Powered By Blogger

রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৩

শুদ্ধচারী নদী

শুদ্ধচারী নদীর গহীন আত্মা খুব নৈকট্যের দু'পাড়ের কাঙ্খিত বিন্যাসে
রোদ্দুরময় নিশ্চিত ঘোষণায় স্পষ্ট শোনা যায় ভাঙ্গনের ঐকতান।
প্রতিমুহূর্তে জলের আক্রমনে প্রস্তুতিহীন দু'পাড়,প্রতিয়াক্রমনে ব্যর্থ।
সেই নদীটার কথা মনে আছে।আত্মমগ্ন বালির প্রদীপ জ্বেলে
দুই পাড় প্রবাহিত তরঙ্গের বিপুল চাপড়ে আমাদের সমান্তরাল ইচ্ছের
সাদা অশ্রুপাত,অস্তিত্বের আলো,বিনত বিশ্বাস,আবর্তিত অভিশাপ,---
বালির গহ্বরে মগ্ন আসন্ন শীতের প্রস্তুতির মধ্যে।

শব্দ ও আলোয় অগুনতি ভাষার ভেতর
পৌরাণিক নদীগর্ভে শষ্যভর্তি জাহাজ,নগর,পৌরপিতার কেলেঙ্কারী,
মৃত পশু পাখিদের কঙ্কাল;আণব সূর্যঝড়ে রুঢ় অনুশাষণের জলজ কবর
এবং
সেখানেও ভাঙা কলসের মধ্য থেকে আমাদের অভিমানী অবকাশ গড়িয়ে পড়ছে

শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৩

রক্তস্রোত

জলের বদলে রক্ত ঢেলে দিয়েছিলাম শেকড়ে
আমার সমৃদ্ধ বাগানের গোলাপেরা তাই এমোন আগুনরঙা
স্বরব্যাঞ্জনে হৃদয় খুলে দিয়েছি;অরুণোদয়ে
চিৎকারে চিৎকারে দশদিক বিদীর্ণ করেছি
কেউ শুনেছে সে ডাক

তুমি তো জলের মেয়ে
রোদেলা আকাশ,হৃদয়বিছানো ছায়াপথ,----
মনোঃসীমায় হারিয়ে অন্ধ দু'চোখ----প্রত্যয় ঋজুহীন
শিখেছ কি করে রক্তলিপি লেখে আকাশের গায়ে
ঝরন্ত ফসলের মাঠ,ইস্পাতফলায়

রক্তস্রোত আরম্ভের পথ ঠেলে ঠেলে
কিভাবে জলের আয়নায় নিজেকে সাজাবে
আত্মপরান্মুখ পৃথিবীতে আমাদের মুঠোর ভেতর
কেবলই কেঁপে ওঠে ফাঁপা,নিষিক্ত ও অসহিষ্ণু জীবনের গল্প-কথকতা

শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৩

সুদূরচারী ঈশ্বর

বিপরীত জল থেকে উঠে এসে
প্রসাধনহীন তোমাকে দেখেছি অন্নপূর্ণা সাজে আর
বুকের প্রপাতে ভেঙে পড়ছে বস্তুজগৎ,
নিঃসীম পরাবাস্তব
প্রবল ঘূর্ণিতে আলো ও তামসীকতা এক হয়ে
প্রার্থনার গাঢ় ভাষা,----মনে পড়ে
আমাদের ঈশ্বর সুদূরচারী

শাণিত নির্জনে মগ্ন হিংস্র প্রেত

সজল আঁধার

এই গাছগুলি আমাদের খুব চেনা
শীত এলে কেবলই পাতা ঝরে পড়ে
আর উত্তুরে বাতাস ওদের শরীর থেকে
তুলে নেয় বল্কল;এরকমই মনে হয়েছিল
যেদিন সমর্পণের ব্যর্থ হাতে তুলে নিয়েছিলে শুষ্ক ফল

শরীর কাঁপিয়ে পরাভব বুকে বাসা বেঁধেছিল
অসামঞ্জস্য পরিণতির সজল আঁধার

পথের হদিস

অনুবর্তিত নদীর পাড় ভেঙে ভেঙে সাদা ফেনা ও ফেনার টানে জাগে বালিয়াড়ি।
প্রকৃতির সহজ চাতুর্যময় ভঙ্গি বলে দেয়,তোমার ফেরার কাল এল।
অবিমৃশ্য পথে উড়ে আসে হেমন্তের পাতা।
ভোরের শিশির পায়ে মেখে শীতের প্রণত মাঠ
সম্পন্ন নগর,অন্ধ ভিখারীর গান----আর কিছু বাকী ছিল।

বসন্তের পায়ে হাঁটা পথ থেকে বর্ষার জলজ পথে
সকল শূণ্যতা ঝরে পড়ে

তবুও বর্ষার শেষে কাঁদাজল পথে আবার নেমেছ
পেয়ে গেছ পথের হদিস?

শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৩

সমন্বিত জলপথ

এতো দুঃখ পুষে রাখা আছে এই বুকে

বিচ্ছিন্নের বিষন্নতায় দু'চোখ সমন্বিত জ্বলে ওঠে
অনুসৃত আবেগে এমন ম্লান মুখ

ব্যবধানের ভাষায় সেই সমস্ত জানালা অবরুদ্ধ অনাশ্রয়ী অন্ধকারে
দেখেছিলাম আকাশভরা সূর্যপাত
আমি দু'হাত বাড়িয়ে বলি,'দাবদাহে জ্বালাও আমাকে।'

সমুদ্র সৈকতে পড়ে আছি
আমাকে রোদ্দুর দাও
আমি আগুনের  সর্বভূকতা দেখেছি
আমাকে সর্বাঙ্গে জ্বালিয়ে বিশুদ্ধ কর

আকাশের জ্যোতিরেখা তাপের প্রবাহে কেঁপে ওঠে
'সূর্যপোড়া নীল' দুই হাতে মেখেছি শরীরে
সকালের শান্ত পটভূমিতে যে ছবি এঁকেছিলাম তা আজ
বিকেলবেলার মতো স্থির স্বার্থপর অসহায়ের নৌকায়
পরিস্রুত জলের প্রচ্ছদে বেঁকে যায়

একরোখা সমন্বিত জলপথ সমারোহে মৃত্যুকেও সমর্থন করে

শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৩

পূণর্জন্ম

অপমানিত বধির,কবি,----
দেখো,সারা গায়ে বিছুটি পাতার প্রজ্জ্বলিত উল্কি
নীল বৈকুন্ঠের পথে বন্ধ্যা নারীদের স্তন শুঁকে শুঁকে জন্মান্তরের প্রয়াস
কোনো কুমারীর গর্ভে;যেখানে চৈত্রের জ্যোৎস্না
তমসা নদীর সাথে সঙ্গমে মিলিত