শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৪
নব্বই দশকের কবিতায় উত্তরাধুনিক চেতনা
।।অলকা নন্দিতা।।
ভাষা,সম্পূর্ণভাবে যৌক্তিকতা-নিমগ্ন,উত্তরাধুনিক চিন্তা-চেতনার কবি অলকা নন্দিতা বস্তুজগৎটাকে অস্বীকার করেন না বরং বস্তুর প্রতিফলন ঘটায় সৃষ্টিধর্মী পরিকল্পনায়।আত্ম-সমর্পিত কবিতা লেখার প্রবণতার দিকে এগিয়ে থাকা এ কবি কবিতার অবয়ব জিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা,ধ্যান নিমগ্নতা বা নৈসর্গিক সংলগ্নতা এবং তাৎপর্য্যময় আত্ম-কথনের কবিতায় নিত্যদিনের টানাপোড়ন,দ্বন্দ্ব এবং অপেক্ষার ক্লান্তিতে জড়িয়ে থাকা স্বপ্নের গভীর সুড়ঙ্গপথ পার হয়ে অবাক বিস্ময়ে দেখতে পান আনন্দ এবং উজ্জ্বলতা।
উত্তরাধুনিক কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য একরৈখিকতার কেন্দ্রকে গুড়িয়ে দিয়ে বহুরৈখিক কবিতা বিনির্মাণঃ
বর্ষা এলে সাপাতঙ্কে কাটে রাত।বাইরে বেরুলেই পিছলে যাওয়ার ভয়।সাপেরা পিচ্ছিল পথ ভালোবাসে।ফণা তুলে অন্ধকার গলি খোঁজে।বর্ষায় রাতও নামে দ্রুত।সন্ধে লাগতেই নিভে যায় আলো।জানলার কাচ ভেঙে বৃষ্টির জল ঢোকে।ভিজে যায় বইপত্র,তোষক চাদর।বসে থাকি হারিকেন জ্বেলে।যদি বৃষ্টি ধরে ঘুমাব এবার।
(সাপাতঙ্ক)
আধুনিক জীবন খুব বেশী সহজ নয়।পারিপার্শ্বিক আবহমন্ডল ক্রমেই জটিল করে তুলেছে ।যান্ত্রিক সভ্যতা জীবন-যাপনকে জটিল ও নিয়মের শৃঙ্খলায় বেঁধে ফেলতে চাচ্ছে।তাতে করে মানুষের জীবন বৈচিত্র্যহীন হয়ে পড়েছে,পড়েছে বর্ণহীন হয়ে।উত্তরাধুনিকেরা সনাতন ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়ে নৈরাশ্যবাদী হয়ে উঠতে পারেঃ
আমি তো ওরাং জাতি,বৃক্ষবাসী
বৃক্ষের পাতায় লেগে আমর জন্মের
পূর্বে বৃক্ষ ছিল,ফুল পাখি লতা ছিল
বিবর্ণ,বন্ধনহীন,
মধ্যে আমি
প্রত্মজীব)
বিনির্মাণ বা de-construction এর নিকটতম শব্দ বিশ্লেষণ বা analysis.জ্যাক দেরিদার বলেছেন,পাঠ প্রকৃতির মধ্যে নিজস্ব নিয়মেই তৈরী হয় তার অনুবিশ্ব এবং সেই অনুবিশ্ব সমগ্রের স্মৃতি নিয়ে জেগে থাকে যে সব টুকরো টুকরো চিহ্ন বা স্মারক,বিনির্মাণের ধারায় তাদের ওপর সমীভূত হয় মননশীলতার আলো অর্থাৎ এ সব পাঠে আপাত প্রচ্ছন্নতার চূর্ণ ভস্ম থেকে উঠে আসে এক সমগ্রের উজ্জ্বল আলোকিত মিনারঃ
এইমাত্র খবর পেলাম অস্ত্রহীন যুদ্ধে তার কেটে গেছে সারারাত।ঝড়ের বেগে
কামাল এগিয়ে এলে সহজেই ধরাশায়ী হয় প্রতিপক্ষ।পলিমাখা নদীর সীমানা
ভেঙে পড়ে নিমেষেই।লন্ডভন্ড ধানক্ষেত,বন্ধ ঘরের কবাট।
(সঙ্গম)
সময়ের এক অবাস্তব যাদু দিয়ে গড়া আজকের এ পৃথিবী।বাস্তবতা পেরিয়ে যায় আঙ্গুলের ফাঁক গলে।প্রকল্পনার স্বচ্ছ চাদরে ঢাকা পড়ে যায় যাবতীয় তথ্য ও তত্ত্ব।কূটাভাস থেকে কূটাভাসেই যায় পরিভ্রমণ।তারুণ্যদীপ্ত অভিজ্ঞানে ছদ্ম এ সময় বিষদাঁত বিধিয়ে রাখে।ঊষর পৃথিবী ধরা দেয় উত্তরাধুনিক চেতনায়ঃ
মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতিও দ্রুত রং বদলায়
বর্ষায় দেখে আসা দুগ্ধবতী সুবলং যেন
শীতে শীর্ণ হয়ে আসা এক নারী
ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে চোখের সামনে
নির্বাক,নিশ্চুপ;
(শীতের সুবলং)
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন