Powered By Blogger

বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১২

বর্ণহীন



চারিদিকে অসহ্য রঙের ছড়াছড়ি
অথচ আজন্ম আমি বর্ণহীন

ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ্ব,উত্তাল সাগরের মতো ফুঁসে উঠি
টকটকে লাল রঙা বিকিনি মোড়া
অনাবৃত দেহগুলো দেখে

বুল ফাইটিঙ দেখেছঃ
দুরন্ত ষাঁড়কে লাল কাপড়ের টুকরো দেখিয়ে
কেমন খেপিয়ে তোলে ম্যাটাডোর

রক্তাভ যৌবনে
কতবার তোমাকে রঙ্গীন পোষাকের ভার থেকে
মুক্ত করে দেখেছি জনন প্রদেশের
গভীরে গোলাপী বিচ্ছুরিত আভা
ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মতোন
ছিন্নভিন্ন করেছে তোমাকে

শুক্রবার, ৬ জুলাই, ২০১২

অবহার কাল


এখন অবহারের কাল
চন্দন মিশ্রিত জলে স্নান সেরে স্বস্ত্যয়ন করে এসো
মিশে যাই পরস্পরের ভেতর।

সুর্যোদয় হলে ‘পরে বৈতালিকদের স্তব
মাঙ্গলিক গীতবাদ্যের ধ্বণিতে হোম শেষে
পূণর্বার দ্বৈরথে মিলিত হব কুরুক্ষেত্রে।


দুর্যোগ

অত্যুজ্জ্বল অন্ধকারে ভুলে ভরা স্বপ্ন
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়েছে অক্ষিগোলকে
মানুষেরা ভুল স্বপ্ন সময়ের অবাস্তব চাঁদরে জড়িয়ে
রাখে আপাদমস্তক;চোখের সমুদ্রে কেউ কেউ
নিদ্রার নির্বোধ নৌকা নোঙরবিহীন ভাসিয়ে রাখে
দুঃস্বপ্নের আনাগোনা ঠেকাতে অথচ সূর্য্য
ঠিকঠাক সৈকতের নরম বালিতে লিখে যায়
দুর্যোগের নাম।

শুক্রবার, ২৯ জুন, ২০১২

নিঃস্ব

অত্যুজ্জ্বল অন্ধকারে রোদ মাখানো স্বপ্নেরা সময়ের অবাস্তব চাঁদরে জড়িয়ে
রাখে আপাদমস্তক;মানুষের ইতিহাসে উপমাময় দিনের স্বাক্ষ্য দেয় শুধু
অক্ষরবৃত্ত ছন্দের সু-সংহত বর্ণনায় বসন্ত দিনের গান।এই যে এখন
প্রায় অন্ধকার কিংবা বসন্ত দিনও নয়,আকাশে দিনের সূর্য্য ডুবে গেছে কবে
উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলো এক হয়রানিকর,কেবল প্রহেলিকার জন্ম, দিতে থাকে।
শালকী নদীর তীরে সুমুদ্রিত ঘাসগুলো ফাল্গুনের সশব্দ বাতাসে ওড়াওড়ি করে
এটাই এ জীবনের বসন্তের অভিজ্ঞতা ঊষর কৈশোর কালে ছবি এঁকেছিল

ক্রমঃ বিবর্তন মেনে অমিল পয়ারছন্দ থেকে অমিত্রাক্ষছন্দ বা অক্ষরবৃত্ত- এ
থেমে না থেকেই সব চলে যাবে ছন্দহীন উত্তরাধুনিক গদ্য কবিতার রাজ্যে
আধুনিক মানুষেরা ব্যর্থতার বোধে ক্রমে নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতরে পরিণত হবে

ভবিতব্য

নীলনদের বন্যার সাথে স্বর্গীয় নক্ষত্র সোথিসের
কি সম্পর্ক মিশরীয় পুরোহিতেরা তা জানতেন
মানুষের কপালে কি লেখা আসিরীয়দের সাথে তা দেখেছিলাম
মহাকাশের নক্ষত্রমন্ডলীর মাঝে আর তারও অনেক আগে
গুহাবাসের সময় থেকে চাঁদের কলার হ্রাস-বৃদ্ধির মতোন
স্পষ্ট ঘটনা এড়িয়ে যাই নি,---
অথচ এখন আমি কোনো তারাই চিনি না

এই শহরের 'পরে কোন আকাশই নেই
কংক্রিটের ছাদে মাথা কুটে মরে সকালের রোদ
কোনো কোনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে
দয়িতার গাঢ় আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে
ঘুমন্ত শিশুপুত্রের মুখে চুমু দেই

এটাই আমার ভবিতব্য

সোমবার, ১৮ জুন, ২০১২

অপরিচিতা

তার চোখের দ্যুতিতে সমুদ্দুরের বিষাদ ঝরে পড়ছিলো
গোধূলির বিষন্নতা কাজলের আলপনা হয়ে ছিল তার
স্বচ্ছ,কালো দুই চোখে ;রক্তের দাগের মতো ক্ষয়াটে,বিবর্ণ
মৃতুর নিস্তব্ধতায় কবরের প্রশান্তিতে গাঢ়,অন্ধকার
ভেজা বাতাসের লোনা চাহনীতে ঝরছিল নিঃসীম শুন্যতা
পাথুরে কাঠিণ্যতায় থমথম করছিল তার চোখমুখ
য্যানো বা ঝড়ের পূর্বে নৈসর্গিক স্তব্ধতায় সমুদ্রের কূল
উপকূলে ঝাউশাখে বাতাসের আর্তনাদে ছন্দিত কান্নার
সুরে উথাল পাথাল উষ্ণ দীর্ঘশ্বাসে
রক্তের স্ফুরণে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছিল তার শিল্পিত হৃদয়
গোক্ষুর সাপের কান পাতার উৎকীর্ণতায় স্পর্শ করলাম

খোলা জানালা পেরিয়ে রোদ্দুরের স্বপ্ন
আন্দেজ পর্বতে বাঁদা পেয়ে ফিরছিল
রিক্ততার হাহাকার,একাকীত্বের যন্ত্রণা মিছিলে মিছিলে
উন্মুখর শরীরের শিরা-উপশিরা ব্যেপে ট্রেনের একই
কামরায় সে ও আমি মুখোমুখি সহযাত্রী যোজন দূরত্বে
বইয়ের ফাঁকে চোখ রেখে চোরা চাহনীতে তাকিয়ে ছিলাম
মুগ্ধতায় মোহাবিষ্ট তন্ময় পুরুষ
প্রগাঢ় চোখের ভাষা সরল গদ্যের মতো পড়ে যাচ্ছিলামঃ
অন্ধকারময় শুন্য সুড়ঙ্গে,নি;সঙ্গতায় আবাস গেড়েছে
ধূসর অতীত কোনো;যা হারিয়ে গেছে
কিংবা হারায় নি এখনও সেইসব স্মৃতিগুলো
যাবজ্জীবন মেয়াদে দন্ডপ্রাপ্ত স্মৃতির ভাঁড়ারে
রেল সড়কের পাশে বাবলার বন ভেদ করে
বিকেলের সূর্যরশ্মি মাঝে মাঝেই ঝলসে উঠছিল তার
পোষাকের ভাঁজে ভাঁজে;অবিশ্বাসী বাউল বাতাসে
খসে পড়ছিল তার শাড়ীর আঁচল
তার শরীর নিঃসৃত জৈবনিক ঘ্রাণের সুগন্ধে
আআর বুকের মধ্যে শিষ দিয়ে উঠল দোয়েল
মাঝ সমুদ্দুর থেকে প্রবল উন্মত ঢেউ আছড়ে ফেললো
উপকূলের নরোম,সিক্ত বালুতে মুহূর্তে প্রভাতিক,স্নিগ্ধ
শিশিরের শুভ্রতায় পরিপূর্ণ হয়ে গেলো আমার হৃদয়
চারদিক ভরে গেলো নান্দনিক জোছনার প্লাবনে
এবং শেষ হয়ে এলো বিনিদ্র প্রহর
মনে হচ্ছিলো কাঙ্খিত প্রার্থনার প্রার্থিত মুহূর্ত
সমুপস্থিত এক্ষণে;তার নীরব দৃষ্টিতে আমি দ্রবীভূত
হতে থাকি,---অতঃপর ভালোবেসে ফেললাম অপরিচিতাকে

ছন্দসিক ছন্দে দীর্ঘ রেখা টেনে ছুটে চলে ট্রেন

০১.০৫.১১
উত্তরা,ঢাকা।

চোখের জল

বুকে চিনচিনে ব্যথা
হলুদ শাড়ীতে বেশ মানিয়ে গিয়েছ
বুকে চিনচিনে ব্যথা
মেহেদী রাঙ্গানো হাত দেখে ম্লান গোধূলির আলো
বুকে চিনচিনে ব্যথা
শরতের কাশবন হার মানে খোপায় জড়ানো বেলী ফুলের মালায়

চোখের জলের আর কতটুকু দাম
নোনা স্বাদটুকু ছাড়া