Powered By Blogger

রবিবার, ১১ মে, ২০১৪

কবিতা এবং গাঁথা

শুধু তোমাদের কথা ভেবে ভেবে এতোদিনে যা লিখেছি
সেই সমস্ত কবিতা এবং গাঁথা
হে আমার পুত্র ও কন্যারা
খেজুরগাছ,আকন্দঝোপ,তমাল বনের অন্ধকারে
দ্যুতিহীন ক্ষুধা,অসুস্থ প্রণয় আর উৎসবের রঙিন বেলুন

নিয়মবিরুদ্ধ দৃশ্য অথবা শর্তস্বাধীন আত্মমগ্ন প্রয়াসের অরচিত বিন্ন্যাস ও
সামগ্রিকতা,রৌদ্রশপথে অবিসংবাদিত এই বর্তমান
যা ঝরছে;সমমর্মী শিল্পী ও কবিরা তাকে চেয়েছিল
পৌনঃপুনিক রঙ,রেখা ও চিত্রকল্পের অনুষঙ্গে

অনেকান্ত জীবনের ওপর অনেক ঝড়,বজ্রপাত
অনাবসান বাজছে,যন্ত্রণার আকাশে কালপুরুষ,কাঁধে কালো কাক
সে-সৌন্দর্য মনোলোভা

উত্থান-পতনে ভ্রষ্ট এ-সব দুঃস্বপ্ন
প্রত্যয় ও ছেদচিহ্নে আগুন,কাটারিভোগ চাল

পানাপুকুরের জল মেশালেই সাদা ভাত

আমার দুঃখের অন্নে দেবতার ভোগ হবে

প্রত্যন্তপ্রদেশে সারাদিন কর্মে ও ভাষায়
শ্রেষ্ঠ অন্ত্যমিলে গেয়েছিলাম সঙ্গীত,পিতৃ-মাতৃ পরস্পরা

খুঁটেছিল কন্দফল
শালকীর বালুচরে জেগে উঠেছিল আত্মা,আদিপ্রাণ
বৃষ্টিনাশা ধানক্ষেত,প্রেতবিম্বে

রুগ্নতারই আলো ও প্রাকৃতজনের হাতে রক্তফল
রক্তক্ষরিত হৃদয় এবং জলহীন গহ্বরে দেখেছি
এনামেলের বালতি দুলে দুলে নামছে,বাঙ্ময় পাখি
ক্রমাবনতির অক্ষরে উড়ছে-তার ডানায় দূরহ শিল্পকর্ম

পৃথিবীর ঢালু ও বর্মরেখায় ইস্পাতের স্ফুলিঙ্গ,বিষাদছায়া
স্তরীভূত মেঘের ফাটলে প্রতিফলনের অস্ত্রহীন আলো
ঔষধির ক্ষেত আর শ্মশানভূমির মাঝখানে

যে বিষুবরেখা---
একদিন সে রেখার প্রান্ত ছুঁয়ে
জল,স্থল ও আকাশপথ পার হয়ে
সাহিত্যপত্র,নূতন বইয়ের প্রচ্ছদ,সন্তাস এবং ঢোল,করতাল,খঞ্জনীর শব্দে
ঐকান্তিক শরীরের প্রেমে মগ্ন
শারদশশী নৌকায় নদী পারাপার

ততোদিন,ততোদিন---
আমার পুত্র ও কন্যাগন
জটিলতাহীন হলুদ কাঁচের জানালার দিকে চোখ রাখো

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন