Powered By Blogger

মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০১৪

পোড়োবাড়ি

শব্দময় মূর্ছা,পতন ও আত্মউপলব্ধিজাত লোনাঘরে ঝুল,মাকড়সা জাল।অব্যবহৃত উঠোনে গুল্মলতা,স্তুপীকৃত পাতা,ইঁদুরের বিষ্ঠা,ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিন্নত্বক, রক্তফল ও বীজের বেদনা-আহত হাসি।দুপুরের প্রচ্ছদে চৈত্রের ধারাস্নান,পেছনে পানাপুকুর।ভাঙা ঘরের পটভূমিতে নিশ্চেতন পড়ে আছি।আমার পোষাক থেকে ছেঁড়া,ম্লান সুতো বাতাসে উড়ছে।ক্লান্তিবোধ থেকে স্বতঃস্ফুর্ত স্তব্ধতায় মনে পড়ে শূন্য ক্ষেত,অতিরিক্ত পথঘাটে মানুষের শোভাযাত্রা।আমার পেশীর তলা থেকে জন্ম নেয় গ্রন্থকীট।সমূলে হামলে পড়ে অনেকদিনের আছোঁয়া পুঁথি ও ভূর্জপত্রে।

অতঃপর ঘরে ফেরার শীৎকার,চারদিক আলো করে আসে পতঙ্গভূক পাখি ও বিপরীত প্রতিদ্বন্দ্বীবোধ।নির্বেদ শূন্যতা,প্রসারিত সূর্যালোকে নৈকষ্যকুলীন শুদ্রজাত সন্তান--বিচ্ছেদে নীল মৃত্যু ঔদাসীন্যহীনতায় ধ্রুবতত্ত্বে ফিরে যেতে চেয়েছি শৈশবে।উপদ্রুবময় সহস্র বাদুড় ঠেলে যে সব জামের বন একদিন ক্রমাগত সূর্যতাপে দক্ষিণে,খাঁড়িমোহনা পার হয়ে স্ফীতমান বালি ও পাথরে ধ্বনি-প্রতিধ্বনিময় ফিরে এসছিল সাদা কবুতর হয়ে---এখনো হরিতকির মাঠে,কেওড়া তলায় মৃত্যুপথগামী মানুষেরা ছুঁতে চেয়েছিল দীর্ঘ পরমায়ূ রেখা।অন্ধ,বধির ও আঁতুড়েরা দুধের প্রবাহ থেকে কীর্ণ হয়ে উঠে আসে।

নশ্বরতা।আদিপ্রাণ।পশুয়াত্মা।ঘোরানো সিঁড়ির বাঁকে একদিন শুনেছিলাম কঙ্কন,নুপুরের ধ্বনি,মিহিকন্ঠ।কুঁজো হয়ে বসে আজ দেখছি তার্কিক চাঁদে পৃথিবীর গোলাকার ছায়া বুকে নিষ্প্রাণ জ্বলছে।সুখদুঃখের এসব কথা ভেবে ভেবে আঙুরের রস,রুটির টুকরো ছিঁড়ে ইঁদুরেদের ডাকছি,প্রহরীবিহীন।শেষ টুকরোটি শেষ হয়ে গেলে একে একে ত্বক,শিরা,মাংশ,চোখ,হৃৎপিন্ড,মগজ......।শুধু কঙ্কাল অটুট থাক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন