Powered By Blogger

বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৪

পিঁপড়ে অধ্যুষিত সভ্যতা

খোলা প্রান্তরেই কাল ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।সবুজ,সুন্দর রথে শুধুই পথের কথা
ভাবতে ভাবতে আনমনা দেখতে পেলাম মৃত মহিষ,ক্ষুধার্ত মানুষ ছুটছে ওই,
মৃতের স্ফটিকমাংস লেগে আছে শকুনের ঠোঁটে,ধানক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ছে রক্ত,শিরা
শস্যের সবুজে কদাকার বীভৎসতা।রথের চাকায় এসে বিধঁছে পাথর,নুড়ি।
পেছনে শহর ফেলে এসেছি,সমস্ত সম্ভাবনা,পৌরপিতার দুর্নীতি,বিমানবন্দর,--
ইচ্ছে হলেই অন্য কোন আকাশে ওড়ার সাধ............।

সামনে ঘাসের বন।শুভ বুদ্ধিজাত গাছ মাথা ঊঁচু করে দাঁড়িয়েছে কিন্তু ওই গাছে
ঝুলছে মানুষ,তার নীচে ছেঁড়া চটি,করোটি ও কংকালের স্তুপ;সূর্যের উচ্চতা থেকে
ধারারক্ত,বসাকোষ---আমরা জেনেছি দূরত্ব,দ্বি-ঘাত সমীকরণের রাশিমালা
কিন্তু এসবের চেয়েও জরুরী সূর্য্যাস্তের পূর্বেই এ উপত্যকা পেরিয়ে যাওয়া,
বনের একটি চিতাবাঘ নজরে রাখছে সুদর্শন সাদা ঘোড়াটিই তার লক্ষ্য।

জল-জলাভূনি ছেড়ে রুঢ় অনুশাষণ,কাঁচের ভঙ্গুরতা,যাদুপট বাতাসে দুলছে,
সুখ ও দুঃখের কথা ভাবতে ভাবতে মনে পড়ে ক্ষিধের জগৎ-পশুহননের ইচ্ছে,--
আমূল বর্ষায় গেঁথে ফেলব হরিণ,কচি মোষ--পশু হত্যার ইচ্ছায় এখানে এসেছি?
ধর্মবক একপায়ে জলায় দাঁড়িয়ে-কে বেশী ক্ষুধার্ত?আমি না ঐ ধর্মবক?

বিপদসীমার উপরে প্রশ্নেরা,প্লাবনের মুখোমুখি গ্রাম-কে কাকে আশ্রয় দেবে,
কালোটাকা,রেশনের মোটাচাল,  বিপর্যস্ত অর্থনীতি,সমানুপাতিক বিরোধীতা?
জলনড়ানি বাতাস,মেঘলোকে আজ সুখী মানুষের বসবাস।

এ প্রান্তরে এত গুল্ম   ও উদ্ভিদ,পৌরাণিক ঝর্ণার সমস্ত জল উড়ছে বাতাসে
পূর্বাপর ফিরে যাব শহরে,পিঁপড়ে অধ্যুষিত মিথ্যে সভ্যতার স্বাক্ষী হতে?

বুনোফুল,পরজীবী লতা,ডাল থেকে ডালে--আমি তৃষ্ণাতুর চেয়ে থাকি।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন