Powered By Blogger

শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০১৩

কবিতার সুমন্ত শরীর

কবিতার শরীরে শরীর ছুঁয়ে শুয়ে আছি,---
আমার হৃদয় থেকে যে সৌন্দর্য্যবোধ জেগে উঠছে তা পূর্ব ফাল্গুনীনক্ষত্র থেকে
বিশাখানক্ষত্র অঞ্চল ছাড়িয়ে আরো দূর,বহুদূর জ্যোতিষ্মান নক্ষত্রলোকের আলো
ও ছায়ার অন্তরাল ছিঁড়ে সূর্য দেখে;জ্যোৎস্নাগ্রস্ত এই কবি উঁচু অশোকের ডালে বসে
একদা গেয়েছিলাম----দৃশ্য জগতের যত গান,প্রবল বৃষ্টির শব্দে জেগে উঠে
চিনে নিয়েছিলাম অদৃশ্য সব বর্ণালী রঙ।মাধবীলতার স্রোতে ভেসে গিয়েছিল
বালিকার গল্পকথা;কদমের এতগুলি ডাল,ফুল ও সবুজ পাতা সুদূর বর্ষার গানে
সাদা হাঁস বাতাসে উড়ছে।আমার আত্মার মধ্যে কেঁপে ওঠে সোনামুখী সুই।
আমার শরীর জ্বলে ওঠে শালকীর স্বচ্ছ জলে।নদীর অনাব্য তীরের মাটিতে কিংবা
ঝর্ণাপাথরের পথে ছিল না তোমার পদচিহ্ন।তবে আমি হেঁটে যাব কোন পথ ধরে?
তোমার অমৃত চোখ একদিন যতটা কাঙ্খিত ছিল,আজ আর ততটুকু প্রিয় নেই।
তোমার করোটি ঢেকে রেখেছে দেহজ পোকা---অনন্ত খামারে বিস্মৃতির ডিমে ভরে আছে।
সমস্ত পাহাড়,সব নদী,সব ঝর্ণা স্থির হয়ে শুয়ে আছে জল,বাতাসবিহীন।
সৈকত পাখির ঝাঁকে কালো অথচ আমার আকাশের কোণ খালি করে গেছে কাকাতুয়া।

এইসব দেখে উপহারজাত বীজ ফেলে আমি পা বাড়াব কবিতার দিকে
প্রেমিকার মতো জড়িয়ে থাকব কবিতার সুমন্ত শরীর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন