শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০১৪
জলবতী-২
১৯.
সকাল ও সায়াহ্নের নদীতে অঢেল ঢেউ
বালির ওপর নতজানু হয়ে সূর্যস্তবে বসেছি;গায়ত্রীমন্ত্রে
মুছে যাবে শোকাবহ আগুন,নদীপ্রণামে কত লোক এসেছিল আজ?
নিবিড় শ্লেষাবিহীন স্মৃতিকোষে শঙ্খের ফুৎকারমতো প্রাগিতিহাসের দিনলিপি
তুমি কোন মুহূর্তের মুখ হাতে ধরে আছ,জলবতী?
২০.
পরিত্যক্ত বন্দরের মুখে বেজে ওঠে মাঝরাতের স্মৃতি
কপালে ফাটল,স্বচ্ছ জলের সংসারে কান পেতে আছি
একদিন,অভিমানবশে আমি আর কোন গান শুনব না
ইলিশের,নাবিকের,ভাসানের
এই জলের ওপর থেকে আলো একদিন সরে যাবে
মেঘ ও উদ্ভিদলতা
বালি ও পাথর
নিমজ্জিত জাহাজ ও দ্রুতগামী বুদবুদরেখা,___
কিছু অংশ শুষে নেবে,বাকীটা প্রতিফলিত
স্বপ্নের ভেতর
তুমি, কোন অন্ধকারে লুকিয়ে থাকবে
২১.
এখন গোধূলিবেলা
জলের কিনারে স্তব্ধ হাতে দাঁড়িয়েছ,জলবতী
লুপ্তস্মৃতির সমস্ত কোষে নিষ্ফল আক্রোশ
জলে ভেজা দু'পা;দাঁড়িয়ে থাকার অনন্যতা,স্থির ছবিতে নিসর্গ,___
সবকিছুই মানিয়ে যায়
ধানসিঁড়ি,
শালকী,সোহাগী
অলকানন্দা,অমরাবতী.....
সব নদী-ই সমুদ্রগামী
শুধু আমাদের গন্তব্য অপরিণামদর্শী,উদ্দেশ্যবিহীন
২২.
একশত চাঁদ পূর্বে থেকেই নদীবিস্তার কিংবা কুয়াশার মধ্য থেকে
জন্মের জটিল ঠোঁট ছুঁয়ে আলো ও অন্ধকারের জল সীমানায় ব্যবহৃত শব,___
তোমার মুখমন্ডল ঘিরে অশ্রুবিন্দুজাল
অস্তগামী চাঁদের তলায় কে এঁকে রেখেছে নগ্ন স্নানঘাট
অপলাপী ভাষার বৃত্তান্ত থেকে এই নিঃঝুম নির্বাসনের প্রান্ত ঘেঁষে
সশব্দ ও আশঙ্কায় হঠাৎ নোঙরের দড়ি ছিঁড়ে
কাপড়ের পাল,কাঠের মাস্তুল,___
বালির চরায় ঠেকে আছে জলযান
নীরবতার আনত চোখে কত ক্লান্তি,ছিন্ন মিথ্যা ও প্রত্যয়ে
পথচলা কিছু বাকী ছিল---স্বপ্নের মতোন সমবেত সুরে
আত্মতৃপ্তির সঙ্গীত;যারা গেয়ে থাকে,তারা বিদায় নিয়েছে
সংহত উৎসব শেষে আমাদের ডানাজোড়া খুলে
আমরা কী তবে জাগতিক বোধের অতীত আঁকড়ে থাকব
২৩.
আশ্বিনের রোদ শুয়ে আছে বালুচর,কাশের জঙ্গলে
নিভৃত সত্ত্বার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি;শবানুগমনের প্রহরে
প্রতিবর্ণী অভিমান,---মুমূর্ষা ও শিল্পের অন্বয়ে
মৃৎশিল্পীর চাকে নূতনভাবে নির্মিত যাত্রিকের শুষ্ক দেহ
আবর্জিত কবিতার লাইন আউড়ে দ্রুত হেঁটে গেলে
২৪.
ছন্দ বিভাগ ও বিভাজনে সমস্ত সকালবেলা সান্দ্র স্রোতের ভেতর
পরিচিত উজ্জ্বলতা;নিশ্চিত শপথে মগ্ন সহজাত প্রবণতা
আমি তীরে দাঁড়িয়ে রয়েছি
মেঘ-রৌদ্র-আলোয় রচিত নিয়মনিরুদ্ধ প্রীতস্বরে ডেকে যাচ্ছি
তুমি,জল ছেড়ে উঠে আস
নিভৃত গৌরবে ঠোঁট তুলে বলে দাওঃ
আমি একা নই
২৫.
আমাদের ইচ্ছেগুলোর রুপরঙ আছে
ধূসর প্রপাতে চেয়ে আছো ক্ষরণের দিকে
খোঁড়া পায়ে চলে এসেছি;প্রাকৃত পৃথিবীর সমস্ত চাতুরী
সাদা শরীরে মেখেছি
বালুচর পার হতে যতটুকু শব্দ,তার চেয়ে বেশী
শেকলের ঝনাৎকার শব্দ তুলে বুকের ওপর দিয়ে হেঁটে যায় দিন
আমাদের ছড়ানো উজাড় কথামালাগুলো
শেষ বিকেলের গোধূলিতে জলের মতোন স্পষ্ট
জলপ্রবাহ,জলদর্পণে অনর্গল ছায়া এসে মিশেছে-ব্রতধারণে
তোমার শরীর ঢেকে আছে-দুই তীরে রক্তিম ফোয়ারা
দ্বিধা এবং ভয়ের প্রবল টান তবু
আমি তোমার কাছেই ছুটে আসি
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন