Powered By Blogger

সোমবার, ১৯ মে, ২০১৪

বসন্ত দিনের অবস্থান

প্রবাহমান দিগন্তে কিশোরবেলার একাকিনী দুঃখ,সদ্যসবুজ উদ্ভিদ আর স্নেহরঙিন দিনের প্রান্ত ছুঁয়ে শ্রান্ত হয়ে বসে আছ,সতেজ ঝর্ণার হলে পা ডুবিয়ে,চোখে অর্বুদ কালের মেঘ।ঠোঁটে লেগে আছে আদ্যিকালের পাথরে ঘঁষা কাল পিপাসার গান।তোমার দু'হাতে পদ্মপাতা,চিরায়ত ফল,---গ্রহণের এই দিনে মনে পড়ে দাঁড়ানো মিথুনমূর্তি?শরিরের সূচীপথ ঘিরে সকাল,দুপুর এবং বিকেলের অপরিচ্ছন্ন মুহূর্তমুখ?কালের আহতকালে ডানাভাঙা হাঁসসস পড়ে থাকে---বুকে পাটল প্রবাহ।আদি-মানবীর চোখের রক্তজলের ক্ষতে যেসব প্রপাতধারাঃঘূর্ণিটান রাত্রি,অবসাদ,অব্যবহৃত সময়--বুকের গভীরে বিমূঢ়তা নিয়ে বসে থাকে।মধ্যজল থেকে উঠে আসা এই যে স্থবির,অলস ভাসানে ভেসে চলা চিরহরিতের ক্ষিধে এবং প্রবাহিত যুগল নিঃশ্বাসে মাটির শরীর জাগে কুন্ডলিত কুয়াশায় আর স্রোতে কাঁপে কলংকরেখার উচ্ছ্বলতা।আমাদের দেখা হয়েছিল শীতার্ত প্রহরে।পটভূমিকায় কূয়াশা,পাংশুটে চাঁদ।আমি সুমেরুর বাসিন্দা,কুমেরু থেকে এনেছিলে বিসর্পিনী অত্যাচার,অপব্যয়ী জীবন ও ভ্রষ্ট উপদ্রব।সজীব সঞ্চারে দেখো সুমেরু আজও কেমন জ্বলছে।যা কিছু আমার চারপাশে প্রাণবন্তঃ
স্বচ্ছ সকাল ও নদীপথ
ঘাস ও শুকনো পাতা
সদ্যস্নাত শরীর ও ভেজা চুলের সুবাস
বাগানের করবীফুল ও আঙুরের রস

সমস্ত জ্বালিয়ে দিয়ে পুনর্বাসিত জীবন অধিকন্ত শীতে দাবী করেছিল তুষের আগুন।অস্থি খুলে নিয়ে দু'হাতে একাকী ঘের,শস্ত্রময় বিশ্বাসঘাতকতায় বুকের পাঁজরে ইচ্ছাময়ী বীজ...।পাঁজরে পাঁজর জুড়ে অর্থহীনতার পরপারে মেরুদন্ডে আর্তনাদ,অগ্নিকুন্ড ঘিরে যে হল্লার রেশ উঠছে;আড়ষ্ট লতা এবং তুষারের কণা থেকে যথার্থ সুদূরে বসন্ত দিনের অবস্থান।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন