আধুনিক মানুষ ছুটে চলেছে এক মহাশূণ্যতার দিকে,অসীমতার দিকে ধাবমান বিচ্ছিন্নতাবোধে আক্রান্ত একপাল মানুষ।আধুনিক মানুষ তার সীমাবদ্ধতা জানে কিন্তু মানে না অথচ সীমা লঙ্ঘন তার পক্ষে দুঃসাধ্য।ফলে জন্ম নেয় মনোজাগতিক এক দোদ্যুলময়তা। আসলে গত শতাব্দীর দু' দুটো অর্থহীন মহাযুদ্ধ মানুষের চিরন্তন মৌল বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে চিন্তা চেতনার জগতে আনে ব্যাপক পরিবর্ত্ন।মানুষ ক্রমেই ঈশ্বরবিমুখ হতে শুরু করে,সামাজিক রীতি-নীতি প্রহসনে পরিণত হয়,ভেঙ্গে যেতে থাকে যুথবদ্ধ পরিবার,মানুষ ক্রমেই নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হয়ে পড়ে।তদুপর পুঁজিবাদী সর্বগ্রাসী আগ্রাসনে মানুষের ব্যক্তি-সচেতনতা,ব্যক্তি-স্বাধীনতার সমস্যা ও অস্তিত্ব সংকটের যন্ত্রণায় মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়ে বিচ্ছিন্নতাবোধে জর্জরিত হতে থাকেঃ
..............
কোনও কোনও দিন
আঙ্গুলগুলো নিশ্চল থাকে তানপুরার তারে
অলস চোখ ঝিমায় বই এর একটা পাতায়
বেলির গন্ধ কী ভীষণ ঝাঁঝালো মনে হয়
গরম চা,ঠান্ডা সিরাপ একাকার হয়ে যায়
জীবনের টুকরা কথা
অসার বক্তৃতার মতো বাজে!!!
(কোনও কোনও দিন)
এমোন্ন পরিস্থিতে মানুষ অন্যের দৃষ্টি থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চায়।তার চিন্তা, চেতন ও মননে শংকা ও উদ্বেগ ভর করে। মানুষ ক্রমশঃ স্বীত সত্বা,ব্যক্তিক,পরিবার ও সামাজিক জীবন সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে ফলে বিচ্ছিন্নতা বোধে জারিত থেকে স্বগত,অস্ফুষ্ট উচ্চারণ করেঃ
.............
ওর গায়ে দাগ আছে জানি
এও জানি,ওখানে একটা ক্ষত আছে
নিজেই গুলি ছুড়েছিলাম যে
এখনো থেকে থেকে রক্ত ঝরে
তবু দ্বার খুলি না সহজে
এ ব্যাথা,এ দাগ সারবে কোন মলম বা ওষুধে
(সেদিন আকাশ এসেছিল)
এবারের বইমেলায় প্রকাশিত কবি কঙ্কা জামিলের 'সেদিন আকাশ এসেছিল' কাব্যগ্রন্থে তাঁর কবি মানস নির্লিপ্ত নিমজ্জন থেকে নিসর্গ নিবিড়ভূবন থেকে,নশ্বরতার পীড়া থেকে নৈরাশ্যপীড়িত স্বভাব থেকে,মানবচেতনে জাগ্রত নৈঃসঙ্গ ও বিচ্ছিন্নতার এক অনুপম চিত্র দেখতে পাইঃ
জানি তুমি ফিরবে না
তুমি ফিরতে জান না
আমার সব ইচ্ছাগুলো পায়ে দ'লে
চলে যাবে;রেখে যাবে
ভাঙ্গা তানপুরার মর্মবেদনা
পোড়া বাড়ির হাহাকার আর
শূণ্য খেয়ার একাকিত্ব
(জানি ফিরবে না)
কবি কঙ্কা জামিল শান্ত,সৌম্য ও বিচ্ছিন্নতাবোধে আবেগাতাড়িত হয়ে হারিয়ে যাওয়া জীবন আর প্রিয় মানুষের মুখচ্ছবি নিয়ে বেদনার্ত হয়েছেনঃ
তুমি-ই ছিলে আমার পৃথিবী
তবু এক নিষ্ঠুর খেলা খেলতে
কেবল হারিয়ে যাবার ভয় দেখাতে
থরথরিয়ে কেঁপে উঠতাম,আমি এক ভয়ার্ত পাখির ছানা
আহত বিড়ালছানা হয়ে তোমার বুকে মুখ লুকাতাম
আর্তনাদ করতাম,তীর বেঁধা হরিণ শাবকের মতো
কী সুখ পেতে তুমি,মা....
কিংবা
আমার মনের ক্যনভাসে এখন দাদুই অসমাপ্ত ছবি
নেই তেমন রঙ বা শৈলী
যা দিয়ে ছবি শেষ করতে পারি
মনের আবেগ ও আকুতির কাছে.....
সব রঙ ফিকে হয়ে আসে।
(অসমাপ্ত ছবি)
নৈরাশ্য ও নিঃসঙ্গ পীড়িত বিচ্ছিন্নতাবোধে ভারাক্রান্ত একটি কবিতাঃ
ফোলা ফোলা লাল চোখ,দেখলেই বুঝি
গতরাতে ছেলেকে স্বপ্নে দেখেছে
আট বছর হল একমাত্র সন্তান নিরুদ্দেশ
মুখ বলে বেঁচে নেই
বুকের গহীনে জানি,জমে আছে গোপণ আশা।
স্বপ্নের হাত ধরে কাছে আসে
ঘুম ভাঙ্গে,লুটিয়ে পড়ে বাঁধভাঙ্গা কান্নায়
(কবিতা যদি)
ঈশ্বরে অবিশ্বাস বিচ্ছিন্নতাবোধের দ্বিতীয় কারণ।(প্রথম কারণটি হলঃমাতৃজঠর থেকে নাড়ীচ্ছেদের ফলে মানবশিশুর জন্মগ্রহণ।) তবু মানুষ সেই প্রাচীনকাল থেকেই ঈশ্বর আরাধনার মাধ্যমে মুক্তির পথ খুঁজে ফিরেছে বারে বারে ঃ
হে ঈশ্বর,ভালোবাসার এক সুনামী দাও
অন্ধত্বের কালি,ঘৃণার তুষাণল,বিদ্বেষের প্রাচীর
ভাসিয়ে নিয়ে যাও
(হে ঈশ্বর)
যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্য্যয়ের ফলে সকল মূলয়বোধের প্রতি আধুনিক মানুষের অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছিন্নতা আর নিরর্থকতাবোধে আক্রান্ত মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে সমস্ত প্রত্যয় ও প্রমূল্যেঃ
সীতা পেরেছিল......
প্রেমের ফসল একা একা ঘরে তুলতে
যত্নে লালন করতে
স্বামী-পুত্রের মিলন ঘটিয়ে
সংসারত্যাগী হয়েছিল,হয়তো অভিমানে
(আজকের সীতা)
..............
কোনও কোনও দিন
আঙ্গুলগুলো নিশ্চল থাকে তানপুরার তারে
অলস চোখ ঝিমায় বই এর একটা পাতায়
বেলির গন্ধ কী ভীষণ ঝাঁঝালো মনে হয়
গরম চা,ঠান্ডা সিরাপ একাকার হয়ে যায়
জীবনের টুকরা কথা
অসার বক্তৃতার মতো বাজে!!!
(কোনও কোনও দিন)
এমোন্ন পরিস্থিতে মানুষ অন্যের দৃষ্টি থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চায়।তার চিন্তা, চেতন ও মননে শংকা ও উদ্বেগ ভর করে। মানুষ ক্রমশঃ স্বীত সত্বা,ব্যক্তিক,পরিবার ও সামাজিক জীবন সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে ফলে বিচ্ছিন্নতা বোধে জারিত থেকে স্বগত,অস্ফুষ্ট উচ্চারণ করেঃ
.............
ওর গায়ে দাগ আছে জানি
এও জানি,ওখানে একটা ক্ষত আছে
নিজেই গুলি ছুড়েছিলাম যে
এখনো থেকে থেকে রক্ত ঝরে
তবু দ্বার খুলি না সহজে
এ ব্যাথা,এ দাগ সারবে কোন মলম বা ওষুধে
(সেদিন আকাশ এসেছিল)
এবারের বইমেলায় প্রকাশিত কবি কঙ্কা জামিলের 'সেদিন আকাশ এসেছিল' কাব্যগ্রন্থে তাঁর কবি মানস নির্লিপ্ত নিমজ্জন থেকে নিসর্গ নিবিড়ভূবন থেকে,নশ্বরতার পীড়া থেকে নৈরাশ্যপীড়িত স্বভাব থেকে,মানবচেতনে জাগ্রত নৈঃসঙ্গ ও বিচ্ছিন্নতার এক অনুপম চিত্র দেখতে পাইঃ
জানি তুমি ফিরবে না
তুমি ফিরতে জান না
আমার সব ইচ্ছাগুলো পায়ে দ'লে
চলে যাবে;রেখে যাবে
ভাঙ্গা তানপুরার মর্মবেদনা
পোড়া বাড়ির হাহাকার আর
শূণ্য খেয়ার একাকিত্ব
(জানি ফিরবে না)
কবি কঙ্কা জামিল শান্ত,সৌম্য ও বিচ্ছিন্নতাবোধে আবেগাতাড়িত হয়ে হারিয়ে যাওয়া জীবন আর প্রিয় মানুষের মুখচ্ছবি নিয়ে বেদনার্ত হয়েছেনঃ
তুমি-ই ছিলে আমার পৃথিবী
তবু এক নিষ্ঠুর খেলা খেলতে
কেবল হারিয়ে যাবার ভয় দেখাতে
থরথরিয়ে কেঁপে উঠতাম,আমি এক ভয়ার্ত পাখির ছানা
আহত বিড়ালছানা হয়ে তোমার বুকে মুখ লুকাতাম
আর্তনাদ করতাম,তীর বেঁধা হরিণ শাবকের মতো
কী সুখ পেতে তুমি,মা....
কিংবা
আমার মনের ক্যনভাসে এখন দাদুই অসমাপ্ত ছবি
নেই তেমন রঙ বা শৈলী
যা দিয়ে ছবি শেষ করতে পারি
মনের আবেগ ও আকুতির কাছে.....
সব রঙ ফিকে হয়ে আসে।
(অসমাপ্ত ছবি)
নৈরাশ্য ও নিঃসঙ্গ পীড়িত বিচ্ছিন্নতাবোধে ভারাক্রান্ত একটি কবিতাঃ
ফোলা ফোলা লাল চোখ,দেখলেই বুঝি
গতরাতে ছেলেকে স্বপ্নে দেখেছে
আট বছর হল একমাত্র সন্তান নিরুদ্দেশ
মুখ বলে বেঁচে নেই
বুকের গহীনে জানি,জমে আছে গোপণ আশা।
স্বপ্নের হাত ধরে কাছে আসে
ঘুম ভাঙ্গে,লুটিয়ে পড়ে বাঁধভাঙ্গা কান্নায়
(কবিতা যদি)
ঈশ্বরে অবিশ্বাস বিচ্ছিন্নতাবোধের দ্বিতীয় কারণ।(প্রথম কারণটি হলঃমাতৃজঠর থেকে নাড়ীচ্ছেদের ফলে মানবশিশুর জন্মগ্রহণ।) তবু মানুষ সেই প্রাচীনকাল থেকেই ঈশ্বর আরাধনার মাধ্যমে মুক্তির পথ খুঁজে ফিরেছে বারে বারে ঃ
হে ঈশ্বর,ভালোবাসার এক সুনামী দাও
অন্ধত্বের কালি,ঘৃণার তুষাণল,বিদ্বেষের প্রাচীর
ভাসিয়ে নিয়ে যাও
(হে ঈশ্বর)
যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্য্যয়ের ফলে সকল মূলয়বোধের প্রতি আধুনিক মানুষের অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছিন্নতা আর নিরর্থকতাবোধে আক্রান্ত মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে সমস্ত প্রত্যয় ও প্রমূল্যেঃ
সীতা পেরেছিল......
প্রেমের ফসল একা একা ঘরে তুলতে
যত্নে লালন করতে
স্বামী-পুত্রের মিলন ঘটিয়ে
সংসারত্যাগী হয়েছিল,হয়তো অভিমানে
(আজকের সীতা)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন