Powered By Blogger

সোমবার, ১৮ জুন, ২০১২

অপরিচিতা

তার চোখের দ্যুতিতে সমুদ্দুরের বিষাদ ঝরে পড়ছিলো
গোধূলির বিষন্নতা কাজলের আলপনা হয়ে ছিল তার
স্বচ্ছ,কালো দুই চোখে ;রক্তের দাগের মতো ক্ষয়াটে,বিবর্ণ
মৃতুর নিস্তব্ধতায় কবরের প্রশান্তিতে গাঢ়,অন্ধকার
ভেজা বাতাসের লোনা চাহনীতে ঝরছিল নিঃসীম শুন্যতা
পাথুরে কাঠিণ্যতায় থমথম করছিল তার চোখমুখ
য্যানো বা ঝড়ের পূর্বে নৈসর্গিক স্তব্ধতায় সমুদ্রের কূল
উপকূলে ঝাউশাখে বাতাসের আর্তনাদে ছন্দিত কান্নার
সুরে উথাল পাথাল উষ্ণ দীর্ঘশ্বাসে
রক্তের স্ফুরণে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছিল তার শিল্পিত হৃদয়
গোক্ষুর সাপের কান পাতার উৎকীর্ণতায় স্পর্শ করলাম

খোলা জানালা পেরিয়ে রোদ্দুরের স্বপ্ন
আন্দেজ পর্বতে বাঁদা পেয়ে ফিরছিল
রিক্ততার হাহাকার,একাকীত্বের যন্ত্রণা মিছিলে মিছিলে
উন্মুখর শরীরের শিরা-উপশিরা ব্যেপে ট্রেনের একই
কামরায় সে ও আমি মুখোমুখি সহযাত্রী যোজন দূরত্বে
বইয়ের ফাঁকে চোখ রেখে চোরা চাহনীতে তাকিয়ে ছিলাম
মুগ্ধতায় মোহাবিষ্ট তন্ময় পুরুষ
প্রগাঢ় চোখের ভাষা সরল গদ্যের মতো পড়ে যাচ্ছিলামঃ
অন্ধকারময় শুন্য সুড়ঙ্গে,নি;সঙ্গতায় আবাস গেড়েছে
ধূসর অতীত কোনো;যা হারিয়ে গেছে
কিংবা হারায় নি এখনও সেইসব স্মৃতিগুলো
যাবজ্জীবন মেয়াদে দন্ডপ্রাপ্ত স্মৃতির ভাঁড়ারে
রেল সড়কের পাশে বাবলার বন ভেদ করে
বিকেলের সূর্যরশ্মি মাঝে মাঝেই ঝলসে উঠছিল তার
পোষাকের ভাঁজে ভাঁজে;অবিশ্বাসী বাউল বাতাসে
খসে পড়ছিল তার শাড়ীর আঁচল
তার শরীর নিঃসৃত জৈবনিক ঘ্রাণের সুগন্ধে
আআর বুকের মধ্যে শিষ দিয়ে উঠল দোয়েল
মাঝ সমুদ্দুর থেকে প্রবল উন্মত ঢেউ আছড়ে ফেললো
উপকূলের নরোম,সিক্ত বালুতে মুহূর্তে প্রভাতিক,স্নিগ্ধ
শিশিরের শুভ্রতায় পরিপূর্ণ হয়ে গেলো আমার হৃদয়
চারদিক ভরে গেলো নান্দনিক জোছনার প্লাবনে
এবং শেষ হয়ে এলো বিনিদ্র প্রহর
মনে হচ্ছিলো কাঙ্খিত প্রার্থনার প্রার্থিত মুহূর্ত
সমুপস্থিত এক্ষণে;তার নীরব দৃষ্টিতে আমি দ্রবীভূত
হতে থাকি,---অতঃপর ভালোবেসে ফেললাম অপরিচিতাকে

ছন্দসিক ছন্দে দীর্ঘ রেখা টেনে ছুটে চলে ট্রেন

০১.০৫.১১
উত্তরা,ঢাকা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন