Powered By Blogger

শুক্রবার, ২৯ জুন, ২০১২

নিঃস্ব

অত্যুজ্জ্বল অন্ধকারে রোদ মাখানো স্বপ্নেরা সময়ের অবাস্তব চাঁদরে জড়িয়ে
রাখে আপাদমস্তক;মানুষের ইতিহাসে উপমাময় দিনের স্বাক্ষ্য দেয় শুধু
অক্ষরবৃত্ত ছন্দের সু-সংহত বর্ণনায় বসন্ত দিনের গান।এই যে এখন
প্রায় অন্ধকার কিংবা বসন্ত দিনও নয়,আকাশে দিনের সূর্য্য ডুবে গেছে কবে
উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলো এক হয়রানিকর,কেবল প্রহেলিকার জন্ম, দিতে থাকে।
শালকী নদীর তীরে সুমুদ্রিত ঘাসগুলো ফাল্গুনের সশব্দ বাতাসে ওড়াওড়ি করে
এটাই এ জীবনের বসন্তের অভিজ্ঞতা ঊষর কৈশোর কালে ছবি এঁকেছিল

ক্রমঃ বিবর্তন মেনে অমিল পয়ারছন্দ থেকে অমিত্রাক্ষছন্দ বা অক্ষরবৃত্ত- এ
থেমে না থেকেই সব চলে যাবে ছন্দহীন উত্তরাধুনিক গদ্য কবিতার রাজ্যে
আধুনিক মানুষেরা ব্যর্থতার বোধে ক্রমে নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতরে পরিণত হবে

ভবিতব্য

নীলনদের বন্যার সাথে স্বর্গীয় নক্ষত্র সোথিসের
কি সম্পর্ক মিশরীয় পুরোহিতেরা তা জানতেন
মানুষের কপালে কি লেখা আসিরীয়দের সাথে তা দেখেছিলাম
মহাকাশের নক্ষত্রমন্ডলীর মাঝে আর তারও অনেক আগে
গুহাবাসের সময় থেকে চাঁদের কলার হ্রাস-বৃদ্ধির মতোন
স্পষ্ট ঘটনা এড়িয়ে যাই নি,---
অথচ এখন আমি কোনো তারাই চিনি না

এই শহরের 'পরে কোন আকাশই নেই
কংক্রিটের ছাদে মাথা কুটে মরে সকালের রোদ
কোনো কোনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে
দয়িতার গাঢ় আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে
ঘুমন্ত শিশুপুত্রের মুখে চুমু দেই

এটাই আমার ভবিতব্য

সোমবার, ১৮ জুন, ২০১২

অপরিচিতা

তার চোখের দ্যুতিতে সমুদ্দুরের বিষাদ ঝরে পড়ছিলো
গোধূলির বিষন্নতা কাজলের আলপনা হয়ে ছিল তার
স্বচ্ছ,কালো দুই চোখে ;রক্তের দাগের মতো ক্ষয়াটে,বিবর্ণ
মৃতুর নিস্তব্ধতায় কবরের প্রশান্তিতে গাঢ়,অন্ধকার
ভেজা বাতাসের লোনা চাহনীতে ঝরছিল নিঃসীম শুন্যতা
পাথুরে কাঠিণ্যতায় থমথম করছিল তার চোখমুখ
য্যানো বা ঝড়ের পূর্বে নৈসর্গিক স্তব্ধতায় সমুদ্রের কূল
উপকূলে ঝাউশাখে বাতাসের আর্তনাদে ছন্দিত কান্নার
সুরে উথাল পাথাল উষ্ণ দীর্ঘশ্বাসে
রক্তের স্ফুরণে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছিল তার শিল্পিত হৃদয়
গোক্ষুর সাপের কান পাতার উৎকীর্ণতায় স্পর্শ করলাম

