শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০১৫
নীল বিষাদ
যারা বালির উত্থানে ভীত হয়েছিল
নিভৃত আশ্বাসে সামুদ্রিক ঢেউ তাদের ভাসিয়ে নিয়েছিল
জীবনমৃত্যুর মাঝামাঝি বায়বীয় জালে
আটকে রয়েছে ক্ষুধা,প্রেম,পরাভব
আমাকে ভালোবাসার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলে
ছুঁড়ে ফেলে সনাতনী দেহভার - কার কাছে যাব
তোমার পায়ের কাছে কুকুরকুন্ডলী শুয়ে থেকে
অঞ্জলী পেতেছি
ব্রাম্মমুহূর্তে চেয়েছিলাম - এক জীবনের অবসাদ
মাথার ভেতর জ্বলে ওঠে একশ হাজার নীল বাতি
তোমার ঘরের নীল পর্দা বাতাসে উড়ছে
এতো বিষাদ কোথায় ধরে রেখেছিলে
শুদ্ধিস্নান
সিঁড়িতে বলির রক্ত - - - মুছে দেয় বাঁশপাতা
মন্দিরে বিগ্রহ নেই - - - লতিয়ে উঠছে সাপ
তুমি আর দাঁড়িয়ে থেক না
পালাবে,কী লাভ পালিয়ে
বরঞ্চ দু'হাতে মেখে নাও রক্ত
আমার মদের গ্লাসও রক্তে ভরা
ঠোঁটে ধরে আছি ফেনায়িত হাসি
প্রেতের নাচ ও পানোৎসবে বেমানান দাঁড়িয়ে থেক না
একে একে খুলে ফেলো শাড়ী,ব্লাউজ,কাঁচুলি
অতঃপর সভ্যতার রক্তে শুদ্ধিস্নান
সোনালী বিভ্রম
একটানা দু;সহ বৈশাখ।দুঃস্বপ্নের ভেতর চলছে একদল অভিযাত্রী।
পেটিকা ও বোঁচকায় লেখাঃপথ।ক্ষুধা।শ্রান্তি বিনোদন।আশ্রয়।পুরানো ঘর এবং
গ্রীষ্মরাতের একাকী দুঃখ।
অশ্রুর সীমানা ছুঁয়ে শুরু হয়েছিল বিষুব শূন্যতা;
সেই দ্বিতীয় বেদনা আজ সত্যিকারের বিমূর্ত আর চৈত্রদুপুরের ক্রোধ,---
নৈঃশব্দের চলচ্ছায়া,পায়ের গভীর দাগ ও বিনীত অবিশ্বাসে
যারা পথে নেমেছে - দিগন্ত থেকে উড়ে আসা কাকের অক্ষরে
চোখের সামনে যতদূর দৃষ্টি যায়
শুধু সোনালী বিভ্রম
শুধু একবার নারী নয়,মানবীর বেশে অবতীর্ণ হও
সুদূর পরাহত প্রবাসী নারী
বনজ সঙ্গীত ভালোবেসে একদিন এ শরীর ছুঁয়েছিলে
এই সে বনের পথ একদিন এখানে ফুলের মালা গেঁথেছিলে
এই সেই জলাশয়;যেখানে সমস্ত শরীরের সুখ মুছে নিয়েছিলে
এই যে তমাল গাছ,মহুয়ার সারি
পিঁপড়েরা দেশান্তরে ছুটে যাচ্ছে- মুখে ডিম - অস্থির তাদের চলাফেরা
মহুয়া ফুলের গন্ধে মাতাল বাতাস,মাতাল মৌমাছি
কিছুতেই ফিরবে না জানি তবু
একবার,শুধু একবার নারী নয়,মানবীর বেশে অবতীর্ণ হও
চান্দ্রপথ ও হাড়ের পাশাখেলা
জানালার বিপরীতে রাতের জোনাকী
রক্ত ও আনন্দমাখা প্রেত নাচছে;যেহেতু ঘুমাই নি
অন্ধকারে সাদা হাত বাড়িয়ে দিয়েছি
কালো,অপুষ্পিত - যা যা আছে
হরিণের চামড়া,শুশুক,ময়ূরের চোখ ও পালক,
ছিন্নভিন্ন মানুষ ও পাখি
এইখানে পড়ে ছিল বলে - ওপারের বধ্যভূমি,খড়ের কাঠামো ফেলে
কিছদূরে বদ্ধ নদীর কিনারে চাঁদ একা বসে থাকে
পায়ের তলায় রাত্রি,সকালের ব্রতে
প্রাচীন অক্ষরমালা ঘেঁটে অন্ধ পেঁচারা নিরাপদেই ঘরে ফেরে
কেউ জানে নি মাটির ঢিবি,রাতের পাহারা
মাটির গভীরে আরো ঈর্ষা,চান্দ্রপথ ও হাড়ের পাশাখেলা
সমানুপাতিক ছায়া
ক্ষুধারুপিনীর ছড়ানো আঁচল।ভাঙা পানপাত্র।
অনাসক্ত মাটির সানকি।চুলার ওপর জটাফুল।
অস্তিত্বের প্রশ্নে লোহাচূর্ণ,শৈবাল,কচুর শাক
গুড়ি,গেগলি,শামুক এবং আরও কিছু.....
এই শতাব্দীতে অনাহারী মানুষের খাদ্যনালীতে সতর্কবার্তা
ঝুলিয়ে দিয়েছে - অনাসক্ত বিস্ময় চিহ্নের মতো ।
পতন-উন্মুখ আসুরিক সভ্যতার জারিত উন্মাদ রসে
অগণন মানুষের সমাগম। দেশ-জনপদ সামনের দিকে
না-কি পেছনের পথে?সরল অংকের মতো অর্ধসত্যে কিংবা
কূট-পরিক্রমায় সমূহ প্রশ্ন চাপা পড়ে আছে।
স্বাক্ষরতার হারের ঊর্ধ্বঃক্রমে আনন্দিত নগরপাল অথচ জন্ম এবং মৃত্যুহারের
আপাত পার্থক্যে সীমাহীন ব্যবধান।
পদ্মদিঘী আর বাঁশবনে সমানুপাতিক ছায়া ফেলে উড়ে যায় বালিহাস
ডুব সাঁতার ও লগিঠেলা
নিঃসঙ্গ পথিক জানে সামনের গহ্বর,মৃত্যুর বাঁক
একদিন অতৃপ্ত প্রেমিক জেনে নিয়েছি শরীর ---
তার সমস্ত সীমান্ত চৌকি,লোভনীয় ভাঁজে অসংখ্য কামার্ত ঊরু শুষে নেয় আর
শরীরের নীচে উন্মাদ শালকী,দাম,শ্যাওলা ও জোঁক,---
তারপর নিমজ্জিত জাহাজের মতো বিসর্জন
জ্যোতিষ্কপুঞ্জের অভিমান ততটা নির্ভার নয়
যতটা আমার বুক,পেশী ও পাঁজরে ক্ষত
শালকীর স্রোত থেকে ভেসে ওঠা আলোর ভেতর
বসন্তদিন ও রক্তমাখা চোলি ---
আত্মার গভীরতর বাস্তবতা মেনে নিয়ে
পূর্বাপর স্রোতের বিপক্ষে লগিঠেলা ও ডুব সাঁতার
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
