Powered By Blogger

শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৩

অপ্রয়োজনীয়

যারা সমুদ্রচারী হয়েছিলাম
সম্ভবতঃ আমরা ভালোবেসেছিলাম ডাঙার সতেজ ঘাস
এবং শর্তহীন লোভে ছুঁড়ে দিয়েছি স্ত্রী লোকেদের

কারণ আমরা হিব্রু পাঠমালায় জেনেছিঃ
রাজমিস্ত্রীরা যে পাথরটা ফেলে দিয়েছিল
সেটারই প্রয়োজন সবচেয়ে বেশী

তুলোচাষ

তোমাদের তুলোচাষ কোথায়?অহিংস খদ্দরের পাঞ্জাবী পরবো বলে
অরণ্য শহর থেকে নেমে এসেছি।অস্বাভাবিক প্রযুক্তিবিদ্যা,
ভূমি জরীপের যন্ত্রগুলো ইতঃস্তত পড়ে আছে এখানে-সেখানে
আর ঐদিকে কার্পাস বাগানের বর্গাদার সকাল বেলার রৌদ্রে দাঁড়িয়ে দেখছে
শিমুল তুলোর ওড়াওড়ি।

বাঁশপাতা বাতাসে কাঁপছে।আজ সারাদিন আমি বাতাসের সাথে খেলব ভীষণ।

শুক্রবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৩

নিমন্ত্রণ

প্রথম বিশ্বাসে সবটুকু ভালোবাসা দিয়েছিলাম,---ফেরে নি সেই নারী
প্রগাঢ় বাস্তবতার চোখ তুলে দেখে নি আমার পরাক্রান্ত মুখ
প্রিয় যত গান,যত সুর,যত কবিতা----রেখেছি ব্যক্তিগত বসন্ত খাতায়
প্রিয় যত ফুল,---
বুনেছিলাম সম্পন্ন বাগানের টবে

অতীতের আবর্জনা বলে সমর্পিত কোল ঘেঁষে চলে গেল অন্য নিমন্ত্রণে
সারাপথ জুড়ে পড়ে থাকে মসৃণ পায়ের ছাপ,ঋতু,দীর্ঘশ্বাস

যদি একজীবনের সারাৎসার তুলে ধরি,---
মৃতদের শোভাযাত্রা চেয়েছিল দীর্ঘ পরমায়ূ
বনের সমস্ত গাছ একে একে মরে যায়
ওখানে দিনের শেষে প্রার্থনায় মগ্ন গাছের কংকাল
ওদের বল্কল খুলে বের হয়ে আসে জরাজটিল মাংসের গ্রন্থি

নিরুপায় বনের ভেতর অসম্পূর্ণ পাঠ
শেকড়ে মাটির রুদ্ধ শৃঙ্খলের ধ্বনি
পৌষের নির্লিপ্ত কুয়াশায় উড়ে চলে শিরা উপশিরাগ্রস্ত পাতা

আমার আকাঙ্খা ছিল স্বার্থপর
যদিও তা ভেঙে পড়েছিল গোধূলিবেলায়,অনাহুত নিমন্ত্রণে

উৎসব ফুরোলে কেউ মনে রাখে নি আমাকে

বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৩

সাম সঙ্গীত

দৃশ্যমান বাস্তবতা গ্রীষ্মকাল অবধি তাদের ঘিরে ছিল
হৃৎস্পন্দনের শব্দের মতো অসংখ্য শেকড়ে
আলো ও ছায়ার অবাস্তব সংগ্রামে ভ্রমণরত;

সূর্য জ্বলছে।জ্বলতে থাক,স্বতস্ফুর্ত।দিনের আলোয়
মৃতরা কখনো আরো বেশী বাঁচবার অভিপ্রায়ে
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাবে না।

জীবিত মানুষেরাই
কেবল জীবন থেকে পালিয়ে আধাঁরে থেকে যায়।

এবং সাম সঙ্গীতের আবির্ভাবে পূণর্বার বেঁচে ওঠে।

রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৩

আমাদের প্রতিচ্ছায়া

বাস্তবতা খুব সুক্ষ্মভাবে আমাদের ঘিরে রেখেছিল;
যখন বাঁচার অভিলাষে যা কিছু দৃশ্যতঃ
শস্যবীজ,ক্রুস,যুদ্ধক্ষেত্র...............

এবং আমাদের ছায়ারা প্রতিনিয়ত নিজেদের পৃথক করছে
তাদের অস্বচ্ছ স্বর চতুর্দিকের দেয়ালে প্রতিধ্বনিময়

অসংখ্য পাঠান্তরের মধ্যে
নিরাসক্ত যে সব গোলাপ ফুটেছিল
ধূসর দিনের অতিবাহনের পর,---
আমরা তাদের পতনের শব্দ শুনি
এতকাল যত পাথর ছুঁড়েছিলাম

কিন্তু জানালার কাঁচগুলো এখনো অক্ষত
যেখানে গড়িয়ে নামে আমাদের প্রতিচ্ছায়া

শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৩

উপেক্ষা

শিখে নিয়েছ প্রাকৃত উপেক্ষার পরিভাষা?স্পষ্ট উচ্চারণে
গাঢ় প্রত্যাখ্যান।সুগত দু'চোখ জ্বলে যায় সুতীব্র ঘৃণায়।

তোমাদের লৌকিকতা বড় বেশী সামাজিক।অতিথিবিমুখীনতা।
প্রগাঢ় উপলব্ধির সম্মীলনে স্বার্থপর ভ্রু-কম্পনে
অন্বেষণ আলোর ভেতর।সাধারণ ভাবনায়
চৈত্রদুপুরের সারাপথ প্রস্তাবিত দাবিতে স্ফুরিত;
পরিচিত শব্দের সমূহ সমারোহে অনিবার্য ধ্বনিময়তায়
সান্দ্র আমন্ত্রণ---নি;সীম স্মৃতির উন্মীলন।

আমি ফিরে এসেছি।উপেক্ষা এত তীব্র।
এই তোমাদের অতিথি সৎকার?
জল ভারানত স্বচ্ছদীঘি।সরিষার তেল,গামছা কোথায়?

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৩

উৎসর্জন

সৃজনের অধিকার কেড়ে নিতে চাও?
রজনীগন্ধার মূর্ত আলো,শীতের আগুন,
আমার গানের নীল খাতা?
সম্পন্ন কবিতা;যা আমার রক্ত ও ঘামের  সংমিশ্রণে শ্রম বিনোদন।

সেই বুনো তুলসীর ঝাড়,--আবর্তিত অভিশাপে
কাঠ বাদাম গাছের দিকে চেয়ে মনে হয়
প্রণত দু'হাতে রক্তজবা ফুল ছুঁয়ে দিলে জীবন হয়তো
পরিস্রুত একটি প্রেমিক তারা হয়ে যেত।

তোমাদের লৌকিকতা শেষ হোক।
দেহরক্ষীরা তাদের নিজ নিজ গৃহে ফিরে যাক।
(ওদেরও তো ইচ্ছে করে প্রিয়তমা রমণীর
শরীরের ওম পেতে।)

পূরোনো ভালোবাসার স্থির নির্দেশের বিনত সম্মানে
শুভ্র স্বপ্নের ভেতর থেকে জেগে উঠি
নিবিড় কেন্দ্রের বিসর্পিল লালধূলো ওড়া পথে,
জংলী গোলাপের উৎসর্জনে।