বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
জন্মভয়,মৃত্যুর আনন্দ
সবুজের মুঠো খুলে গড়িয়ে পড়ছে একান্ত আয়না,তেলছবি,অবসাদ - শতাব্দীর জলস্রোত আমাদের গোড়ালি ছাড়িয়ে হাঁটু অব্দি উঠে যেতে চায় - এই নিরালোক আবহমানতা ছেড়ে কোথায় পালাতে চাও - অতীতকালের প্রণয়কথন মনে পড়ে - এত যে প্রণয় - অবেলায় এসে মনে পড়ে ঝর্ণাতীরের পূরানো গুঁড়ি - চ্ছিন্ন মুহূর্ত,অদৃশ্য জাল,- সব ঢাকা পড়ে যায়ঃএই পৃথিবীতে প্রেম ছিল -কিশোরী শিশির,ধানদূর্বা,নদীর উজানস্রোত ঠেলে ভালোবাসা এসেছিল - শরীরে শারদবেলা - কাশবনে মিশে থাকে আমাদের প্রিয়নাম - শব্দগুলো খুলে যায় - জলস্রোত টেনে নেয় সমুদ্রের দিকে - জন্মভয়,মৃত্যুর আনন্দ ফেলে আমার বুকের এই ঘর ছেড়ে যেতে পেরেছ - ভুলেছ মৃত্যু-মনোরথ।
অস্তদীঘী পার হয়ে ছুটছে মৃত্যুর রথ - অন্তরীণ আলোকণা ছিঁড়ে নেয় কাল-সমকাল-মহাকাল - আমরা ছুটছি,অপরিণামহীন - জন্ম ও মৃত্যুদিনের স্মৃতি - বন্য অন্তরাল ভেঙে অসম্ভব এক তৃতীয় ভূবন জেগে ওঠে আমাদের মনের অলিন্দে - দিনান্তের পূণর্বাসনে চারপাশের আর্তনাদ ও স্ফটিক ঠিকরানো আলোতে আমরা মুখোমুখি - ঘ্রাণ-শ্রুতি-স্পর্শমুখে গভীর সুড়ঙ্গ - শ্বাসকষ্টময় অগভীর ঘুম - পাতালপ্রোথিত শল্যপাতে ভুলে গিয়েছি ঘরের বিষাদ,পতনউন্মুখ পুঞ্জীভূত মেঘ - পৃথিবীর মাঠে সূর্যশোক ও যে কোন ঝড়ে উন্মোচিত হয়ে আসে দুঃস্থ হাহাকার - দেশ-দেশান্তর আর মধ্যজলে যত উদ্যত প্রণয় - ধাবমান শূন্যের ধারায় উঠে যায় - কী বিপুল ব্যথা - পাখিওড়া ছায়ায় দেখেছিঃবিকলাঙ্গের ক্লৈব্যের শ্বাস,আদর ও প্রত্যঙ্গের তৃপ্তি - তোমার দু'চোখে জ্বলজ্বলে ঘৃণা,প্রাণভরণের ঋণ - এত ঋণ শুধবে কিভাবে ?
পুজোমন্ডপের পাশে ফুলতোলা সকাল - পশ্চিমমুখো স্মৃতিগুলো যেন আষাঢ়ের ঢল - সব একসাথে নেমে আসে - ছাপিয়ে নদীর দুই কূল।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন