Powered By Blogger

রবিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৩

কবির হৃদয়

পরান্মুখ পৃথিবীতে যখন প্রতিনিয়ত মানুষের সুপ্ত আকাঙ্খাগুলোর মৃত্যু ঘটে
আসামান্য অশ্রুপাতে অতিশয় সরল কবিতাগুলো শব্দহীন বৃথাই অপেক্ষা করে
শব্দের পর্যাপ্ত ব্যবহারে আনন্দ ও অশ্রু সম্মুখগামী জোয়ারে বহিরাগতের মতো
নিঃশব্দে ঘুরতে থাকে এবং ব্যাপক বিশ্বের শান্ত পশ্চিমা বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে
সমুজ্জ্বল বৃষ্টি নদীর উত্তাল স্রোতে নির্বোধ নৌকার সারিগুলো পৌঁছে দেয় উপকূলে
অবোধ সন্ন্যাসে হরিণেরা সেখানে নির্ভারতায় খেলা করে আর বন থেকে ভেসে আসে
পাখিদের ঐকতানিক সঙ্গীত

কোনদিন বুঝবে না কেউ অন্ধ কবির হৃদয় কেন কবিতাতে উদ্ভাসিত

অসময়ের গান


যে সারল্য কবিতারা দিয়েছিল;
অশ্বধাবিত পাথুরে পথে তা আজ বিলীন
নিবেদিত কবিতাগুলো শূণ্যতা থেকে ঝরে পড়ে,___
স্বপ্ন,প্রেম,ক্ষুধা,নির্জনতা,আদিগন্ত শৈশবের স্মৃতি।

যে সব গানের কথা ভুলে গিয়েছিলাম সেগুলো  
নূতন সুরের ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে উত্তাল বেঁজে ওঠে।
এই যে শব্দের মসৃনতা নিয়ে কবিদের এতো মাতামাতি,___
আজ সবই ভুলেছি;
আমরা কেউ-ই কারো ডাক শুনতে পাই না।
নদীর ওপার থেকে হাটুঁজল ভেঙে ফিরে আসা,
দুপুরের তাপময় নির্জনতা মেখে শব্দহীন মুখোমুখি
কিংবা আশ্বাসে আশ্বাসে বেঁচে থাকা,___
যখন তোমার দেহ কালোমাটির মতোন
সকালের মিষ্টি রোদ গায়ে মেখেছিল।

যাবার সময়ে বলেছিলে,
'আমি আবার আসবো,ততদিন প্রতীক্ষায় থেকো।'

প্রতীক্ষায় প্রতীক্ষায় দিন ক্ষয়ে গেল।
শেফালীগুচ্ছের গন্ধ মেখে দূরচক্রবাল থেকে মন হেসে ওঠে বলে---
প্রেমিক কবির মৃত্যু নেই, কখনও।

জন্মান্ধ কবির বেদনার্ত স্থবির কন্ঠের সুরে
অসময়ে রাত্রি নেমে আসে পৃথিবীতে।

শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৩

পলাতক পাখি

যে সব মাছেরা জাল ছিঁড়ে পালায় তারা কি আর ফিরে আসে
স্বপ্নের ভেতর এক জটিল পরাবাস্তব বোধ শুয়ে থাকে আদুরে বধূর মতো
স্বপ্ন দেখে গ্রীষ্মাবকাশের নীল আকাশ;যেখানে
ভুলে যাওয়া গানের সুরগুলো মনে পড়ে

শেষ যে চিঠিটা লেখা হয়েছিল
তার জবাব আজও এসে পৌঁছায় নি

পলাতক পাখিরা আকাশ খালি করে চলে গেছে

শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৩

সপ্তর্ষির বিচ্ছুরিত আলো

অন্ধকার সরানোর দায় নেই কারো

যতদূর দু'চোখের দৃষ্টি,ততদূর অলৌকিক অন্ধকারে ছেয়ে আছে
জলের কিনার ঘেঁষে,_____ শব্দের ওপারে আমাদের শেষ কথাগুলো
মিশে আছে অন্তর্গত আকাশের পথে আর
সপ্তর্ষির বিচ্ছুরিত আলো বেঁকে আসে গতদিনের গোধূলি কালে

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৩

কবিতার খাতা

সংকেতময় দেহের ভৌগলিক চড়াই-উৎরাই পরিমাপ করো শকুনের চোখে
অথচ বোঝার দায় নেই সূর্যমুখী ফুলের কোরকে
পরাগযুক্ত কেশরে স্বেদহীন ভালোবাসা পালিত রেখেছি

বৃষ্টিকে দিয়েছি জল,যতটুকু মুছে ফেলে স্মৃতি
তবু স্বপ্নের ভেতর থেকে উঠে আসে মুঠো মুঠো যুঁই ফুল

বসন্তের প্রথম প্রহরে তুমি হারিয়ে ফেলেছ কবিতার খাতা

স্রোতঃপ্লাবী

উচ্ছ্বসিত বর্ষার প্লাবনে
পয়ারের মাঠে জন্মান্ধ, কৃষক কবি স্বরবৃত্ত ছন্দে
অবজ্ঞাত কার উদ্দেশ্যে বিষাদময় গীতি শব্দের চৌহদ্দি মেঘান্তরে মেঘান্তরে
মেলে দ্যায়;রৌদ্র,আলো,ছায়া,মেঘ,বৃষ্টি একে একে ধ্বণি তোলে মল্ল আষাঢ়ের সুর

পৃথিবীর সমস্ত নিয়ম ভেঙে চুরে কোন প্রোষিতভর্তৃকা 'বৃষ্টিতে,ভিজবে,এসো,'
বলে ডাক দেয় লজ্জাতুর যৌবনকে

স্রোতঃপ্লাবী মন ভেসে যায় দূরচক্রাবালে

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩

কালপুরুষের পায়ের ছায়া

সমুদ্রের নীল জলে চন্দ্রাহত আষাঢ়ে পূর্ণিমা
জল কেটে,জল কেটে,___উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্র থেকে
কৃত্তিকানক্ষত্র অঞ্চলের শেষে ঔদাসীন্যে থেমে যাবার প্রাক্কালে
অবিশ্বাসী দুই চোখ ফাটে স্বপ্নাচ্ছন্ন নিদ্রাহীনতায়

এখনো জাগিনি,ঠান্ডা ঘুমের কফিতে আরো দু'চামচ
ঘুম মেশানো হলেও কবিতার আগ্রহতিশয্যে কখনো কখনো
কুয়াশামাখা সকালে দুগ্ধফেনায়িত কফির পেয়ালা
কাঁপে কালপুরুষের পায়ের ছায়ায়