খোলা জানালা পেরিয়ে রোদ্দুরের স্বপ্ন
আন্দেজ পর্বতে বাঁদা পেয়ে ফিরছিল
রিক্ততার হাহাকার,একাকীত্বের যন্ত্রণা মিছিলে মিছিলে
উন্মুখর শরীরের শিরা-উপশিরা ব্যেপে ট্রেনের একই
কামরায় সে ও আমি মুখোমুখি সহযাত্রী যোজন দূরত্বে
বইয়ের ফাঁকে চোখ রেখে চোরা চাহনীতে তাকিয়ে ছিলাম
মুগ্ধতায় মোহাবিষ্ট তন্ময় পুরুষ
প্রগাঢ় চোখের ভাষা সরল গদ্যের মতো পড়ে যাচ্ছিলামঃ
অন্ধকারময় শুন্য সুড়ঙ্গে,নি;সঙ্গতায় আবাস গেড়েছে
ধূসর অতীত কোনো;যা হারিয়ে গেছে
কিংবা হারায় নি এখনও সেইসব স্মৃতিগুলো
যাবজ্জীবন মেয়াদে দন্ডপ্রাপ্ত স্মৃতির ভাঁড়ারে
রেল সড়কের পাশে বাবলার বন ভেদ করে
বিকেলের সূর্যরশ্মি মাঝে মাঝেই ঝলসে উঠছিল তার
পোষাকের ভাঁজে ভাঁজে;অবিশ্বাসী বাউল বাতাসে
খসে পড়ছিল তার শাড়ীর আঁচল
তার শরীর নিঃসৃত জৈবনিক ঘ্রাণের সুগন্ধে
আআর বুকের মধ্যে শিষ দিয়ে উঠল দোয়েল
মাঝ সমুদ্দুর থেকে প্রবল উন্মত ঢেউ আছড়ে ফেললো
উপকূলের নরোম,সিক্ত বালুতে মুহূর্তে প্রভাতিক,স্নিগ্ধ
শিশিরের শুভ্রতায় পরিপূর্ণ হয়ে গেলো আমার হৃদয়
চারদিক ভরে গেলো নান্দনিক জোছনার প্লাবনে
এবং শেষ হয়ে এলো বিনিদ্র প্রহর
মনে হচ্ছিলো কাঙ্খিত প্রার্থনার প্রার্থিত মুহূর্ত
সমুপস্থিত এক্ষণে;তার নীরব দৃষ্টিতে আমি দ্রবীভূত
হতে থাকি,---অতঃপর ভালোবেসে ফেললাম অপরিচিতাকে

ছন্দসিক ছন্দে দীর্ঘ রেখা টেনে ছুটে চলে ট্রেন

০১.০৫.১১
উত্তরা,ঢাকা।

চোখের জল

বুকে চিনচিনে ব্যথা
হলুদ শাড়ীতে বেশ মানিয়ে গিয়েছ
বুকে চিনচিনে ব্যথা
মেহেদী রাঙ্গানো হাত দেখে ম্লান গোধূলির আলো
বুকে চিনচিনে ব্যথা
শরতের কাশবন হার মানে খোপায় জড়ানো বেলী ফুলের মালায়

চোখের জলের আর কতটুকু দাম
নোনা স্বাদটুকু ছাড়া

স্বতন্র ধারার চতুর্দশপদী-৬

একটি বিমান দুর্ঘটনা উন্মোচন করে দেয়
গণতন্ত্রে উত্তরণ পথ;ভাঙ্গা স্যুটকেস থেকে
বের হয় সৌভাগ্যের অনন্ত দুয়ার,হায়েনারা
ফাঁদ পাতে--পুঁজিবাদী পণ্যের ঝাঁঝাঁলো  বিজ্ঞাপনে
লালায়িত নিঃস্ব জন অজান্তে গর্দানে তুলে নেয়
চক্রবৃদ্ধি ঋণের জোয়াল,বলদের মেরুদন্ড বেঁকে
যায় চৈতী চৌচির জমিনে,খাদ্য খোঁজে শকুনেরা

সুফিয়ার সৎকার হয় চাঁদার টাকায়,তত্ত্ব
বোঝে,বোঝায় না কেউ,গলায় ফাঁসও নেয় দেনা
এড়াতে,উচ্ছেদ হয় ভিটে থেকে,দেশান্তরী হতে
হয় কখনো কখনো।ব্র্যাক ফেল মারলে গ্রামীণে
যেতে বাধা নেই,গ্রামীণের দেনা শুধবে নিঃশর্ত--
শর্তহীন(নিয়মিত কিস্তি) আশা,আশার পাওনা
মেটাতে প্রশিকা আছে। আরো কতটুকু চাও পেতে?

০৪.১২.১০
পল্লবী,ঢাকা।

ব্যর্থ জীবন

আমার শোবার ঘরে ঢুকেই বান্ধবী বলে উঠলো,এ ঘরে
নিদ্রাহীনতার গন্ধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে,ভাঙ্গা স্বপ্নগুলো
বালিশের ওপর কার্পেটে,বিছানার ভাঁজে ভাঁজে
বেদনা করুণ চোখে তাকিয়ে দেখছেঃ

ঘরময় ব্যর্থতার সু-স্পষ্ট,স্পর্ধিত পদচিহ্ন
হতাশা,বিদীর্ণ দীর্ঘশ্বাসে ভারী ঘরের বাতাস
ফ্লাওয়ার ভাস থেকে ভেসে আসছে টাটকা বিষাদের সুর
নোনা ধরা দেয়ালের আস্তরে আস্তরে
ঢেকে আছে জৈব সুখ;উচ্চাকাংখা কোথাও দেখি না।

না,এখানে নয় আকাশের কাছাকাছি কোন গৃহ
হো'ক তোমার ঠিকানা।

নান্দনিক কবি সুমী সিকানদার

কবি সুমী সিকানদার সত্ত্বার গভীরতর অর্থ অনুসন্ধানে ব্যাপৃত থেকে তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'নদীটা রেখে যাও' এ মানবিক অস্ত্বিতে এনেছেন অভিনবত্ব ও আত্মপ্রত্যয়জাত স্বাদ।তাঁর এ প্রত্যয়ের উৎস মানবিক প্রেম,স্বদেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত সময়,দৈনন্দিন জীবঙ্গাঁথার মধ্যে নিজেকে খোঁজার এবং অনুভূতির সুতীক্ষ্ম বিস্তৃতির ফলেই তাঁর কবিতায় সত্যিকার গভীরতা স্পর্শ করেছেঃ

নদীটা রেখে যাও
মাঝরাত্তিরে ফেরত দেবো।
দেবো ঠোঁট ভেজা ভোর,
বিকেলের নিংড়ানো নয়ন....রাতের রোপণ...সব।
ফিরে যাবে...।
টুকরো টুকরো জোছনায় ঢলে পড়া রুপালী রং প্রেম।
বিবর্ণ বকুলের বাসি প্রাণ......অস্তাভা।
অপেক্ষার আকাশের উড়ন্ত গাংচিলের ছায়া পড়বে
বিষন্ন নদীর গালে।

নদীটা রেখে যাও...
রাত বাড়ছে দেখো!!
হু হু করে বাড়ছে অলভ্য লোভ...ক্ষিপ্ত ক্ষোভ
এখনই ফেরৎ পাবে...
দম্য দরিয়ার ঠিক মাঝ ঘূর্ণনে...
অদম্য দয়িতা তোমার।
( নদীটা রেখে যাও......মাঝরাতিরে ফেরত দেব)

নিরন্তর প্রস্তুতির মাঝে নিজেকে ধরে রেখেছেন কবি সুমী সিকানদার।সমকালকে তিনি মেপে চলেছেন মহাকালের বাটখারায় তাই তাঁর কবিতায় দেখি সৃষ্টিশীলতার বহুবর্ণা  ঔজ্জ্বল্য ঠিকরে বেড়িয়ে আসে কবিতার লাইন ফুঁড়ে।আত্ম-চেতনা ও সৃষ্টির বিপুল আনন্দে আত্মহারা এ কবি পূর্বসুরীদের গতানুগতিক ভাবধারা সযত্নে এড়িয়ে চলার লক্ষ্যনীয় প্রয়াসে লিপ্ত।প্রথাগত আনন্দের ঝলকানি,বেদনার বিষাদাত্মক যন্ত্রণা কিংবা বাস্তবতার নিরেট পাথরও তাঁর কাছে গুরুত্ব বহন করে না।সৃজনশীলতার চরম উৎকর্ষে থেকে তিনি বিনির্মাণ করেন কবিতা;পৃথক ও স্বাতন্ত্র্যবোধের অভিনব ভাব,ভাষা ও বক্তব্যে উপস্থাপিত দ্বন্দ্বে ভরা এক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় পাঠক হৃদয়ঃ

আঁধারে টুপটাপ টপকায় তস্কর
কুয়াশার আঁকিবুকি কেটে কেটে
ঢুকে পড়ে বর্বর গহ্বরে।
তাড়ি খাওয়া রাত ঢুলতে থাকে
বাড়তে থাকে ত্রিতাল প্রদাহ
খাঁজকাটা নকশায়
এলোমেলো গলা সাধে
উদারা মুদারা তারা তিনবোন।
(নিদ্রাভঙ্গ)

কবি  সুমী সিকানদার নিজের ভেতর থেকেই গড়ে তোলেন বিরল ও সুক্ষ্ম মননের তন্তুজাল আর তা তিনি কখনো ঊর্ণনাভ,কখনো বা গুটিপোকা;যার নিঃশব্দ,একক প্রচেষ্টায় নিজেরই চারধারে বুনে নেন ভাব ও ভাবনার রেশমী জগৎ।আলো ও অন্ধকারের জ্বলজ্বলে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের গভীরতর সত্ত্বার বোধে লুকিয়ে থাকা স্কাইলার্ক পাখি এক,কখনো নাইটিঙ্গেল;অন্ধকারের মধ্য থেকেও গান দিয়ে নিঃসঙ্গতার লাঘব ঘটাতে সচেষ্ট শৈল্পিক অভিজ্ঞতার প্রগাঢ়তা ও তীব্র সংবেদনশীল,আত্মোপলব্ধিজাত ঈন্দ্রায়ানুভূতিঃ

১৪.
একবার সাহস করে
শুঁয়োপোকা থেকে প্রজাপতি হয়েই দেখো না,
দেখবে উড়ে উড়ে ভালোবাসতে
কী দারুণ যন্ত্রণা লাগে।
(মনকাব্য)

সুমী সিকানদার আত্ম-জৈবনিক,রোমান্টিক একজন কবি।আজন্ম শিল্প-তৃষিত কবি সুমী সিকানদার শিল্প-চেতনাকেই নান্দনিকতার মূল উৎস বলে মনে করেন।মানবজীবনের মহত্ত্বম উপলব্ধি হছে প্রেম আর তাই তাঁর কবিতায় প্রেমের স্থান অবশ্যম্ভাবী।স্বতন্ত্র, নান্দনিক শৈলী,চেতনা  ও নন্দনতাত্ত্বিক দার্শনিকবোধের কারণেই তাঁর কবিতা সৌন্দর্য্য চেতনাকে স্পর্শ করে কাব্যিক চেতনায়,সত্ত্বার গভীরতর আবেগের কল্পনায় সীমার মধ্যে অসীমের স্পর্শ সঞ্চরনশীল;যা প্রেম চেতনার সঙ্গে নন্দনতত্ত্বের নিবিড় সংযোগে প্রেমকে চিত্রিত করেছেন সর্ব প্রসারীরুপে প্রতীকের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন অতি-প্রাকৃত আরেক প্রতীকঃ

আমি হাঁটছি......
ম্লান নির্জনতার পায়ে পায়ে,
আমার বড্ড ভালো লাগছে।
বেণীতে করে তোমাকে এনেছি চুপচাপ।
সূর্য আর সর্ষে,জোড়া হলুদ ডুবলেই
বেণী খুলে ভাববো তোমায়।।
(নির্জনতার খোঁজ)

সুমী সিকানদার স্বতস্ফুর্ত সৃজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলো ফেলে দৈনন্দিন জীবন-যাত্রা তথা মানব্জীবন ও নিবিড় প্রকৃতির এক আবেগ ও আনন্দঘন মুহূর্তের প্রতিভাস মূর্ত করে তোলেন স্বীয় মেধা ও অভিজ্ঞানে বিশ্ব প্রকৃতির অনন্ত সৌন্দর্য্য ও আনন্দে বিনির্মাণ করেন প্রকৃতি ও মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের এক ও অদ্বিতীয় বিষয়ে কবিতাঃ

প্রতিদিন ফোঁটা ফোঁটা দুঃখগুলি
মনের কার্নিশ বেয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে,
কবিতার গাক ছুঁয়ে ছূঁয়ে,আমি এতদিন দেখিনি,
সুখগুলো কেবলি তাড়াহুড়ায়
মেঘদলের দেখানো পথে উড়ে গেল অবলীলায়...
আমি ধরতেও পারিনি।
একগুঁয়ে মেঘ......প্রতিশোধের নেশায়......
আমার ভেজা মন আরো ভেজায়।
বিরহের বিবর্ণ শ্যাওলা জমে জমে
নেশাতুর ভালোবাসা হয়।
এখন বুঝতে পারছি...ভালোবাসার নেশায়
রাত হয়েছে সুন্দরী ।
(রাত হয়েছে সুন্দরী)

সুমী সিকানদারের কবিতার নন্দনতত্ত্বে পরাবাস্তব্বাদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।এই পরাবাস্তববাদী নন্সনচেতনা গভীরভাবে অনুধাওবণের ফলে কবিতায় যৌক্তিওকতা,অপার্থিব সৌন্দর্য্যে বিহ্বলতার কারণে চৈতন্যের সংকটে জর্জরিত কবি সুমী সিকানদার কল্পণার জগতে বিচরণ করে,আত্মোন্মোচনের মধ্য দিয়ে বাস্তবতার প্রকৃত স্বরুপকে উন্মোচন করেন অভিনব শৈল্পিক ভঙ্গিমায়ঃ

জমজমাট দুঃখগুলো
নীলরাতে অলস জ্যোৎস্না পোহায়।
ঘুটঘুটে অন্ধকার টান মেরে জড়িয়ে ধরে,
পিষে ফেলে নির্মম বর্বরতার।
(অলস জ্যোৎস্না)

লৌকিক এবং দিব্য----উভয় সৌন্দর্য্যবোধই  মন-মানসে ধারণ করেন কবি সুমী সিকানদার।সুন্দরের মধ্যে তিনি দেখেন গুণ,পরিমাণ,সম্বন্ধ ও আকৃতি।সুন্দর তাই তার কাছে ধারণামূলক হলেও আনন্দদায়ক,রুচি ও রসবোধে  জারিত রুপের সৌন্দর্যই শিল্পের সৌন্দর্য্যঃ

গাছেদের চিল চিৎকারে যখন জ্বলে উঠেছে দানানল!
তখনই নীল আকাশের রঙ বদলেয় নামল---
অঝোর শ্রাবণ।

ওমনি ফুরিয়ে গেল তোমারত চাওয়া....
ফিরে গেল উদাসী হাওয়া....
কুঁকড়ে গেল লজ্জাবতীর ঝাড়,অপেক্ষার অপমানে
থেমে গেল পাতাদের মর্মর চাহনী....
আমার জন্য জমিয়ে রাখা নিষিদ্ধ ঘ্রাণ....
ও বর্বর ভালোবাসা।
তুমি মুখ ফিরিয়ে রইলে
সর্ষে রঙ হলুদ বসন্তে
আমার জন্য রইল কেবল জলভরা শ্রাবণ...শ্রাবণ।।
(দাবানল)