার ছায়া পড়ে?
বুকে আঁচল জড়িয়ে যাবার বেলায় কেন বলেছিলে,পথে 'রিপুভয়?'
আমি শ্মশ্মাণ পেরিয়ে রৌদ্রনভস্তল শহরে পৌঁছেছি,--
আজন্ম শহরপাপী,খাঁ খাঁ রোদে পীচ গলে
গাড়ীর চাকার ঘূর্ননগতির পাশে মানুষহীন ট্র্যাফিক
ফুটপাতে দোকানের সারি আর পার্কের গাছের নীচে
ঘুমায় হকার,চানাচুর,বাদামওয়ালা।

চোখের জল

মাথার ওপর চৈত্র,মিহি ধূলো বাতাসে উড়ছে।দৃঢ়সম্ভব উপসংহারে
নেমে এসেছি পথের প্রান্তে।দুপুরের ধারাপাতে ধূসর জীবন।
ভাপ ওঠে চারিদিকে।রৌদ্রাহত নির্মলতা ভেঙে তুমি কি ভেবেছ ভুলে যাবে
গতরাতের প্রণয়,মেরুদূরাতীত আত্মপতনের বীজ,
মাটি খুঁড়ে তুলে আনা স্নেহদাগ?
সকালের আলোয় দেখেছি একরাশ রক্তের কাদায় মাখামাখি
শুয়ে আছ,হাঁটু ভাজ,ভ্রুণের আকৃতি।

সুন্দরের মজ্জাহীন শোকের আতসেগড়া রাত্রিগুলো ওড়াও আকাশে
রাজপথ-ঘর-বারান্দা তখন নামহীন অন্ধকারে ডুবে থাকে আর
তোমার মাথার চুল ভিজে যায়।
শরীরের সব দাগ ভেসে ওঠে,রক্তজবা,___
রুপালী পাতারা ফিরে আসে বাতাসে,উঠোনে ঝরে পড়ে
ঘন শীৎকারে ব্যাকুল।

বিচ্ছেদের হেমন্থলুদ পাতা,রক্তবীজের বংশধরেরা
অসাড় দিনের দিকে কতটুকু স্থির---জানতে চেয়েছ?
সবুজ রঙ গাছপালা---স্বপ্নে স্বপ্নে মগ্ন রক্তবাস পরনে,খড়গ,কাঁধে ধনুর্বান
চন্ডাল শিকারের খোঁজে বনের ভেতর
মৃত্যু পাশে রেখে সজাগ রয়েছ?

চোখের পাথর দেখে জেনেছিঃগ্রহনক্ষত্র ছিল একদিন ওই চোখে
তোমার চোখের জ্যোৎস্না পেলে কঠিণ পাথর,
সেও ফেটে যাবে।
অন্ধ করতলে ছুঁয়ে দেখো এ শরীর।

নিরক্ষর বৃষ্টির ভেতর
ছাতা খুলে ধরেছিলাম,আঁচল দিয়ে ঢেকেছিলে,---
নিকষ রাত্রির শব শুয়ে ছিল ঘাটের পৈঠাতে।

পথ হাঁটছি অনন্ত সূর্যকাল থেকে
তোমার স্বাচ্ছন্দ্য দেখি পথের ওপার থেকে।

তোমার চোখের জল ধরে রাখি করপুটে
(আদৌ যে জল তোমার চোখে নেই।)

রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৪

সংহত সংসার

হাঁটুর তলায় অন্ধকার,তরল।একাগ্র মাকড়সা
জাল বুনছে সিঁড়ির নীচে।ভরদুপুরে মেয়েটি চলে গেল।
নদীর ওপারে,ঘোরলাগা বাথানের পাশ ঘিরে।
আজ ছিল তার জন্মদিন।

'সকলের মুখে এত ছায়া' বলে মুছে দিয়ে গেছে
সামঞ্জস্যহীন পরিণতি।শূণ্য থেকে শূণ্যতায়
জলস্তম্ভ উঠে পড়ে রুপালী ঝলকে।অবনত দিনে
মুহূর্তের ঘূর্ণি ভেঙে দেয় সংহত সংসার।

মুক্তি

অনায়াস ইচ্ছের বাতাসে উড়িয়েছ পাল
নদীর ওপাশে অশথগুঁড়ির জট
পথের ফাটলগুলো ঢেকে গেল অন্য গ্রহের ধূলোয় আর
পদ্মার বালিয়াড়িতে ধীবরেরা টেনে তুলছিল জাল

অর্ধেকগড়ন প্রতিমাবলয়,পূর্ব পাথরের দিকে চেয়ে
ছুঁয়ে দিয়েছিলে চেতনার অন্ধিসন্ধি
কবোষ্ণ হাতের রেখা---জল তার চিহ্ন ধরে রাখে
জীবনের দাবী মিটে গিয়েছিল---প্রত্যেক মুহূর্তে
বিস্ফারিত হয়েছিলাম আমরা

অমিত্রাক্ষর ছন্দের জন্যে আমার ক্রমশঃ ঋণ বাড়ে


স্নেহাশীষ,দু'জনের সাজানো জীবন,স্থির,নৈসর্গিক চিত্র,
আনত মুখের ছায়া,আমার দু'চোখে নীল আলো,
হাতে মাটির সানকী

ছায়াপ্রশাখার জটিলতা ঘিরে নেবে আমাদের ঘর-বারান্দা-উঠোন
দীঘিভরা অবসাদ,ভেতরে কী তপ্ত জল
সদাচারী মাতামহ---গোবর নিকানো পূজোঘর
গ্রামান্তরে যাবার বেলায় নীচু হয়ে বলি:

এমন অরব ভালোবাসা থেকে মুক্তি চাইনি কখনো

হোমযজ্ঞ

আগুন---পাতারা পোড়ে।ধোঁয়া ওঠা অগ্নিকুন্ড ঘিরে পূণ্যার্থীর দল।
মৃত্যুকোষ ঢেলে দেই।সিফিলিস,গণোরিয়া----যৌনরোগ,গুপ্তব্যাধী;
তার থেকে একফোঁটা পুঁজ,
ক্রমশ আগুন বেড়ে ওঠে ।
দেহের সরলীকৃত কোষ থেকে খসে পড়ে ছায়াগণিকা,মেনকা,রত্না,উবর্শী অপ্সরীগণ
পরপারের বিপথে উড়ে চলে।

ভরে নাও ঝিনুকখোলের হোমপাত্র ।

রোগজ্বরাগ্রস্ত জীবন----গোঁসাই
কত হোমযজ্ঞে মুক্তি লেখা আছে চতুর্বেদ,পূরাণ ও ভাগবতে?