Powered By Blogger

বুধবার, ৫ মার্চ, ২০১৪

প্রতিশ্রুত সোপান

শরৎকালের রোদ্দুরে মূক পাতাদের সংস্কারহীন অনির্ভরতা
দ্যুতিপ্রাণতায় বাজছে সাফল্য-প্রতিশ্রুত সোপানের
ক্লান্ত সমুদ্যত মুখচ্ছবি,ইচ্ছেগুলো বৃত্তের ভেতরে
উৎসারিত কবিতা ও গান---ছন্দের ভেতরে এত অন্ধকার

শ্বেত পাথরের বধিরতা ঘিরে রাখে মুখের ফাটল
মৃত ডানা,প্রকাশিত জবা---মিলনের রীতি জানা আছে,উদ্বায়ী প্রেমের
 মিলনী সংরাগে অস্বীকৃত তন্ময়তা
প্রতিটি বস্তুর অবস্থিতিবিন্দু,কেন্দ্রাভিমুখী নির্মাণ

প্রভাতী সঙ্গীতে প্রাত্যহিক বেঁচে ওঠা
পাতা ও ফুলের ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি
অশ্রুজলরেখা রাতের প্রহরে নিঃস্ব কানাকানি
এবং ফিরে তাকানোর নীল আলো

সুগত দু'চোখে রৌদ্র এনেছিল আর
ভালোবেসে খুলে দিয়েছিল বন্য চুল
স্পর্ধিত দুপুরবেলা সমর্পনের নিভৃতে
হার্দ্য উচ্চারণে গাঢ় অভ্যর্থনা,বিনত সংঘাতে বিকশিত নিস্পৃহ বিষাদ

বিস্মরণের লালচে মৃত্যু

শহরের এক গলি থেকে আরেক গলির মোড়ে অস্বচ্ছ গোধূলি ছায়া মেলে আছে।
আসন্নসনভব নির্জনতা,আতপ্ত নিবিড় সঞ্চারিত রক্ত,বিমূর্ত বিস্ময়ে প্রবাহিত
মন্থর সময়।নিমগ্ন জানালা বন্ধ করে রেখেছ?ঘরের মধ্যে অরব আলোর রেখা।
সংহত দেয়াল দ্যুতিহীন,অসম্পূর্ণ রঙের বিশ্লিষ্ট সিঁড়ির তলায়,অন্ধকার কোণে।
নিঃস্বন রাতের পথে কোন প্রতিবাদ নেই।আমি ক্লান্ত হেঁটে আসি।করতলে ম্লান ছবি
মুখের প্রচ্ছদে বাদামী হাতের ছাপ।সম্পুর্ণ ছবিটা স্পষ্ট মনে আছে শুধু রেখাগুলো
নিস্পৃহ বিষাদে উপলব্ধ যন্ত্রণায় বিচিত্রিত শূণ্যতায় সমর্পিত,সমন্বয়ী ব্রতে।

আমি শূণ্যের জাতক।অসামান্য বাসন্তী রঙের শূণ্য বিস্তীর্ণ আলোকবর্ণ চরাচরে
পায়ে পায়ে জড়িয়ে চলছে।বাড়ি থেকে বের হলেই ফেরার পথে শূণ্যতা আঁধার করে
পথ ঢেকে রাখে।কত দীর্ঘ দিন ধরে থেমে থাকা এ শূণ্যতা আমার কপাল আলো করে
পরিয়েছে সোনালী চন্দন-যতদূর তার আলো,ততদূর প্রস্তুত উৎসর্জনের পটভূমি।
তামসী বিস্ময় আর নিবিড় একাগ্রতায় ফুঁসে ওঠে বিস্মরণের লালচে মৃত্যু।

মঙ্গলবার, ৪ মার্চ, ২০১৪

অন্ধকারের রেখা

জড়মৃত্তিকার মুখ খুলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে মমতাময়ী পৃথিবী
শিলার ভেতরে জল,জলের তলায় রত্নশরী শব
দিন ও রাতের মাঝখানে নিথর শ্মশাণ ভূমি শুয়ে আছে
চিতার আগুন নিভে গেছে,কাঠ নেই,----

নীল মুর্ছা,সাদা আত্মা---নিঃশেষ তলিয়ে যায়
জলপতঙ্গের ডানা ধরে রাখে মরা কাঠ
যদি ভেসে যায় সমস্ত ঋতুর দিকে
যে কোরক ঢেকে রেখেছে পথের চিহ্ন
ঘনদেশ,হলুদ পাতার স্তুপে,লতার নিঃশ্বাসে

ময়ূরপালক দিন ঝরে যায়
বুকের ভেতর উঠে আসে ছদ্মনাম,মৃতশক্তি
কালো ঈগল,অশান্ত রাত
প্রতিবিম্বিত অন্ধকারের রেখা কেঁপে

শরীরের সব কুষ্ঠ,রক্তপুঁজ ফেটে যাক দিনান্তের ঐ জনসমাগমের দিকে

পরাবিদ্যক কবিতা

আমি শুদ্ধ হতে চাই
আমাকে আগুন দাও
চিতার আগুনে ঝলসাবে এ শরীর
দিনানুদিনের পাপ----সেও কি ঝলসে যাবে

মধ্যজলে চোখ জ্বলে ওঠে
সাজানো সংসার,গৃহহীন চাঁদ,শোকাভাসিত প্রান্তিকে
ঘুরে ঘুরে যাচ্ছে সূর্যশোক
ভুলে গেছি সান্ধ্যগান,ছন্দ,প্রতীক,উপমা এবং চিত্রকল্প

অবিশ্বাসী দুই চোখে অতীত সমৃদ্ধি,আকিঞ্চন অন্ধকার
কবিতাশ্রিত জীবন ফিরে আসে ঝর্ণা,বনাঞ্চল ও পাহাড় পার হয়ে

হলুদ সোনার পাত

অন্তহীন রাত এবং দিনের বিভাগে আজ স্পষ্টতঃ সন্দেহ

পাপ থেকে পাপের স্খালনে ভেসে আছি আসমুদ্র জলে
সূর্যশোকে গলে গলে কলুষমাখানো দুই হাত তুলেছে বিপুল জলস্তম্ভ

মানবজন্মের নামে যত আবর্জনা জমে আছে
পচাগলা হাতে জোনাক পোকার লাশ বের করে আনি
অন্ধকার বাঁশবন,স্রোতঃজ্যোতি,---প্রেতকাজ ফেলে গেছে

নির্জন শশ্মাণ ভূমি আমার হৃৎপিন্ড মুড়ে দেয় হলুদ সোনার পাতে

সোমবার, ৩ মার্চ, ২০১৪

উদাসীন মানচিত্র

আমাদের সুদূরতম উৎসব শেষ হয়ে গেলে নিরভিমান সময়ে
উঠে এসেছিলাম,ডাঙায়।অনপেক্ষ জল অবধারিত নিয়তি
মিশ্রণের অবিমিশ্র রীতি ভেঙে ভেঙে বালির গভীর তলে
নিমগ্ন সংহত প্রার্থনায় সনাতন জল
শিখরে পাষাণ বেঁধে স্বেদাক্ত গহ্বর---
তার কিছু চিহ্ন,রক্তপাত দুই পায়ে।

দগ্ধীভূত ঘাস ও উদ্ভিদ,ক্রমাবনতির অক্ষরে ছায়ার টান।
প্রতিসাম্যতার বসন্ত আসবে কোন পথে?
বালুঝড়ে ওড়ে দ্বরব্যঞ্জন,বিষাদছায়া ঢেকে রেখেছে ছদ্মনাম
পরান্মুখ কবিতাশ্রয়ী জীবন,লৌকিকতা,সন্দেহতাড়িত অবিশ্বাস।
দাউ দাউ জ্বলে যাচ্ছে ফুলভর্তি জবাগাছ
মাতাল স্বামীর জন্যে জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে থাকে যে রমণী
তার স্বপ্ন--পায়ে শেকড়,মাকড়সার জাল জমে ওঠে।

মধ্যযুগ শেষ হয়ে গেছে,আধুনিকতা ধ্বংসের পথে
উত্তরাধুনিকতার এখন শৈশবকাল।
দু'হাতে খামচে ইতিহাস গড়িয়ে গড়িয়ে

উদাসীন মানচিত্র---এর পরে যাদের আসার কথা
ন্যুনতম ঘাসবিন্দুটুকু জমিয়ে রেখেছ?


অনন্ত ঘূর্ণিপাক

ভুলে গেছ শিয়ালমুতি গাছের ঘ্রাণ
কুটুমপাখি,শুকানো কুঁচফল

সবুজ পাতায় ভরে ওঠে শালগাছ
যতদিন না বিবর্ণ ধরে আছি পাতার মর্মর
মেঘাতুর পাহাড়চূড়ায় একদিন স্পর্ধিত দু'হাতে
তোমাকে ছুঁয়েছিলাম

শহরে উনুন জ্বলে,ধোঁয়াহীন
প্রতিবেশীদের নিন্দা গায়ে মেখে
ছেলেবেলায় কাশবনের পাশে কত কেঁদেছিলে
মনে পড়ে

আজ চোখের ভেতর কুঁড়ি মেলা পদ্ম
হাতে স্নেহময় উল
ক্রুশের পেরেক খুলে যীশুকে নামিয়ে পথে
অপর অনন্ত ঘূর্ণিপাক

যীশু,অসহায়  তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে