Powered By Blogger

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০১৫

মানুষ ও পাখি

প্রার্থনার স্তব ফেটে পাকিয়ে উঠছে ধূলো ভাঙা রথ,শিরস্ত্রাণ,- ত্রেতা থেকে কলিযুগের সূর্যাস্তে সেই একই রঙ মানুষ মরছে কুরুক্ষেত্রে আর গন্তব্যে পৌঁছার পূর্বে - অভিশাপ তাকে আজও কাছে টানে পালাবার পথে সুড়ঙ্গ - হাড়ের নৌকা কে দাঁড় টানছে দুই পায়ের কলঙ্ক মুচে জলের উপরকার চরে ছায়া ও চন্দ্রিমা মুখোমুখি স্নান এবং কলহাস্যে তাড়া করে মানুষ ও পাখি

ছায়া ও চন্দ্রিমা

ছায়া ও চন্দ্রিমা ঘেরা উঠোন তোমার আমার লেখার দুই ধারে কাঁটাবন যে আগুন জ্বালিয়েছ পোড়া ছাইটুকু বাদ দিলে.....সারাঘর আলোকিত বারান্দাময় অলীকস্বপ্ন তবু সকালকে কাঁধে তুলে বসে থাকি ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলবো বলে

পরমাণু ঘড়ি

পরমাণু ঘড়িতে সকাল ন'টা শাহবাগের রাস্তায় ট্রাফিক ছুটছে থেমে আছে সমস্ত শহর 'তোমাদের গন্তব্য কোথায়?' ভীড় করে আসে সুযোগসন্ধানী কিছু প্রশ্ন মুখ খোলবার আগেই সবুজ বাতি ঢাকা ক্লাবের ধারের ফুটপাত ঘেঁষে বসে থাকা অর্ধলিঙ্গিনী ভিখারী মহিলাটি আমার মা আর রমনার লেকে যে মেয়েটি শুধু শায়া পড়ে পাড়ে শাড়ী শুকাচ্ছে;সমস্ত রাত এই শহরের লাম্পট্যের তৃষ্ণা মিটিয়েছে - সে যে আমারই বোন গতরাতে ওর শরীরের প্রতিটি আঁচড়ে,আর্তনাদে বাসী এক ধর্ষণের মুখোমুখি তোমাদের সভ্যতা থমকে আছে

আহ্লাদ ও পুনরুথান

যে সারল্য তোমাদের মজ্জাগত আলোছায়াময় টানাদিন এবং আমার ভেতর যে আনন্দ,- তা শুধু রক্তের,তা শুধু মদের উপকারী সমাজ বিজ্ঞানে যথেষ্ট অসত্য এবং গূঢ় লৌকিকতার আড়ালে লুকানো আগুনে পোড়া ক্ষত সম্ভবতঃ আজ,কাল কিংবা আগামী পরশু বাতাস ও জোয়ারের টানে স্বচ্ছলতা ভেসে যাবে অঙ্গুলিনির্দেশকারী রাজপুরুষেরমুর্তি ও স্থাপত্যে নূতন বিহগপথ আহ্লাদ ও পুনরুথানের

গ্রামান্তরের গান

গভীর অন্ধকারের গ্রাম গন্ধ শুঁকে উঠে আসছে প্রেতেরা রক্তে,অশ্রুপাতে এবং অপমরণের আগে শ্মশান অবধি যারা যেতে পেরেছিল হাতে সামান্য জ্বালানী চন্দনপাতা,উল্টানো চোখ,আধপোড়া নাভী ও হৃৎপিন্ড মারী ও মড়কে কত গ্রাম,কত শহর উচ্ছন্নে গেল ভেদবমি,ডেঙ্গু,কালাজ্বর - মরা লোকালয়ে চাঁদ জ্বলে নদীর এ পারে গান থেমে আছে পঙতিতে পঙতিতে দুঃখ আর অইদিকে আকাশে আকাশভরা তারা গান পৌঁছে গিয়েছে জলের স্তর পার হয়ে ঐ দিকের গ্রামান্তরে

ছাইমাখা নাচ

আগুনের সক্ষমতা আছে নিমেষে পুড়িয়ে ছাই করবার সাদা কিংবা কালো আগুন বোঝে না হাহাকার,আর্তনাদ,ঘরপোড়া অন্তর্জ্বালা দেখেছ কি ভাবে সূর্যশরীরে কবিতা লেখা হয়েছিল প্রার্থনার ফুল ঝরে পড়েছিল অরুণোদয় হৃদয়ে,সান্ধ্যসঙ্গীত ও স্তবে,দাবদাহে কেমন ঝলসে গিয়েছিল হৃদয়ের সেই পোড়া ছাই আজও বাতাসে ভাসছে শ্মশানের চন্ডাল নাচছে,ছাইমাখা নাচ

সোমবার, ২০ জুলাই, ২০১৫

নূতন ভাষায় গান ও কবিতা

বেদনা ও বিদ্রুপের বিরোধাভাসে আমার ছায়াটাকে অনুভব করে যখন তোমরা ডানা মেলে দিয়েছিলে - প্রতিযোগীদের ঈর্ষা-মাখা হাসিতে আকাশ ভরে গিয়েছিল নিন্দুকের আর ইউক্যালিপটাসের মতো দীর্ঘ আমার ছায়াটা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রকায় হয়ে মিশে যাবার প্রাণান্তকর চেষ্টায় - যা হয়ে থাকে সচরাচর;উদ্বাস্তু দিন এবং রাতের নির্ভার ঘুমের ভেতর স্বপ্ন ও অভিমানের সহাবস্থানে দ্ব্যররথদোতক হাসি - জননেরে আলোড়নে সু-পরিকপ্লিত মিথ্যাচার কিভাবে নিন্দুকদের মর্মমূল খুঁড়ে অবিমৃশ্য বালিতে নিশীথ জ্যোৎস্ন কিংবা নূতন ভাষায় গান ও কবিতা লেখা যায়