বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৫
জ্বালানী ক্ষত
সেই সমস্ত ডুমুরবনে আজ আর কোনো কাঠবিড়ালির বাসা নেই - উপদ্রুবময় জামের বাগানে সংঘবদ্ধ পিঁপড়ের সারি থেকে দিকভ্রান্ত ঘাসফড়িঙের গতি-প্রকৃতির যন্ত্রণাময় যে পথ নির্দেশিত ছিল আর যারা বেঁচে ছিল,- মৃতের সমান; শোধনাগারের দিকে ছুটছে-তাদের দুই পায়ে জ্বালানীর ক্ষত।ক্ষতবহ এবং অশনি ফসল-রুঢ় কষাঘাতে একাধারে তাপ ও বিদ্যুৎ - অন্যপাশে বৃত্তময় চাঁদ;এক্সসবাইকে ফেলে এগিয়ে চলেছে - বনমানুষের দল-সু-প্রাচীন মিথ, তমসাগানে মুখর রাজপথ-চিহ্নিত সমুদ্রপথ, পশ্চিমের ঘাটশীলা এবং বনের গভীর অন্ধকার ছিঁড়ে ফিরে যেতে আত্মরতিপূর্ণ যৌবনের দিকে । যৌবন ও ক্ষুধা, কুয়াশাঘন আলোকবিন্দু, ফুল ফোটানোর আগে এবং যৌনতার কালে বিপরীত,প্রতিদ্বন্দী বোধে একসাথে প্রসারিত যোনী ও আর হাঁ করা মুখের গ্রাস - নির্বেদ শূন্যতা ঝরে পড়ে পীতাভ নাভির মধ্য থেকে ।
২.
পাতা ঝরা হেমন্তের রিক্ততার শোক ভুলে যারা আধখানা ডাল ভেঙে পথে নেমেছে - মন্থরগামী কাল,- বিস্ময় চিহ্নের মতো চৈত্র-ফাল্গুনে চোখের নীচে নড়ে ওঠে । মাটির শুকনো পথ,নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে নদীর ওপাড়ে আবাস গড়েছে - নিদ্রাটিলা ও জটিল-জটা অক্ষরের ভাবগম্ভীর লেখায় অবিশ্বাস করতে শিখেছে - অবলীলায় মহাবিষুব রেখা মুছে দিয়ে গ্রন্থের মলাটে ঔষধির ক্ষেত আর মহা শ্মশানের ছাই - বেতগাছের দোলনা - তাতে হাজার শিশুর দোলা....।
দিনের উপান্তে কারা শুয়ে আছে ভূ-গোলের খোলা মাঠে?
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন