Powered By Blogger

সোমবার, ১৯ মে, ২০১৪

চোখের চুম্বন

জলের গভীরতর প্রহেলিকার ভেতর আমি দেখেছি বিরহ,অগ্নিময় শোক এবং প্রকৃত স্বপ্নের রুপে শব্দ ও স্রোতের উর্ধ্বে উঠে যায় ক্ষেত্রজ নৌকাও।নিকারীর শতছিদ্র জাল থেকে নিকারী বৌ এর যে আহ্লাদগুলো স্রোতময়তায় ভেসে চলে-স্মৃতি ও বিস্মৃতিপ্রায় খাঁড়ি মোহনার মুখে জলবন্দী মাছেদের সাথে-এইভাবে,শুধু এইভাবে মানুষের বিনাশের কালে নীল মোমশিখা হাতে দাঁড়িয়েছ অন্ধকারের ভেতর।কালো গর্ভাধারে রক্তচোষা ভ্রুণ।পথচারীর মগজ ঘূণেপোকা।এই সমস্ত শব্দকুহক ছুঁয়ে বুঝে নিই আমাদের বুকের আগুনভরা জল,বাতুলের অগাধ মূর্ছনা।শরীরের প্রতি রোমকূপে যে পাতালগান জেগে উঠছে;নিঃশ্বাসে বুকের পাঁজর ফুঁড়ে বের হয়ে আসে ভাঙা মাস্তুল ও উদাসীন হাল।নিরক্ষরেখার প্রান্তে যতদূর চোখ যায় অবসাদে ভরে আসে শরীর ও মন।খোঁড়াপায়ে কতদূর যাব?দিগন্তের ওপারে নিরভিমানী স্বেদবিন্দু।তার স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে---কোমল ও ভাস্বরতা মেলে।আমার এ চোখ দিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকাওঃজন্মের প্রতীক্ষায় কত ভ্রুণ যন্ত্রণাহত,পায়ের কাছে নগ্ন শুয়ে আছে,শিয়রে মৃত্যুর হা্তছানি।মায়াজাল ছুঁড়ে আর কর মরা ফড়িঙের ডানা,অসাড় দিনের স্থবিরতা তুলে আনা?সৃষ্টির ভেতর ধ্বংসবীজ?স্রোতের ভেতর ঘূর্ণি?শস্যবীজের প্রণয়ে দীর্ঘকাল---ভালো লাগে এইসব প্রেমের কান্নাতে?মুঠো খুলে যায় চৈত্রের দুপুরে আর গড়িয়ে গড়িয়ে নামে তুচ্ছ সবুজের স্মৃতি।মানুষের জন্মে ইচ্ছের স্ফটিক আলো,অসংখ্য আনন্দভারে জীবন ছুঁয়েছিলাম---পরিস্রুত প্রেমিক তারার মতো।বিচিত্র সুখানুভূতি এবং আলস্যের লতা যৌবনের প্রাত্যহিকে খুলে দিয়েছিল---ঘাসের মাথার নীলে,সবুজে-সবুজে।ধারাময় সরীসৃপ দাহে চরাচরব্যাপী  ফুটে আছে কৃষ্ণচূড়ার রক্তের লাল ফুল।চোখের আহত দৃষ্টি চেয়েছিল চোখের চুম্বন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন