Powered By Blogger

বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০১৪

ভবিষ্যৎ,পরিণাম

বিলের বিতত লাল শাপলা,মহুয়া ফুল,রোদ্দুরে ডাহুক
বনের গভীরে আমাদের অস্বীকৃত যৌনমিলন,ঘাসের বিছানায়---
পরিতৃপ্ত এবং ক্লান্তিকর আলস্য;শরীরজুড়ে ঘর্মস্নান
আমরা ভাবছিলাম অনাগত ভবিষ্যৎ,পরিণাম

ভাষান্তরে দ্বন্দ্ব ও ব্যকরণের স্বতঃসিদ্ধ প্রত্যয়,যতিচিহ্নের অন্তরালে
মনোঃদৈহিক ভাষার ছাপচিত্রে যে ব্যঞ্জনা
শোকাভাসিত হৃদয়,আত্মভাষিক কথনে
অনুচ্চারিত নিহিত বোধে পরিস্ফুট প্রেম

ফেরার সময় হয়ে এসেছে,পথের বাঁকে কাটাগুল্ম
জলে ভাসমান বৈঠাহীন নৌকা
আমাদের দুই পায়ে যাত্রাক্ষত

বরঞ্চ দু'হাত ভরে তুলে নাও বুনোফুল
পাতার পোষাক,পর্ণকুটির,হৃৎপিন্ডে শালিকের নাচ

এ রকম অসম্ভব জানি তবু মেনে নাও

মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০১৪

সুচারূ

প্রাকৃত পৃথিবী ইন্দ্রিয়স্বভাবদোষে কন্ঠনালী ছিঁড়ে
হাহাকারের যে গান ধ্বনি প্রতিধ্বনি তুলে
দশ দিগন্তে আছড়েপড়েছিল
বৃষ্টিবাহনের সুরে গোধূলিশহর এমন আচ্ছন্ন সারাবেলা
মুখে মরুভূমি,নির্মেঘ চোখের কোণে ছিল অপমান
মারী ও মড়কে ঘন হয়ে আসে প্রতিপদের চাঁদের আলো

সুচারূতা নিয়ে অঘ্রাণ শরীর
বিসর্পিনী ছাদের কার্নিশে

অধিকারহীন মর্যাদায়

গোধূলিজর্জর মেঘে রক্ত
আপ্রাণ বাঁচার ইচ্ছে নিয়ে
হাঁটুজল পার হয়ে ডাঙায় উঠেছিলাম
সেই সমস্ত মাছেরা আজও ভুলে যায় নি আমাকে

পেছনে পেছনে তারা উঠে আসেআষাঢ়ের স্রোতে
দূরে সরে যেতে যেতে
অধিকারহীন মর্যাদায় নর্দমার পাঁকে.....

ছোঁয়াছুঁয়ি

দুই চোখে মেঘের কাজল
অগাধ শরীর বেয়ে উঠে আসে আষাঢ়ের ঢল
দ্রাবিত সময় প্রতিবিন্দু জলীয়তা নিয়ে আসে বিদ্যুতের টান
সূর্যময় আমার জীবিকা
অথচ উনুনে ঢেলে সব উপার্জন
পোড়া আত্মা,দু;স্বপ্নগুলোকে নর্দমায় ফেলে

জোয়ারের স্রোতে দু'জনের এতো দাপাদাপি

এতো ভালো লাগে শরীরের এইসব ছোঁয়াছুঁয়ি খেলে

সারাৎসার অন্ধকার

আলো ও অন্ধকারের সংমিশ্রণে এমন আচ্ছন্ন রাত
ব্রক্ষান্ড কলস ভেঙে ছড়িয়ে পড়ছে তারা
আকাশের মুখোমুখি কালপুরুষ,পায়ের চাপে ঝরছে পাথর,বালি
হাতে খোলা তলোয়ার

কার সাথে,কিসের এ রণসাজ

উৎস থেকে মোহনায় গেঁথে আছে ত্রিশুলের খন্ড
অমীমাংসীত ক্রোধ ও বিবমিষা

বিদ্যা,সিদ্ধি ছেড়ে
সময় হয়েছে সন্ন্যাস নেবার

শরীর জাগিয়ে দুই হাতে তুলে নাও
সারাৎসার অন্ধকার

সোমবার, ৫ মে, ২০১৪

ঐহিকতা

চোখের সামনে ক্ষেতজাঙাল,প্রেমের
বার্ষিকগতির রেখা ঘুরে যৌনতার কালে
আমি ও ঐন্দ্রিলা মুখোমুখি--
কার্তিক জ্যোৎস্নার মাঠে
অনায়াস অনুরাগে জেনেছি ফুলের
কোরকে অবাধ যৌনতার ছোঁয়া
বৃন্ততটে,অক্লান্ত মিলন,---
প্রতিটি ফুলের সাথে

জেগে উঠি
যাবার সময়ে ভেঙে ফেলি পান্থনিবাস,নিসর্গ এবং
মৃত পথিকের করোটিতে ভরে নিই আঙুরের রস

কুয়াশায়,মেঘের আড়ালে কেঁপে ওঠে তুষের আগুন---ঐহিকতা

কবিতা ও অবাস্তব বিরোধী লেখা

ছিটে-ফোঁটা ভাঙা শব্দে এতদিনে যা লিখেছি
কিছুটা রহস্য এবং প্রশ্নবোধক চিহ্নের অন্তরালে
অদৃশ্য ক্রোধ ও বিবমিষা এমনকি
শাণিতউজ্জ্বল কৌটিল্যের সাংকেতিক ভাষার কবিতা
পৌনঃপুনিক রঙের ব্যবহারে ক্যানভাসের প্রতিফলন;

আমি এসবের থেকে পালিয়ে এসেছি
মিথুনমুর্তির হাতছানি,সমকামী মৎস্যকন্যাদের প্রলোভন
অপরিশোধিত ঋণ এবং এর দায়ভার---

সর্বোপরি প্রতিশ্রুতিময় কবিতা ও অবাস্তব বিরোধী লেখার থেকে

যারা পথে নেমেছিল কোদাল,গাঁইতি হাতে
তাদের জিজ্ঞেস করিঃপথের দু'ধারে সেই সমস্ত সরল গাছ
তাদের সবুজ পাতা রৌদ্র জলের আশ্রয়ে কেন পথিকের পায়ে পায়ে
সশস্ত্র সন্ত্রাস নিয়ে ঝরে পড়ে