Powered By Blogger

মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৩

শব্দ ও ধ্বণি

যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল
বল পয়েন্টের লেখা পাতা থেকে কালো অক্ষরেরা উঠে এসে তা পোড়াচ্ছে
ঘাস মাটি পাথর সবুজ ক্ষেত
অম্রৃত চোখের সমুদ্দুরে সে এক অস্থির মুখরতা
ব্যাকুল তা যে এমন স্নিগ্ধ----হৃদয়হীনতার যন্ত্রণা
পুকুর পাড়ের ঘেঁটুঝোপ ঘুরে গেঁয়ো সন্ধ্যা বেলাকার মাঠের চিৎকারে মিশে যায়
শব্দ ও ধ্বণির পৃথিবীতে---রক্তের শেকড় বেয়ে নেমে আসে ছন্দ
মাঝরাতের অব্যক্ত কষ্টগুলো গান হয়ে উড়ে যায়
আর ঋদ্ধ করপুট থেকে ঝুরঝুর করে ঝরে পরে
ক্ষত-বিক্ষত অক্ষরগুলো

সোমবার, ৩ জুন, ২০১৩

আসন্ন জোয়ার

সেইসব দিন গত হয়েছে সুখের পরপারে
দুঃখের ওপারে নক্ষত্রখচিত প্রতিহত পথ জেগে ওঠে
গোধূলির অনন্তসন্ন্যাসে কোথায় গিয়েছিলাম
জানা নেই দীর্ঘতর বটের জটিলঝুরি সমকালে চাবুকের শিষ শোনে
আর লাল আগুনে ঝলসে ওঠে কাল মহাকাল

যে পাথরে তুমি দাঁড়িয়ে আমাকে একটানা ডেকে গিয়েছিলে
সেই পাথরটা আজ আর পথের ওপর নেই
আমি তার ভেঙে পড়া দেখেছি আষাঢ়ে স্রোতে
প্রিয় যত গান বাধাঁনো খাতায়----সেগুলোও

সৈকতের ঝাউবনে যারা হেঁটে যায় দূর পূর্ণিমাসন্ধ্যায়
দেখে যাও
ওরা মগ্ন হয়ে আছে অমর্ত্য ফুলের
সৌরভে;পূরনো ঘর ভেসে যায় আসন্ন জোয়ারে

প্রাকৃতিক গান

একদিন যে সমস্ত গান পৃথিবীময় গেয়েছিলাম
পাথরের বুক থেকে তার সুর আজো জেগে ওঠে
এত গাঢ় অন্ধকার----স্তব্দময় এ জীবন
ঝড়ে ক্লান্ত,নিরালোক----এক একটি সুরের জন্ম
এক একটি অরণ্যে----ফুলের ওপর নত
ফুসফুস ভরে শ্বাস নিয়েছি মহুয়া আর ধানের বাতাসে
এতসব সুরের,ছন্দের জন্মে----
পরিযায়ী পাখিদের অস্থিরতাও উৎসবে শেষ হয়

দ্বিপদী রাশি

আমাদের যুথবদ্ধ দিনগুলো চোখে জল নিয়ে
ফিরে গিয়েছিল কবরখানার পাশ দিয়ে

কুয়াশায় মোড়া সারি সারি কবরগুলো শীতল অন্ধকারে ডুবে থাকে
আর হিম হয়ে আসে মৃতদের শ্বাসে

যখন জীবন ছিল সেইসব মৃত মানুষেরা
ছুঁয়েও দেখেনি কতটুকু উষ্ণতা জীবনে

তবে কি জীবন আর মৃত্যুর পার্থক্য
শুধু আপেক্ষিক সীমারেখাতে আবদ্ধ থেকে যাবে

সৃষ্টির দরোজা খুলে মৃত্যুকে ডেকেছি
অপব্যয়ে অপব্যয়ে ক্ষয়ে গেছে এ জীবন

শনিবার, ১ জুন, ২০১৩

অন্তহীনতা

দিনরাতের সীমানা পার হয়ে মহাশূণ্যে যখুনি বিলীন হতে চেয়েছি অমনি
ঘনঘোর মেঘগুলো তীব্র আক্রোশে আমার চোখে মুখে চেতনায় আঘাতে আঘাতে
বিপুল পৃথিবীময় পাথরের বুকে আছড়ে ফেলেছে।এখন বাতাস ভরে আসে
পঞ্চমুখী শাঁখ।উন্মাদ ঝড়ের কাছে বিশীর্ণ আঙুল তুলে অস্তিত্বকে ফিরে পেতে,
মহাজগতের কোন স্তরে আমার স্বপ্নেরা অন্য সংসারের অসুখে কতটা ক্লান্ত?
আমি জানতে চেয়েছিলাম---সুনির্মল নির্জনতায় শূণ্যের কাছাকাছি সৃষ্টিশীল
ক্ষমতাও কি অন্তহীনতায় খসে পড়ে?

সমুজ্জ্বল প্রতিশ্রুতি

গোধূলির কাল পার হবার আগেই,---
তোমার নির্জন  প্রতিশ্রুতিগুলো মৃত মাছের মতোন ভেসে উঠেছিল।নিভৃত আকাঙ্খা
বুকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম মাঠের শুকনো আলপথ ধরে।অগ্নিকোণে
আমাদের প্রতিবিম্ব উজ্জ্বলতার ভেতর এক নূতন মাত্রার সৃষ্টি করছিল।
আমাদের অনুভবে ছিল তৃষ্ণার শিখর,পায়ে ছিল না দ্বিধার টান;যে পাখিরা
পালক খসিয়ে উড়ে যাচ্ছিল আমরা সেই পথেই আখরোটের বীজ বুনে দিচ্ছিলাম।
মৃদ্যু বাতাসকে ঘুরিয়ে দিয়েছিলাম পুকুরের নীলচে জলের ঘাটে;যেখানে আজও
হিরণ্ময় বুদবুদগুলো ভবিষ্যতের আল্পনা এঁকে দেয় কূল বধূদের ঘটে ঘটে।

জল জোছনায় মাখা তোমার দু'হাত সমুজ্জ্বল প্রতিশ্রুতিতে অনুরণন তুলেছিল।

আক্ষেপ

যমুনার ঢেউয়ে ঢেউয়ে সারি সারি নৌকা;দীর্ঘ মাস্তুলে মাস্তুলে
জমে ওঠে অভিমানের কুয়াশা
দ্বাদশীর পূর্ণচাঁদ ঢেকে দেয় নীলচে জলের স্তর
তবে এখানে কোথায় আমি শেষ ঝাঁপ দেব