বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
অমীমাংসিত প্রশ্ন
এবারের দ্রুতগামী শীত বোঝে আগুনের উষ্ণতা - তোমার পায়ের কাছে বিপর্যস্ত বালিয়াড়ি - আমাদের নৈশ অভিসারে চন্দ্ররথ-নেমে এসেছি - দূর,শূন্যপথ ঘুরে আলোকণা অপ্রতিহত গতিতে ঝরে পড়ছে কাঠবাদাম,রুটিফল,আঙুরের লতা - স্পর্শময় নদীরে প্রতিধ্বনিত জল কী দারুণ খেলায় মেতেছে - 'তুমি পথচারিণির ক্লান্তি নিয়ে এসেছো' - সমর্পণের ডাকে পায়ের নীচের বালি নড়ে ওঠে আর নাড়ার আগুন অবিন্যস্ত জ্বলে ওঠে। আমরা ভাবছিলাম পঙ্গপাল আক্রান্ত গাছের ডাল ও পাতার বিবাহসম্বন্ধে দারুণ শীতের ভীরু পাখিগুলি বারংবার উড়ে আসে - আচ্ছন্ন আবিলতায় গাছ থেকে খসে পড়ে পাতা - পেছনে পেছনে বসন্তের ইস্তেহার।
অপার সম্ভাবনায় এবারের বসন্ত আসছে। প্রতিশ্রুতিহীন বনে জটিল লিখন ভঙ্গিমায় কালবৃক্ষের ফল ও পাতাগুলো দুলছে - সমূহ সর্বনাশে মানুষেরা প্রতিটি গহ্বর,প্রতিটি বৃক্ষের মূল খুঁড়ে খুঁজে দেখবে অভ্র ও তামা। এত ধাতু কাদের কল্যাণে? বনের ধুতুরা,শিয়ালমুতির আধফোঁটা ফুল,- প্রতিটি প্রশ্নের গূঢ় অর্থ খোঁজ়ে। ত্রেতা,দ্বাপর ও সত্য যুগ শেষ হয়ে গেছে কিন্তু অনাহারী মানুষের ক্ষুধার স্বরুপ আজও একই রকম। পূব পাড়ার রহিম শেখ ক্ষুধা পেটে সেই যে বানের জল পার হয়ে গেল - সে-কি ফিরে এসেছিল? অনাসক্ত প্রতিটি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর কে পেয়েছিল? সত্যানন্দ মাস্টারের বৌ-টা শেষরাতে কাঁদে কেন? উত্তরের মুখাপেক্ষী আজ এই শীতার্ত প্রহরে কোন প্রশ্ন করব না। অভিসারের মুহূর্তকাল পার হয়ে গেলে আমরা যে যার ঘরে ফিরে যাব। অমীমাংসিত প্রশ্নের যথার্থতা পড়ে থাক সাঁকোর তলায়।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন