রবিউল মানিক
পৃথিবী থেকে আজন্ম লালিত সমস্ত গোলাপ গাছ শেকড়শুদ্ধ উপড়ে ফেলা হচ্ছে--
সযত্নে উত্তপ্ত, গলিত সীসা ঢেলে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে গাছের গর্তগুলো যেন কহ্মিণ-
কালেও শেকড় হতে কোন চারাগাছ না জন্মায়।সমস্ত বদ্ধ জলাশয়,বিল ভরাট করে
নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন যেন কিশোরীর প্রথম ঋতুর রক্তমাখা লাল শাড়ীর মতোন
থোকা থোকা পদ্ম কারো মনে নান্দনিক চেতনা না জন্মায়।শ্মশ্মাণে পরিণত আজ সকল
কাশবন;চোখে পড়ে না কদম ফুলের ভেজা পরাগ গ্রীষ্মের দাবদাহে পোড়া আঙুনরাঙা
কৃষ্ণচুড়া,যে কৃষ্ণচুড়া মনে করিয়ে দ্যায়ঃলালপট্টি বাধা বিক্ষোভরত শ্রমিকের কথা।
ইতিমধ্যে দেহহীন লাবণ্যময় ভাস্কর্য 'কবিতা' শিল্পকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে
জড় রাজাকার পলথিনের ন্যায়।আপোষকামী কবিদের বিকল্প লোভনীয় পেশায়
পূণর্বাসিত ও স্বেচ্ছাচারী,দুর্বিনীত কবিদের কয়েদ কিংবা নির্বাসনে পাঠানোর
পরিকল্পনা চুড়ান্ত।কবিতার সমস্ত সাপ্তাহিক,পাক্ষিক,মাসিক,ত্রৈমাসিক,ষান্নাষিক
ও বার্ষিক সংকলন,কবিতার বই,ছেড়াঁখোড়া পান্ডুলিপি রি-সাইক্লিং প্রক্রিয়ার
মাধ্যমে টিস্যু পেপারে পরিণত।নিষিদ্ধ যাবতীয় সুর,সুর উৎপাদনকারী বাদ্যযন্ত্র
বাজেয়াপ্তকৃত বাদ্যযন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে অকুতোভয় সৈনিকদের নিখুঁত লক্ষ্যভেদী
অনুশীলনে।সুরেলা কন্ঠি গায়ক-গায়িকাদের বাধ্য করা হচ্ছে ক্রমাগত চিৎকারে
স্বরযন্ত্র বিকৃত করে ফেলার।
ফকফকে জোৎস্নারাতে নগরী ও গ্রামে নামে কারফিউ,টহলে নামে সাজোঁয়া বাহিনী
নিষ্প্রাণ,নিশ্চল দাড়িঁয়ে থাকা বাড়ী নয় বাড়ীর কাঠামোগুলো শকুনের দৃষ্টিতেখোঁজেঃ
ছিদ্রপথে জোৎস্নালোক অনুপ্রবেশ করে কি-না?কঠোরভাবে নিষিদ্ধ নান্দনিকপ্রেম,
বাধাহীন, দেহজ প্রেম।অবাধে অনুমোদন দেয়া হয়েছে ব্রোথেল,উন্মুক্ত পানশালার
তছনছ করে ফেলা হচ্ছে দোয়েলের আবাস,দোয়েলের মরদেহে মিলছে নগদ পুরস্কার
এক রক্তচক্ষু দানবের আদিম হুংকারে প্রকম্পিত,ভীত-সন্ত্রস্ত স্বদশের মাঠ,নদী ও বন।
নৈরাশ্য ও নৈরাজ্যের আবর্ত,বিপর্য্যস্ত ও ভূলুন্ঠিত মূল্যবোধ থেকে ফিনিক্সিয় শুদ্ধতায়
জম্ন নেবে অনন্ত সবুজ এক পৃথিবী,পাখির কলতানে মুখরিত নান্দনিক এক বাগান।
২০.০১.১১
পল্লবী,ঢাকা।
পৃথিবী থেকে আজন্ম লালিত সমস্ত গোলাপ গাছ শেকড়শুদ্ধ উপড়ে ফেলা হচ্ছে--
সযত্নে উত্তপ্ত, গলিত সীসা ঢেলে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে গাছের গর্তগুলো যেন কহ্মিণ-
কালেও শেকড় হতে কোন চারাগাছ না জন্মায়।সমস্ত বদ্ধ জলাশয়,বিল ভরাট করে
নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন যেন কিশোরীর প্রথম ঋতুর রক্তমাখা লাল শাড়ীর মতোন
থোকা থোকা পদ্ম কারো মনে নান্দনিক চেতনা না জন্মায়।শ্মশ্মাণে পরিণত আজ সকল
কাশবন;চোখে পড়ে না কদম ফুলের ভেজা পরাগ গ্রীষ্মের দাবদাহে পোড়া আঙুনরাঙা
কৃষ্ণচুড়া,যে কৃষ্ণচুড়া মনে করিয়ে দ্যায়ঃলালপট্টি বাধা বিক্ষোভরত শ্রমিকের কথা।
ইতিমধ্যে দেহহীন লাবণ্যময় ভাস্কর্য 'কবিতা' শিল্পকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে
জড় রাজাকার পলথিনের ন্যায়।আপোষকামী কবিদের বিকল্প লোভনীয় পেশায়
পূণর্বাসিত ও স্বেচ্ছাচারী,দুর্বিনীত কবিদের কয়েদ কিংবা নির্বাসনে পাঠানোর
পরিকল্পনা চুড়ান্ত।কবিতার সমস্ত সাপ্তাহিক,পাক্ষিক,মাসিক,ত্রৈমাসিক,ষান্নাষিক
ও বার্ষিক সংকলন,কবিতার বই,ছেড়াঁখোড়া পান্ডুলিপি রি-সাইক্লিং প্রক্রিয়ার
মাধ্যমে টিস্যু পেপারে পরিণত।নিষিদ্ধ যাবতীয় সুর,সুর উৎপাদনকারী বাদ্যযন্ত্র
বাজেয়াপ্তকৃত বাদ্যযন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে অকুতোভয় সৈনিকদের নিখুঁত লক্ষ্যভেদী
অনুশীলনে।সুরেলা কন্ঠি গায়ক-গায়িকাদের বাধ্য করা হচ্ছে ক্রমাগত চিৎকারে
স্বরযন্ত্র বিকৃত করে ফেলার।
ফকফকে জোৎস্নারাতে নগরী ও গ্রামে নামে কারফিউ,টহলে নামে সাজোঁয়া বাহিনী
নিষ্প্রাণ,নিশ্চল দাড়িঁয়ে থাকা বাড়ী নয় বাড়ীর কাঠামোগুলো শকুনের দৃষ্টিতেখোঁজেঃ
ছিদ্রপথে জোৎস্নালোক অনুপ্রবেশ করে কি-না?কঠোরভাবে নিষিদ্ধ নান্দনিকপ্রেম,
বাধাহীন, দেহজ প্রেম।অবাধে অনুমোদন দেয়া হয়েছে ব্রোথেল,উন্মুক্ত পানশালার
তছনছ করে ফেলা হচ্ছে দোয়েলের আবাস,দোয়েলের মরদেহে মিলছে নগদ পুরস্কার
এক রক্তচক্ষু দানবের আদিম হুংকারে প্রকম্পিত,ভীত-সন্ত্রস্ত স্বদশের মাঠ,নদী ও বন।
নৈরাশ্য ও নৈরাজ্যের আবর্ত,বিপর্য্যস্ত ও ভূলুন্ঠিত মূল্যবোধ থেকে ফিনিক্সিয় শুদ্ধতায়
জম্ন নেবে অনন্ত সবুজ এক পৃথিবী,পাখির কলতানে মুখরিত নান্দনিক এক বাগান।
২০.০১.১১
পল্লবী,ঢাকা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন