যখন আমরা একটা অস্থির সময় পাড়ি দিচ্ছি,মানুষের সু-কোমল মানবিক মূল্যবোধগুলো ক্রমেই ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে,সর্বগ্রাসী এক ধ্বস নেমে আসছে আমাদের ব্যক্তি,সংসার ও সমাজ জীবনে,প্রেমের চিরন্তন,শ্বাশত বাণী,রমণীর রমণীয় রুপ কোথাও আস্থা রাখা যাচ্ছে না;তখন কবি সরদার ফারুক গেয়ে ওঠেন:
এখানে দুঃসহ দিন,জলের অভাবে
গাছগুলো পুড়ে গেছে,ওখানে অনন্ত
ঝর্ণা বয়ে যায় ?
তাঁর কবিতা পড়তে পড়তে পাঠকের মনে অদ্ভুদ এক ঘোর এনে দেয়। যখন তিনি বলেন:
আড়মেন্দি,ঢোল কলমির
ঝোপ পেরলেই হাইওয়ে
সব পথ গেছে
শহরের দিকে ।
কবির এ স্বগদোক্তি কি অনাগত ভবিষ্যতের বা নূতন পথযাত্রা্র দূরবর্তী হাতছানির না কি দুঃখী বাংলার চিরায়ত দারিদ্রপীড়িত গাঁ গ্রামের চিত্র:
গ্রামে ভাত নেই
শীতের কামড়,ছাড়া ভিটে
ভরে আছে তেলাকুচা ফুলে।
তীব্র সংবেদনশীল কবি সরদার ফারুক সচেতনভাবেই হতাশ নন।ভাবালুতায়ও তিনি আক্রান্ত নন,নন মধ্যবিত্ত্ব পলায়নী মানসিক প্রবৃত্তির।সমাজ সচেতন ও মানবপ্রেমিক কবি সরদার ফারুকের রয়েছে প্রচলিত সমাজব্যবস্থার প্রতি সীমাহীন অভিমানঃ
..................
..................
পথ থেকে সরে গিয়ে বিপথেই হাঁটি
পাথরে পাথর গেঁথে ভাঙ্গি স্থাপত্যের
যাবতীয় পূরনো ধারণা
এক তুমি নির্বাসন বলো
বলো উন্মার্গগমন
অন্তর্গত অন্ধকারে থাকি
এইতো আমার অমল ক্যাথারসিস
(ক্যাথারসিস)
কবি সরদার ফারুকের কবি সত্ত্বায় আশা-নিরাশার দ্বন্দ্ব সক্রিয়ভাবে বিদ্যমান।পক্ষাঘাতগ্রস্ত মধ্যবিত্ত্বের জীবনবৃত্তে তিনি কখনো থেমে থাকেন নি বা আত্ম-সমর্পণ করেন নি।আত্মধিক্কারে তাঁর হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে,প্রবল সংশয়ে আচ্ছন্ন হয়েছেন কিন্তু সংশয়ে সুস্থিত হন নি।সংশয়বাদী কবি তিনি নন,আশাবাদ তাঁর মজ্জাগত:
গান গাইবার কালে কন্ঠ চিরে গেলে
আর্তনাদ বলে মনে হয়
পারো যদি মুছে ফেলো
নিঃসঙ্গ পথের চিহ্ন,রক্তঝরা দিন।
(সজারুর অবয়বে)
কিংবা মানুষ কবিতায়ঃ
এইভাবে হয়ে ওঠো,হয়ে ওঠো নিজের ভেতরে
বেড়ে ওঠো রক্তবীজ,অবাঞ্জিত ভ্রুণ
ফুটে ওঠো অনায়াসে কিশোরীর গোপণ কোরক
অদম্য আশাবাদী কবি সোনালী ভবিষয়ৎকে দেখেন অন্তর্দৃষ্টি মেলে :
.............
দলে দলে মানুষেরা যাত্রা করে অদম্য সাহসে
নতুন ঠিকানা লেখে সুবাসিত নামে।
(এক্লোডাস)
কবি সরদার ফারুকের কবিতায় সমকালীন মানুষের বিচ্ছিন্নতার গভীর যন্ত্রণার আর্তনাদ শোনা যায়।যুগ-মানসের অস্তিরতা,অনিশ্চিত পরিবেশ,ব্যক্তি-জীবনের দুঃখ-যন্ত্রণায় কবির হৃদয় বারং বার চঞ্চল হয়েছে।হতাশা,ক্লান্তি,নৈরাশ্য প্রসঙ্গেও বিচ্ছিন্নতা এসেছে তাঁর কবিতায় :
হেঁটে যেতে যেতে চোখে পড়ে
মে ফ্লাওয়ারের বৃষ্টি ভাজা গাছ,নিঃসঙ্গ টিলার
নীচে বুনোলতা,ঘাস ফড়িং,খরস্রোতা মনু নদী
অনেক পূরণো ব্রীজ।এই পথ কোথায় গিয়েছে
মিশে আছে আরো কিছু পথের বেণীতে
( মনু ব্রীজ)
সমাজ সচেতন কবি সরদার ফারুক সমকালীন জীবনের নানা অসঙ্গতি ও অনাচারে পীড়িত হয়েছেন,যুগের অন্ধকারে তিনি গা ভাসিয়ে দেন নি।ব্যক্তিজীবনের ব্যর্থতা,সমাজ জীবনের একাকীত্বকে তিনি পরাবাস্তববাদী কবিতা রচনা করে মানুষের বিভঙ্গ ও অসহায়জীবনের একাকীত্বকে রুপদান করেছেন সফলভাবে।এখানে তিনি দক্ষ কুশীলব:
ভগ্ন এক প্রাসাদের ক্লান্তি
ভর করে ঘোড়ার শরীরে
রিংমাষ্টার,চাবুক দেখিয়ে
কোন লাভ নেই
ভীষণ গম্ভীর ভাঁড় দার্শনিক সেজে
শিষ্য পরিবৃত
দড়ির খেলায় শুধু বয়স্কা রুপসী
শিরা ওঠা হাতে
আকড়ঁ ধরেছে জোরে অদৃশ্য দেয়াল
(সার্কাস)
কবি সরদার ফারুকের মস্তিষ্ক প্রসুত অবচেতনের প্রতীকগুলো ভেসে অপূর্ব এক নান্দনিক তাৎপর্য্যে;যার ফলে পাথরের পাখিকে তিনি আকাশে উড়ে যেতে দেখেন।সত্যানুসন্ধানী এ কবি প্রকৃত বাস্তবকে উন্মোচনের জন্যে পরাবাস্তববাদী চেতনায় কবিতা রচনা করেন। এ পরাবাস্তব চেতনা তাই তাঁর কবিতার নন্দন্তত্ত্বের অপরিহার্য্য অংশ হয়ে ওঠে।নিসর্গ সৌন্দর্য্য ও আত্ম-অনুভবের অনুভূতি দিয়েই কবি সরদার ফারুক তাঁর কবিতার অবয়ব গড়ে তোলেন। তাঁর আত্মজ ভালোবাসা ও সৌন্দর্য্যতৃষ্ণা কবিতার প্রতিটি বাক্যে,প্রতিটি শব্দে।নন্দঞ্চিন্তার বীজ বপণ করেন একজন প্রকৃত শব্দচাষার মতোনই;যার ফলে কবিতার অকর্ষিত ভূমি থেকে তুলে নেন অপার প্রাচুর্য:
রেলপথ ধরে হেঁটে গেলে
ছোট কালভার্ট
অগভীর জলে খেলা করে
ডানকানা মাছ
তারপর তোমাদের বাড়ী
তুমি থাকো ভিতরের ঘরে
নীল জামা বাইরে শুকায়
আনন্দ কোথায় তুমি কবি সরদার ফারুকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।তিনি তাঁর প্রথম বইয়ের মাধ্যমেই বাংলা কবিতায় ঠাঁই করে নিয়েছেন।যদিও হোঁচট খেতে হয় নামকরণের হেতু কি?যদিও জানি এ নামে তাঁর একটি কবিতা রয়েছে। বাংলা কবিতায় সরদার ফারুকের আগমন এমন এক সময়ে যখন সাইবার কল্যাণের কারণে রদ্দিমার্কা কবিতায় পথ হাঁটা দুষ্কর।উনি সযতনে সমস্ত কাঁদা-পাক এড়িয়ে পূর্বসুরী জীবনানন্দ,বিনয় মজুমদারের পথে হাঁটছেন।কবিতার বিচরণক্ষেত্রে তাঁর বিচরণ সার্থক হোক।
এখানে দুঃসহ দিন,জলের অভাবে
গাছগুলো পুড়ে গেছে,ওখানে অনন্ত
ঝর্ণা বয়ে যায় ?
তাঁর কবিতা পড়তে পড়তে পাঠকের মনে অদ্ভুদ এক ঘোর এনে দেয়। যখন তিনি বলেন:
আড়মেন্দি,ঢোল কলমির
ঝোপ পেরলেই হাইওয়ে
সব পথ গেছে
শহরের দিকে ।
কবির এ স্বগদোক্তি কি অনাগত ভবিষ্যতের বা নূতন পথযাত্রা্র দূরবর্তী হাতছানির না কি দুঃখী বাংলার চিরায়ত দারিদ্রপীড়িত গাঁ গ্রামের চিত্র:
গ্রামে ভাত নেই
শীতের কামড়,ছাড়া ভিটে
ভরে আছে তেলাকুচা ফুলে।
তীব্র সংবেদনশীল কবি সরদার ফারুক সচেতনভাবেই হতাশ নন।ভাবালুতায়ও তিনি আক্রান্ত নন,নন মধ্যবিত্ত্ব পলায়নী মানসিক প্রবৃত্তির।সমাজ সচেতন ও মানবপ্রেমিক কবি সরদার ফারুকের রয়েছে প্রচলিত সমাজব্যবস্থার প্রতি সীমাহীন অভিমানঃ
..................
..................
পথ থেকে সরে গিয়ে বিপথেই হাঁটি
পাথরে পাথর গেঁথে ভাঙ্গি স্থাপত্যের
যাবতীয় পূরনো ধারণা
এক তুমি নির্বাসন বলো
বলো উন্মার্গগমন
অন্তর্গত অন্ধকারে থাকি
এইতো আমার অমল ক্যাথারসিস
(ক্যাথারসিস)
কবি সরদার ফারুকের কবি সত্ত্বায় আশা-নিরাশার দ্বন্দ্ব সক্রিয়ভাবে বিদ্যমান।পক্ষাঘাতগ্রস্ত মধ্যবিত্ত্বের জীবনবৃত্তে তিনি কখনো থেমে থাকেন নি বা আত্ম-সমর্পণ করেন নি।আত্মধিক্কারে তাঁর হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে,প্রবল সংশয়ে আচ্ছন্ন হয়েছেন কিন্তু সংশয়ে সুস্থিত হন নি।সংশয়বাদী কবি তিনি নন,আশাবাদ তাঁর মজ্জাগত:
গান গাইবার কালে কন্ঠ চিরে গেলে
আর্তনাদ বলে মনে হয়
পারো যদি মুছে ফেলো
নিঃসঙ্গ পথের চিহ্ন,রক্তঝরা দিন।
(সজারুর অবয়বে)
কিংবা মানুষ কবিতায়ঃ
এইভাবে হয়ে ওঠো,হয়ে ওঠো নিজের ভেতরে
বেড়ে ওঠো রক্তবীজ,অবাঞ্জিত ভ্রুণ
ফুটে ওঠো অনায়াসে কিশোরীর গোপণ কোরক
অদম্য আশাবাদী কবি সোনালী ভবিষয়ৎকে দেখেন অন্তর্দৃষ্টি মেলে :
.............
দলে দলে মানুষেরা যাত্রা করে অদম্য সাহসে
নতুন ঠিকানা লেখে সুবাসিত নামে।
(এক্লোডাস)
কবি সরদার ফারুকের কবিতায় সমকালীন মানুষের বিচ্ছিন্নতার গভীর যন্ত্রণার আর্তনাদ শোনা যায়।যুগ-মানসের অস্তিরতা,অনিশ্চিত পরিবেশ,ব্যক্তি-জীবনের দুঃখ-যন্ত্রণায় কবির হৃদয় বারং বার চঞ্চল হয়েছে।হতাশা,ক্লান্তি,নৈরাশ্য প্রসঙ্গেও বিচ্ছিন্নতা এসেছে তাঁর কবিতায় :
হেঁটে যেতে যেতে চোখে পড়ে
মে ফ্লাওয়ারের বৃষ্টি ভাজা গাছ,নিঃসঙ্গ টিলার
নীচে বুনোলতা,ঘাস ফড়িং,খরস্রোতা মনু নদী
অনেক পূরণো ব্রীজ।এই পথ কোথায় গিয়েছে
মিশে আছে আরো কিছু পথের বেণীতে
( মনু ব্রীজ)
সমাজ সচেতন কবি সরদার ফারুক সমকালীন জীবনের নানা অসঙ্গতি ও অনাচারে পীড়িত হয়েছেন,যুগের অন্ধকারে তিনি গা ভাসিয়ে দেন নি।ব্যক্তিজীবনের ব্যর্থতা,সমাজ জীবনের একাকীত্বকে তিনি পরাবাস্তববাদী কবিতা রচনা করে মানুষের বিভঙ্গ ও অসহায়জীবনের একাকীত্বকে রুপদান করেছেন সফলভাবে।এখানে তিনি দক্ষ কুশীলব:
ভগ্ন এক প্রাসাদের ক্লান্তি
ভর করে ঘোড়ার শরীরে
রিংমাষ্টার,চাবুক দেখিয়ে
কোন লাভ নেই
ভীষণ গম্ভীর ভাঁড় দার্শনিক সেজে
শিষ্য পরিবৃত
দড়ির খেলায় শুধু বয়স্কা রুপসী
শিরা ওঠা হাতে
আকড়ঁ ধরেছে জোরে অদৃশ্য দেয়াল
(সার্কাস)
কবি সরদার ফারুকের মস্তিষ্ক প্রসুত অবচেতনের প্রতীকগুলো ভেসে অপূর্ব এক নান্দনিক তাৎপর্য্যে;যার ফলে পাথরের পাখিকে তিনি আকাশে উড়ে যেতে দেখেন।সত্যানুসন্ধানী এ কবি প্রকৃত বাস্তবকে উন্মোচনের জন্যে পরাবাস্তববাদী চেতনায় কবিতা রচনা করেন। এ পরাবাস্তব চেতনা তাই তাঁর কবিতার নন্দন্তত্ত্বের অপরিহার্য্য অংশ হয়ে ওঠে।নিসর্গ সৌন্দর্য্য ও আত্ম-অনুভবের অনুভূতি দিয়েই কবি সরদার ফারুক তাঁর কবিতার অবয়ব গড়ে তোলেন। তাঁর আত্মজ ভালোবাসা ও সৌন্দর্য্যতৃষ্ণা কবিতার প্রতিটি বাক্যে,প্রতিটি শব্দে।নন্দঞ্চিন্তার বীজ বপণ করেন একজন প্রকৃত শব্দচাষার মতোনই;যার ফলে কবিতার অকর্ষিত ভূমি থেকে তুলে নেন অপার প্রাচুর্য:
রেলপথ ধরে হেঁটে গেলে
ছোট কালভার্ট
অগভীর জলে খেলা করে
ডানকানা মাছ
তারপর তোমাদের বাড়ী
তুমি থাকো ভিতরের ঘরে
নীল জামা বাইরে শুকায়
আনন্দ কোথায় তুমি কবি সরদার ফারুকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।তিনি তাঁর প্রথম বইয়ের মাধ্যমেই বাংলা কবিতায় ঠাঁই করে নিয়েছেন।যদিও হোঁচট খেতে হয় নামকরণের হেতু কি?যদিও জানি এ নামে তাঁর একটি কবিতা রয়েছে। বাংলা কবিতায় সরদার ফারুকের আগমন এমন এক সময়ে যখন সাইবার কল্যাণের কারণে রদ্দিমার্কা কবিতায় পথ হাঁটা দুষ্কর।উনি সযতনে সমস্ত কাঁদা-পাক এড়িয়ে পূর্বসুরী জীবনানন্দ,বিনয় মজুমদারের পথে হাঁটছেন।কবিতার বিচরণক্ষেত্রে তাঁর বিচরণ সার্থক হোক।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন