Powered By Blogger

সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

মৃত গ্রহের কংকালসার জীবন

সন্দেহে সন্দেহে কেটেছিল দুপুরের পথ
নিঃঝুমতা খোলা-
বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাসে দুই হাতে মুঠো মুঠো রৌদ্রতাপ
যতখানি প্রয়োজন ছড়িয়ে দিয়েছে
নদী কি তার সমস্ত জল ধরে রাখে,রেখেছে কখনো

সমুদ্রের পথে নদীও নিঃশেষ হয়ে যায়

আমার নীরব রক্তপাত,স্থবিরতা
অস্পষ্ট জীবন,কালিমাখা ঘর---পরিধিবিকার বৃত্ত ঘুরে ঘুরে ফিরে আসা

বেঁচে থাকতে চেয়েছি মাথা তুলে জলের ওপর
অথচ প্রবাহমান ঢেউ ঢেকে দেয় অবয়ব
ডুবোপাথরের প্রসারণশীলতায় বেড়ে উঠছি

দিনের সমস্ত অপমান নিয়ে বসে আছি
রাত---সে ও একরাশ অপমান ঢেলে দেয় বিছানায়
আমার মাটির বাড়ি বজ্রাহতে পুড়ে খাক হয়ে আছে
দরোজা-জানালা বন্ধ,আলোবাতাসহীন এ ঘরে কেটে গেছে অর্ধেক জীবন

লোহার আরক,সীসা,গন্ধক মেশানো জল কুঁজো ভরে রাখি
যদি মাঝরাতে তৃষ্ণা পায়
জেগে ওঠে কবিতার প্রহর,গ্রহণ কাল

আমার নিমগ্ন হাতে উঠে আসে কবিতার বই
সূচিভেদ্য অন্ধকারে গেয়ে উঠি

আমি চাই নি এমন মৃত গ্রহের কংকালসার এ জীবন


আবহমান

মাটির অতল গর্তে আবাস গড়েছি
কেননা আমার বাবা-মা শেয়াল ছিল
মানুষেরা তাদের মেরেছে
লোকালয়ে এসে পড়েছিল বলে

চারিদিকে হাতছানি উচ্চাশা,লোভের
সারারাত জেগে জেগে দেয়াল গাঁথতে থাকি
সুরক্ষিত মনোজগৎ,তমোহীনতা,---

আমার বুকের ক্ষত পেকে টসটসে
হাতের চেটোয় নোংরা পুঁজ মুছে ফেলে
জলে নামি,ভেসে যাই,যেতে যেতে দেখিঃ

মাথার ওপর চিল পাক খায়
নীচে,কুকুরের শব
পিঠের ওপরে কাক ঠোকরাচ্ছে অন্ত্র

তুষের আগুন

যদি ফেরৎ দেবার প্রশ্ন আসে
যা নিয়েছি এতদিনে,---
আমার শোবার ঘরে খুব যত্নে আছে সে ছবিটা
মেহেদী রাঙানো হাত---আজও তেমনি জ্বলজ্বলে

আর আত্মলাঞ্জনার ক্ষত সমস্ত শরীরে
অথচ গলায় ঠিক সুর বাজে
উদগত শষ্পের মতোন কলুষমাখা এ হাত
বুকের উপান্ত বেয়ে আরও গভীরে....

দ্বিধা ও দ্বন্দ্বের লজ্জা ভেঙে বলেছিলাম,'বিদায়।'
অর্থাৎ তোমাকে নয় নিজেই নিজেকে ভাসিয়েছি জলস্রোতে

জল বাড়িয়ে দিয়েছে দাহ,ধিকিধিকি তুষের আগুন

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

দ্বিতীয় নির্মাণ

কাঁশবন।বধির নৌকার সারি।অনিশ্চিত প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে ভূগোল ঘুরছে।
ওই দেখ,আকাশ কেমন ঝূঁকে আছে পৃথিবীর দিকে,শোনো,তার শ্বাসপতনের শব্দ।
রৌদ্র ও আবহমান নক্ষত্রের আবর্তনে গৈরিক দ্যুতির ব্যবধান।নির্মোহ বিশ্লেষে
প্রারম্ভিক প্রস্তুতি;যা অনিবার্য্য আমাদের দ্বিতীয় নির্মাণে যথাযথ ইঙ্গিতপালন।

অসাড় সমুদ্রচারী-যারা দ্বীপান্তরে খুঁজে নিয়েছিল দ্বিতীয় আবাস,প্রতিধ্বনিময়,
জোয়ার ভাটার দিকে,খাড়িমোহনার দিক থেকে উঠে এসেছিল সূর্যোদয়ের পথ,
সেই পথে মেঘ ও আলোর রেখা,বাঁশির ফুৎকার,ইদ্দিশ মন্ত্রের মতো ঘন জলরাশি।

ভাঙা ঢোলের আহ্লাদে অনেকান্ত জীবনের সর্বাস্তিক উপস্থিতি;শব্দময় আয়োজনে
তারাপতন মুহূর্ত,অবধারিতের বিকিরণশীল চলমানতা অর্থাৎ শ্বাশতিক।

নিয়মানুবর্ত যা অন্তত বর্ণমুখী-দ্বিতীয় নির্মাণে আত্মবৃত্ত ও একক পরিসীমা।

সমবেত পাঠে পাহাড়ের ঢালে এসে মিশে গিয়েছে আকাশছোঁয়া পদপ্রাতে,প্রতিবিন্দু
নিয়ে জ্বলে ওঠে অন্ধকারের মশাল,উর্ধ্বমুখী শিখা ঢেকে ফেলে প্রতীক্ষার গুহামুখ।

আমার বুকের ক্ষত ঢেকে আছে প্রথম বিশ্বাসে অপুষ্পিত ফুল,শুকনো পথের ধূলো
জমিয়ে রেখেছি।যাকে দেবো ভেবেছিলামঃডানায় রক্তদাগ নিয়ে উড়ে গেছে।এই তীরে
চাঁপা পড়ে আছে সজল সময়।ডানার সীমানা নেই।যতটূকু উড়েছিল ততটুকু

নিজস্ব আকাশ।আত্মঘাতকামী পাখিরা ঝাপিয়ে পড়ে আর আদিগন্ত মাটি ভরে ওঠে
এঁটেল মাংসের গন্ধে।মুখগুলি চেনা যায় নেশায় বিকল চোখ,ধূপচ্ছায়া,ধূনিজ্বালা
ধূপের মতোন উড়ে যায় দীর্ঘরাত।সমুদ্রের রঙে মসৃণ ছিল না ভালোবাসা তবু
প্রথম বিশ্বাস হাতে তুলে দেবো দ্বিতীয় নির্মাণ শেষ হলে।

মাটির প্রতিমা

জল ব্যথা সহ্য করতে পারে নি বলে ডাঙায় ফিরেছি
পূর্বজন্ম থেকে অন্ধত্ব ও অপেক্ষার গানে অঘোর চৈতন্যোদয়
প্রাণবৃক্ষ,কূটিল লিখন,বীজগণিতের দ্বি-ঘাত সমীকরণ,--
আলো ও জলের মাঝখানে একটুকরো বারান্দা

খসে গেছে মাটির বানানো মুখ,ঠেস দিয়ে রাখা খড়দেহ
ঘুমের তলায় সারাক্ষন তুলে ধরি জলকণা,বাষ্প
যেন শুষে নেয় ওই শুকনো শরীর
জাদুর শেকড়,মরা ইঁদুরের দাঁত,ময়ূরের চোখ জড়ো করেছি সুড়ঙ্গে
প্রসূন মগজে ধরে রাখি কালো মুক্তা,ভল্লুকের চামড়া ও অপুষ্পিত ফুল
এবং তার চারপাশ ঘিরেছি দেয়ালে

আমার দু'হাতে ছিল শিল্পের শিল্পিত দণ্ড

জ্যোৎস্না ভেবে যখনই ঠোঁট ছূঁতে গিয়েছি অমনি
আঙুলের ফাঁক গলে খসে পড়ে মাটির প্রতিমা আর
এক অক্ষৌহিনী সৌরতাপ এসে শূণ্যে ছুঁড়ে ফেলেছ আমাকে

দরোজাবিহীন ভাঙা সিঁড়িপথে লতানো গাছের ডালে আমি শূণ্যে ঝুলে থাকি

সজল শেকড়

জল ও আলোর মাঝামাঝি শুয়েছিলাম,বুকে,---
পিতামহের প্রদীপজোড়া দুঃখ
সবুজের সবটুকু আন্তঃসার পায়ের তলায় মেখে
মন্ডপের পাশ ঘেঁষে চলে গেল তীর্থযাত্রীদল

সমস্ত শরীরে অবসাদ নিয়ে উঠে আসি ভোরবেলা
দিন ও রাতের পঙ্গু পরিশ্রমের তরল আলো,খালপারে
জলে ভেসে যাব কবে
এলোমেলো ডাঙার নৌকায় বসে চেয়ে দেখি
দক্ষিণমুখো স্রোতের দিকে
করতলে সূর্যরেখা,চোখে প্রাত্যহিক তিস্তা

একেকদিন ব্রাক্ষমুহূর্তে ভেজা বাকলের শ্বাসে মনে হয় মুছে যাই
শেফালীগুচ্ছের গন্ধে
মাথার ওপর দিয়ে
'মৃত্যু নেই,মৃত্যু নেই।'বলে উড়ে যায় সাদা বক
খসে পড়া পালকে,ডানায় রক্তক্ষত

রুপালী ডানার মতো আমার স্বগত সুরে ঝরে পড়ে
মেঘ রৌদ্র,ঢেকে ফেলে আলোকবর্ষের গতিপথ
দু'ধারে গাছের স্নেহশাখা---বাকলে বাকলে ঘূণ
পাতায় সবুজ শিরা-উপশিরা
ম্লান ইশারায় অনাদরের ভেতর বাসাহীন শরীরের সজল শেকড়

আগুনের প্রতিহিংসা

নদীর ঐ তীরে আগুন জ্বলছে
পুড়ে যাচ্ছে কার স্বপ্নমাখা বাড়ীঘর
কাছে গিয়ে দেখি ঝলসানো ভিটেমাটি,---ওপরে আগুন
পুরোপুরি নেভেনি,উড়ছে জলকণা,উঠোনে শুকোনো রক্ত,
তোবড়ানো ঘট,এনামেলের সানকি
খুনখুনে বুড়ি কাঁদছে---মাথার চুলে জট

পাথর,না প্রতিহিংসা---আগুন বোঝে না
ধিকিধিকি ছাই নাচে আধপোড়া দেহ ঘিরে;
যে সমস্ত নারী ও পুরুষ
শুয়ে আছে শীতল জলের ধারে