Powered By Blogger

মঙ্গলবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৩

অমোঘ মৃত্যু

স্তবের মুহূর্ত ফেটে বের হয়ে আসা পরিত্রাণহীন রাত্রিতে আমার বিষাদিত আত্মা
জাগতিক বোধের অতীত পার হয়ে স্খলিত প্রতিটি পদক্ষেপে প্রত্যয়হীন এগোতে থাকে
সূর্যালোকিত মৃত্যুর দিকে,অসহনীয় উত্তাপে জীবনের আনন্দ সঙ্গীত গাইতে গাইতে।

নিশ্চিত ভাবেই জানি,প্রকৃতির অমোঘ বিধানে মৃত্যু তবু আমি ভীত কেন?
মৃত্যু,এসো।আমাকে জড়িয়ে ধরো দয়িতার গাঢ় আলিঙ্গনে।

আহ্নতি


নাক্ষত্রিক পরিমন্ডলের ধাঁর ঘেষে প্রগাঢ় বিষাদময়তার দাঁড় টেনে
প্রত্যাশাবিহীন অজস্র বাতাসে ভেসে চলেছি না থেমে আছি বোঝা যাচ্ছিল না
অবিমৃশ্য হৃদয় ধ্বণিত অভিপ্রায় অনায়াসে সমকালের দেয়ালে ছায়া ফেলে
বেদনাময় গাছের পাতা প্রস্বেদনের মাধ্যমে শুষে নেয় বিষাক্ত প্রশ্বাস
পালাবার পথ খোলা নেই তবু কাঁটাজঞ্জালের স্তুপ পার হয়ে
ঋতুহীন নগর উৎসবে মেতে আছে;সৌরদূলোয় মাখানো বন্ধ্যা দিনের নিঃস্বন
চিতা থেকে দু'হাত বাড়িয়ে ডাকে,'এসো, ধ্বংশস্থিত জীবন আহ্নতি দিয়ে দাও।।'

ভিক্ষুক প্রভূ

কিছু ভিক্ষুক দূয়ারে জড়ো হয়ে ঈশ্বরের স্তব করে দয়া চাচ্ছে এবং
আমার পকেটে মাত্র একটি মুদ্রাই আছে।

যদি তা বিলিয়ে দিই যে কাউকে তবে
(দিতে তো একজনকে হবে!)
অন্য ভিক্ষুকেরা এবং আমি তার দাসে পরিণত হব।

রবিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৩

পরিযায়ী প্রেম


পরিযায়ী প্রেম উড়ে এসে বুভুক্ষু এ ঠোঁটে চুমু খেলে
নিঃসীম আকাশ থেকে নেমে আসা
তুচ্ছ বেদনা ঘনিয়ে ওঠা বুকের জমিন থেকে
আমার রক্তকণার কবিতারা ছেড়ে যায়
পান্ডুলিপি সাদা করে অভিমানিনী বধূর মতো
ধূলোতে লুটিয়ে থাকে।

যন্ত্রণার পাকে পাকে হৃদয় মন্থন করে
ফোঁটা ফোঁটা রক্তের মেঘেরা ভীড় করে আসে।



'দূর কোন দেশে নিয়ে যাব,' এ কথা বলেছিলাম
পৃথিবী তখন অপলক চেয়েছিল
মেঘের মতোন ঠান্ডা,পান্ডুর চাঁদের মতো
বিবর্ণ মুখের দিকে।

উপেক্ষাতে ভরা নক্ষত্রের দীর্ণ শ্বাসে
আকাশের কোণে জমে ওঠা পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘ
শুধুই আগলে রাখি বুকে।

বিরহের প্রশান্তিতে এত সুখ!

সুর

একতারা দোতা সেতারা
এক দুই তিন তারের বন্ধনে
সুর বেরোয় হাজার।

শুক্রবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৩

বামন সম্পাদক

প্রগাঢ় মনোযোগের সাথে
পাঠকের জন্যে লেখা আমার কবিতাগুলো সাময়িকির বামন সম্পাদক
বাতিল ঘোষণা করে বললেনঃ সূক্ষাতিসূক্ষ্ম অনুভূতিসম্পন্ন কবিতার চেয়ে
বিমূর্ত প্রকাশবাদী শিল্পচিন্তা নিয়ে কিন্তু ভেবে দেখতে পারেন।

শিল্পের নিজস্ব প্রয়োজনে কবিতার ক্রমঃবিবর্তনের সরেস ইতিহাস
বিষয়ক আলোচনায় না গিয়ে ফিরে আসার প্রাক্কালে
তিনি লেখাগুলো ফেরৎ না দিয়ে ব্রিফকেসে ভরলেন।

বাড়ি ফিরে অর্থ বুঝবেন বলে।

বুধবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৩

সুস্থিত বিশ্বাস

জলমগ্ন দাঁড় অবিরল টেনে নেয় নৌকার সুষম ভার
আশ্বাস-সংশয়ে পরিপূর্ণ জীর্ণ পাল প্রত্যাশাহীন বাতাসে ঢেউ তোলে
সুস্থিত বিশ্বাস নিয়ে ঘুমহীন ঘুমের ভেতর
মহাজাগতিক বোধের অতীত থেকে এসে দাঁড়ালাম জীবনের স্রোতে

রোদ তেতে ওঠা চারিদিকে সবুজ আগুনে জ্বলে বন
বল্কলে বিল্কলে ঘষা লেগে নগ্ন বৃক্ষের হৃদয় উড়ে যায় উদ্বেল আকাশে
নিশ্চিত ভাবেই জানিঃকালপুরুষের নির্দেশিত পথেই আশ্রয়
ডানায় অসুখ নিয়ে 'বউ কথা কও' পাখি খুঁজে ফিরছে গতরাতের ফেলে আসা ঘর
ঘরের নৈরাশ্য মিশে থাকে অস্ত্বিতের অস্থিতে,মেঘেরা গিরে রাখে তাদের আশ্রিত আকাশকে
জলভারানত মেঘেরা নাচবে বলে রাতের রমণে তৃপ্ত কোন কোন প্রোষিতভর্তৃকা
তার আঁচল বিছিয়ে রাখে
বৃষ্টিতে ভিজবে,এসো বলে ডাক দেয় লজ্জাতুর যৌবনকে

জীবন যে এতো বেশী ছন্দময়!